তেঁতুলিয়া-বুড়াগৌরাঙ্গ নদী গিলে খাচ্ছে দশমিনার মানচিত্র। নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে ফসলি জমি, বেড়িবাঁধসহ শত শত পরিবার হচ্ছে ভূমিহীন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভাঙ্গনরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা ও ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে খাস জমি বন্দোবস্ত না দেয়ায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন ভাঙ্গন কবলিত লোকজন। জানা যায়, নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে ইতিমধ্যে প্রায় ২৩ হাজার একর ফসলি জমি, ১১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ, সাইক্লোন সেল্টার, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ ৭ গ্রাম সম্পূর্ণ বিলুপ্তি হয়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পরিবার উদ্বাস্তুে পরিণত হয়েছে। ভাঙ্গনপ্রবণ দশমিনার চরবাঁশবাড়িয়ায় গড়ে ওঠা দেশের বৃহত্তম বীজ বর্ধন খামারের প্রায় সাড়ে ৪ একর জমি ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নে নদী ভাঙ্গনে ভোলাইশিং, বেলচর, কালীর চর, চঙ্গারচর, চরতৈলাক, চর ভুপেন্দ্র, পাতার চরসহ ৭টি গ্রাম একেবারে বিলীন হয়ে গেছে। বুড়াগৌরাঙ্গ ও তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে রনগোপালদী ইউনিয়নের চর ঘুনি, আউলিয়াপুর, দক্ষিণ রনগোপালদী, উত্তর রনগোপালদী, চর শাহজালাল, চর বোরহান, দশমিনা ইউনিয়নের হাজির হাট, গোলখালী, কাটাখালী, চর হাদী, কাউয়ার চর, সৈয়দ জাফর ও বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়ীয়া গ্রাম, চর বাঁশবাড়ীয়া, চরবুথাম, চর সাইমুন, ঢনঢনিয়া গ্রামসহ ১৭টি গ্রাম। ভুক্তভোগীরা জানান, তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর জেগে উঠা চরে অপরিকল্পিতভাবে বনায়ন করায় নদীর গতিপথ বাধাগ্রস্ত হয়ে উপজেলার মূল ভূখন্ডে আঘাত হানছে। ফলে প্রতি বর্ষা ও গ্রীষ্মের শুরুতে উপজেলার তীরবর্তী এলাকা ভেঙ্গে মূল ভুখন্ডের আয়তন হারাচ্ছে। অপরদিকে নতুন, নতুন চর জেগে উঠে দ্বীপচরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার রনগোপালদী ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ মোঃ জাকির হোসেন জানান, তার ইউনিয়ন উপজেলার মধ্যে আয়তনের দিক দিয়ে সর্ববৃহত্ হলেও ৩/১ অংশের অধিক নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গনে গৃহহারা পরিবারের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
