ইত্তেফাক রিপোর্ট
জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে দলকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি সারাদেশে সাংগঠনিক সফর শুরু করেছে। গতকাল শনিবার খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা চুয়াডাঙ্গায় সাংগঠনিক সফর এবং জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় অংশগ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ মিশনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক জেলায় সাংগঠনিক সফর ও বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। আর বর্ধিত সভায় তৃণমূল সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। জাতীয় সম্মেলনের আগে তৃণমূলের সব শাখায় সম্মেলন সম্পন্ন করার টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। তৃণমূল সফরের জন্য আট বিভাগের জন্য আটটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, প্রেসিডিয়াম সদস্যরা এসব টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন। বিভাগীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা এসব সফরের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা গেছে, আগামীকাল সোমবার যশোর এবং নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা, ১৪ মে সাতক্ষীরা জেলা, ১৮ মে খুলনা মহানগর, ১৯ মে খুলনা জেলা, ২০ মে বাগেরহাট জেলা এবং ২১ মে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশগ্রহণ করবেন। খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিমের সদস্যরা হলেন- আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, এস এম কামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম মিলন ও পারভীন জামান কল্পনা।
গত ১৯ এপ্রিল আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথ সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তৃণমূলে অনেক কোন্দল ও গ্রুপিং আছে। যে কারণে উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হেরে গেছে অনেক জায়গায়। অতীতে আওয়ামী লীগ যখনই বিপদে পড়েছে এ তৃণমূলই কিন্তু দলকে রক্ষা করেছে। সেই কারণে যত দ্বন্দ্ব, সংঘাত বা গ্রুপিং থাকুক না কেন সবকিছু মিটিয়ে ফেলে আওয়ামী লীগকে তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আওয়ামী লীগের আসন্ন জাতীয় সম্মেলন, মুজিব বর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের আগেই তৃণমূল আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তার নির্দেশনা অনুযায়ীই সাংগঠনিক সফর শুরু হয়েছে।
