ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হলো স্পেন

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৩, ২০:৩৫
আগামীকাল রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত চারটায় অনুষ্ঠেয় খেলাটিতে জয় পেলে এটি হবে মহাদেশীয় এই প্রতিযোগিতায় ব্রাজিলীয়দের টানা তৃতীয় শিরোপা। একই রাতে ইতালি ও উরুগুয়ে খেলবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। লিওনার্দো বোনোচ্চির শট নিতে আসার আগ পর্যন্ত স্পেন ও ইটালির খেলাটি ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে এগিয়ে চলা। কনফেডারেশন কাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ১২০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর গত বৃহস্পতিবার রাতে খেলাটি টাইব্রেকে গড়ালে তাতেও দু’দলের ছয়টি করে শট ছিল নির্ভুল এবং দর্শনীয়। কিন্তু ইটালি ডিফেন্ডার বোনোচ্চির শটটি উড়ে গেলে বদলি খেলোয়াড় জেসাস নাভাস স্পেনকে টাইব্রেকারে ৭-৬ গোলের জয় এনে দিলে বিশ্ব ও ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা আরো একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছে যায়। ব্রাজিল এর আগে অপর সেমিফাইনালে উরুগুয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে কনফেডারেশন কাপের ইতিহাসে পঞ্চম ফাইনাল নিশ্চিত করে। আগামীকাল রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত চারটায় অনুষ্ঠেয় খেলাটিতে জয় পেলে এটি হবে মহাদেশীয় এই প্রতিযোগিতায় ব্রাজিলীয়দের টানা তৃতীয় শিরোপা। একই রাতে ইতালি ও উরুগুয়ে খেলবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। স্পানিশ অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াস মনে করেন ফুটবলামোদীরা রিও ডি জেনিরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে কনফেডারেশন কাপের ফাইনালে স্পেন ও ব্রাজিলকেই দেখতে চেয়েছিল। স্পেন অধিনায়ক বলেন,‘আমি মনে করি যে দু’টি দল ফাইনালে খেলার যোগ্যতা রাখে শেষ পর্যন্ত তারাই খেলছে।’ বিশেষ করে যখন দল দু’টির একটি বিশ্বকাপধারী ও অপরটি পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন; এছাড়াও একটি হলো দুইবারের ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়ন অপরটি স্বাগতিক। স্পেনের আছে জাদুকরী পাস নির্ভর ফুটবল, ব্রাজিলের নতুন তারকা নেইমার। প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে অনুষ্ঠিত খেলাটিতে ইতালিয়ানরা ভাল খেললেও শেষ হাসি হাসে স্পেন। বোনোচ্চির শটটি হয়তো চাপের মুখে ভেঙ্গে পড়া কিংবা ইতালিয়দের পেনাল্টি দুর্ভাগ্যের ইতিহাসে নবতর সংযোজন। সে তুলনায় সম্প্রতি ম্যানচেষ্টার সিটিতে যোগ দেয়া মিডফিল্ডার নাভাস মাথা ঠান্ডা রেখেই অভিজ্ঞ জিয়ানলুইজি বুফনকে পরাস্ত করে দু’দলের লড়াইয়ের সমাপ্তি টানেন। এর আগে ইতালির ইমানুয়েল জিয়াচ্ছেরিনির ৯৩ মিনিটের শটটি পোস্টে লাগে এবং বুফন স্পেনের জাভি হার্নান্দেজের গোলপানের শটটি তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে সক্ষম হন। অতিরিক্ত সময়ে এ দুটিই ছিল গোলের সেরা সুযোগ। এরপরই আসে বোনোচ্চির ব্যর্থতার আগ পর্যন্ত দু’দলের ১২টি দুর্দান্ত পেনাল্টি শট। স্পেন কোচ ভিচেন্তে ডেল বস্ক ‘পেনাল্টি শুটআউটে আমরা ছিল ভাগ্যবান’ বললেও স্বীকার করেন,‘এটা ছিল আমাদের জন্য কঠিন ম্যাচ। তাছাড়া উভয় দলের জন্য এটা ছিল অসাধারণ দলগত প্রয়াস। আবহাওয়াগত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও এটা ছিল পরিষ্কার ও খেলোয়াড়ী মনোভাবে পরিপূর্ণ একটি খেলা।’ ইংলিশ রেফারি হাওয়ার্ড ওয়েবের পরিচালনায় খেলাটিতে দু’দলের গোলরক্ষকও ছিলেন এমন দু’জন, যাদের মনে করা হয় এক দশক ধরে বিশ্বের সেরা। একদিকে ৩৫ বছর বয়সী বুফন অপরদিকে ৩২ বছরের ক্যাসিয়াস। উভয়েই পেনাল্টি শুরুর আগে একে অপরের সাথে করমর্দনের পর পরস্পর আলিঙ্গন করেন। ইতালি আগে শট নেয় এবং আন্তোনিয় ক্যানড্রেভা, আলবার্তো অ্যাকুইলানি, ড্যানিয়েল ডি রোসি, সেবাস্তিয়ান জিওভিনকো, আন্দ্রে পিরলো ও রিকার্ডো মোন্তোলিভো বল জালে পাঠান। স্পেনের হয়ে শট নেন জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জেরার্ড পিকে, সের্জিও র্যামোস, হুয়ান মাতা ও সের্জিও বাসকোয়েটস। এরপরই বোনোচ্চি ব্যর্থ হলে বুফন পোস্টের নিচে নিজের ডানে ঝাঁপান এবং নাভাসের শটটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য খুঁজে নেয়। ইতালি এর আগে গত বছর ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ৪-০ গোলে হারে স্পেনের কাছে। এর আগের ২০০৮ সালের ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে নির্ধারিত সময়ে খেলা গোলশূন্য থাকলে আজ্জুরিদের পেনাল্টিতে ৪-২ গোলে হারায়। এই বিবেচনায় আরো একবার পেনাল্টি দুর্ভাগ্য ভোগালো ইতালিয়দের। ইনজুরিতে পড়ার কারণে ইতালি এদিন স্ট্রাইকার মারিও বালোতেল্লিকে খেলাতে পারেনি। সেসক ফেবরেগাস ও রবার্তো সোলদাদোকে নিয়েও এক সমস্যা ছিল স্পেনের। ইতালি প্রথমার্ধে আধিপত্য বিস্তার করে খেলে। অপরদিকে স্পেন নাভাস ও মাতাকে নামিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন দেল বস্ক। এদিকে খেলাটি শুরুর আগে হাজার পাঁচেক সরকারি বিরোধী বিক্ষোভকারী পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তবে সেটা ছিল স্টেডিয়াম থেকে এক মাইল দূরের ঘটনা। আগামী বছরের বিশ্বকাপ ফুটবল এবং ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকের অবকাঠামো নির্মাণে বাড়তি ব্যয়, দুর্নীতি ইত্যাদির কারণে ব্রাজিলে ১৭ জুন থেকে দেশজুড়ে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ চলছে। ধারণা করা হয় রবিবারের ফাইনালের আগেও বিক্ষোভকারীদের দেখা মিলবে।