জীববিজ্ঞান প্রথমপত্র
অলোক কুমার মিস্ত্রী
বন্যপ্রাণী গবেষক (প্রভাষক)
জীববিজ্ঞান বিভাগ
বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ আমি তোমাদের জীববিজ্ঞান প্রথমপত্রের পরিচ্ছেদঃ ৫ Kingdom- Fungi (ছত্রাক) - বিষয়ের ওপর সৃজনশীল প্রশ্নোওর উপস্থাপন করব, যা ফাইনাল ২০১৪ সালের (সকল বোর্ড) পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ঃ নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং এর আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাওঃ
গীতা গ্রীষ্মের ছুটিতে মা-বাবার সাথে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেল। সে রাস্তার পাশে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে ছাতার মতো সদৃশ কিছু Plants দেখতে পেল। গীতা তার বাবার কাছে এর নাম জানতে চায়। তার বাবা বলেন এটি ব্যাঙের ছাতা। কিছুক্ষণ পর সে আবার মুদি দোকানে মশলা কিনতে যায়। সেখানে একটি প্যাকেটে ঝোলানো দেখে কৌতুহল হলে সে দোকানদারকে পুনরায় জিজ্ঞেস করে, এটি কিসের প্যাকেট ? দোকানদার বলল এ হলো মাশরুম, এটি সুস্বাদু সবজি।
(ক) ছত্রাক কী ?
(খ) বিষাক্ত মাশরুম চেনার উপায় কী ?
(গ) উদ্দীপকের গীতার দেখা উদ্ভিদটির চিহ্নিত চিত্র অংকন কর।
(ঘ) উদ্দীপকের সবজিটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পুষ্টি উপাদান দিলেও এর বেশ কিছূ প্রজাতি মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীকূলের মৃত্যুর কারণ হতে পারে-ব্যাখ্যা কর।
ছত্রাক (Fungi) ঃ বিখ্যাত ছত্রাকবিদ C.J. Alexopoulos এর মতে -“ নিউক্লিয়াসযুক্ত, স্পোরধারণকারী, ক্লোরোফিলবিহীন জীবগোষ্ঠীকে অর্থাত্ যারা অযৌন (Asexual) ও যৌন (Sexual) প্রক্রিয়ায় বংশ বৃদ্ধি করতে সক্ষম এবং যাদের শাখান্বিত সূত্রাকৃতির গঠনসমূহ হেমিসেলুলেজ বা কাইটিন বা উভয় প্রকার পদার্থযুক্ত কোষ প্রাচীর দিয়ে পরিবেষ্টিত এরূপ জীবগোষ্ঠীকেই ছত্রাক (Fungi) বলে।
বিষাক্ত মাশরুম চেনার উপায় ঃ
১। বেশিরভাগ উজ্জ্বল বর্ণের প্রজাতিগুলো বিষাক্ত হয়ে থাকে।
২। অম্ল (এসিড) গন্ধযুক্ত ও ঝাঁঝালো প্রজাতিগুলো বিষাক্ত।
৩। বিষাক্ত মাশরুম কখনো প্রখর রোদেলা জায়গায় জন্মে না।
৪। বিষাক্ত প্রজাতিগুলোর ব্যাসিডিওস্পোর বেগুনি রঙের হয়ে থাকে।
“মাশরুম সবজিটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পুষ্টি উপাদান দিলেও এর বেশ কিছূ প্রজাতি মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীকূলের মৃত্যুর কারণ হতে পারে ”- উক্তিটির বিশ্লেষণঃ
দৈনন্দিন জীবনে মাশরুম সবজিটি আমাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি দিলেও আবার এর বিপরীত চিত্রও লক্ষ্য করা যায়। অর্থাত্ Agaricus এর এমন সব প্রজাতি আছে যেগুলো মানুষ সবজি হিসেবে গ্রহণ করলে মানুষকে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এমন কি মৃত্যুও পর্যন্ত হতে পারে। এখানে উল্লেখ্য যে Agaricus এর দুটি প্রজাতি মানুষের খাদ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত। এ প্রজাতিগুলোকে মানুষ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে, তাদের কোন প্রকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় না। বাংলাদেশে Valvariella ও Pleurotus- Genusভুক্ত কয়েকটি মাশরুম চাষাবাদ হচ্ছে। তবে পুষ্টির দিক দিয়ে Agaricus campestris এবং Agaricus bisporus মাশরুম দুটি অত্যন্ত উঁচু মানের সবজি। এটি খেতে সুস্বাদুও বটে। এতে টাটকা অবস্থায় নানা ধরনের ভিটামিন পাওয়া যায়। মাশরুমে সাধারণতঃ Vitamin-C,D,K থায়ামিন, নিয়ামিন এবং প্যান্টোথেনিক এসিড এর উপস্থিতি রয়েছে। অপরদিকে Agaricus এর মধ্যে যেগুলো কাঠের উপর জন্মে যেমন- Agaricus Xanthodermus তারা খুবই বিষাক্ত প্রকৃতির। এ প্রজাতিগুলো মানুষ সহজে চিহ্নিত করতে না পেরে, তারা এগুলোকে সুস্বাদু সবজি ভেবে খেয়ে থাকে। আর এরই বিষক্রিয়ায় মানুষসহ অন্য প্রাণীকূল মৃত্যু বরণ করে । এ কারণে এসব বিষাক্ত প্রজাতির মাশরুম মানুষ ও অন্য প্রাণীকূলের মর্মান্তিক মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
