রমজান শুরুর আগেই বেসামাল চট্টগ্রামের নিত্যপণ্যের বাজার

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৩, ২২:৪৪
রমজানের আরও ১০-১১ দিন বাকি থাকলেও চট্টগ্রামে মাছ, মাংস, চাল, ডাল, তরি-তরকারিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দামই বাড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে ইলিশ মাছ ও সয়াবিন তেল ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দামই কেজি প্রতি ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ডাল ও ছোলার দাম স্থিতিশীল রয়েছে। প্রায় সব ধরনের চালের দাম খুচরা বাজারে কেজিতে ৫ টাকা থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাইকারি বাজারে মিনিকেট চালের দাম ৩৪ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৯ টাকা। এছাড়া নাজিরশাইল ৪০ থেকে ৪৪ টাকা, বিআর-২৮ ৩১ থেকে ৩৬ টাকা, পাইজাম ৩৩ থেকে ৩৮ টাকা এবং মোটা চাল ২৯ থেকে ৩৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে মিনিকেট চালের দাম মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে ৪২ টাকা থেকে ৪৬ টাকা হয়েছে। একইভাবে নাজিরশাইল ৪৪ টাকা থেকে বেড়ে ৫১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাড়সহ গরুর মাংসের দাম কেজি প্রতি ২৭০ থেকে বেড়ে ২৮৫ টাকা, হাড়ছাড়া গরুর মাংসের দাম ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, খাসি ৪৫০ থেকে ৪৬০ টাকা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পোল্ট্রি মুরগি ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও শুক্রবার একদিনের ব্যবধানে তা এক লাফে ১৭০ টাকা হয়েছে। মুরগির ডিমের দাম প্রতি হালিতে বেড়েছে ৬ টাকা। ইলিশ ছাড়া সব ধরনের মাছের দামই বেড়েছে কেজি প্রতি ১০ থেকে ১২ টাকা। ১২০ টাকার পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ২২০ টাকা কেজির রুই মাছ বেড়ে হয়েছে ২৫০ টাকা। তবে ইলিশের দাম প্রতি কেজি ১২শ’ টাকা থেকে কমে ৯শ’ টাকা হয়েছে। বাজারে ছোলা ও ডালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। চিনির দাম বস্তা প্রতি ১০০ টাকা বেড়েছে। কাঁচা বাজারে সবজির দামও বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা। টমেটো ৪০ টাকা থেকে ৫৫ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৩২ টাকা থেকে ৪২ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা থেকে ৪৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ১ টাকা কমেছে। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা প্রাকৃতিক দুর্যোগকে দায়ী করলেও ক্রেতারা এ অজুহাত মানতে নারাজ। তারা বলছেন, বিগত বছরগুলোর মতো এবারও অসাধু ব্যবসায়ীরা রমজান মাসকে সামনে রেখে মজুদদারি শুরু করায় বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। চট্টগ্রাম চেম্বারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন রমজানে দ্রব্যমূল্য বাড়বে না বলে জনগণকে আশ্বস্ত করলেও রোজা শুরুর আগেই বাজার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তাই রমজান আসার আগেই সাধারণ মানুষ চোখে সরষে ফুল দেখতে শুরু করেছেন। তারা বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ী সংগঠন, পুলিশ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ সব মহলের সক্রিয় উদ্যোগ কামনা করেছেন।