গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুর জেলা শহরের মুক্তমঞ্চ এলাকায় গাড়ি থেকে নামিয়ে দুই ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়েছে প্রতিপক্ষ। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ডিস লাইনের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার রাতে মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি ও কাজী আজিম উদ্দীন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান নাহিদসহ দুই জনকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় গতকাল শনিবার বিকালে সদর থানায় মামলা হয়েছে। ছাত্রলীগ নেতা নাহিদের পিতা অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম মোড়ল বাদি হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুদ রানা এরশাদকে প্রধান আসামি এবং তার বড় ভাই সাবেক পৌর আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ূব রানা ও মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেনসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়।
বাদি এজাহারে উল্লেখ করেন- তার ছেলে নাহিদকে খুন করার উদ্দেশ্যে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের মুক্তমঞ্চের কাছে ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ রানা এরশাদ ও তার সহযোগী টাইগার বাবু পিস্তল দিয়ে ৪-৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। এতে জয়দেবপুর বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় মামলার অপর আসামিরা নাহিদকে তার গাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে চাপাতি দিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। হামলাকারীরা নাহিদের সহযোগী রয়েলকেও কুপিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুদ রানা এরশাদ বলেন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য নাহিদকে এক বছর পূর্বে তার কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এলাকায় ডিস লাইনের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন নাহিদকে কুপিয়েছে বলে শুনেছি।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সমীর চন্দ্র সূত্রধর জানান, ছাত্রলীগ নেতা নাহিদসহ দুইজনকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় নাহিদের পিতা বাদি হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে শনিবার সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
