বাংলাদেশি ৫৪ পাসপোর্ট (এমআরপি) নিয়ে ২৫ রোহিঙ্গা আটকের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করে চারদিনের রিমান্ডে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার ভোরে খিলক্ষেতের মধ্যপাড়া এলাকার কহিনুর ভিলা থেকে রোহিঙ্গাদের আটকের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এই মামলায় রোহিঙ্গা দম্পতি আইয়ুব ও আসমা আক্তার, ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া বাসিন্দা ওয়ালিদ হোসেন কাজল এবং দালাল মোশারফ হোসেন সিপনকে রিমান্ডে নিয়েছে। গ্রেফতারকৃত চারজনের মধ্যে দুইজন রোহিঙ্গা নাগরিক। বাকি ২৩ রোহিঙ্গা নাগরিককে গতকাল আদালতের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এই ২৩ রোহিঙ্গাকে টেকনাফ ও উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ফেরত পাঠানো হবে।
গতকাল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) মোখলেসুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা দম্পতি বাংলা ভাষা জানেন। তাদেরকে দিয়ে ২৩ রোহিঙ্গাকে বাংলা ভাষা শেখানো হচ্ছিল। বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অতিক্রম করার সময় যেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়-ওইসব ভাষা তাদের শেখানো হয়। আর এই রোহিঙ্গাদের দালাল হিসেবে কাজ করেছেন ইব্রাহিম খলিল। তার বাসা মালিবাগে। কিন্তু ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে ইব্রাহিমের মেয়ের স্বামী মোশারফ হোসেন সিপনকে গ্রেফতার করা হয়। সিপনও রোহিঙ্গাদের দালাল হিসাবে কাজ করেন। খিলক্ষেতের ওই বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন ওয়ালিদ হোসেন কাজল। তিনি ইতিপূর্বে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গাকে মালয়েশিয়ায় পাচার করেছেন বলে জানিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ৫৬টি পাসপোর্টের মধ্যে দুটি পাসপোর্ট একই নামে। তবে এই ৫৪টি পাসপোর্ট জাল বা সঠিক কিনা- সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গতকাল ২৩ জন রোহিঙ্গাকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হলে, তারা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জবানবন্দি দেন। পরে তাদেরকে কক্সবাজারে তাদের ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
পাসপোর্ট নিয়ে রোহিঙ্গারা পাড়ি জমাচ্ছে বিদেশে
উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্যাম্প প্রশাসনে শক্ত নজরদারির অভাবে উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে নারী, পুরুষ ও শিশু পালিয়ে যাচ্ছে। উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প থেকে দালালের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে পালাচ্ছে। কুতুপালং রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের চেয়ারম্যান রশিদ আহম্মদ জানান, তার ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বসবাস করছে দীর্ঘদিন থেকে। বিদেশে অবস্থানরত এসব প্রবাসী রোহিঙ্গার পাঠানো টাকার বিনিময়ে তারা দালালের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ও অতি গোপনীয়তা রক্ষা করে ক্যাম্প ত্যাগ করে।
