‘বিদায়’ বলছেন আকরাম খান!

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৩, ২২:১৭
আজ কাগজে-কলমে শেষ হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় দলে প্রধান নির্বাচক আকরাম খানের অধ্যায়। এই ‘কাগজে-কলমে’ শেষ হয়ে যাওয়াটাকে আক্ষরিক অর্থেই আপাতত নিজের এই অধ্যায়ের শেষ বানিয়ে ফেলতে চাচ্ছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান। কাল পরিষ্কার বলে দিলেন, আপাতত নির্বাচক কমিটির হয়ে কাজ করার ইচ্ছে তার নেই। ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকতে চান; তবে এবার সংগঠক হিসেবে ময়দানে নামার ইচ্ছে সাবেক এই মারকুটে ব্যাটসম্যানের, ‘আমি আমার এই ছয় বছরের নির্বাচক ভূমিকা খুবই উপভোগ করেছি। সবাইকেই ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে আপাতত এই কাজটা আর চালিয়ে যেতে চাচ্ছি না। অনেকেই আমাকে বোর্ড পরিচালক হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন। আমিও সংগঠক হিসেবে কাজ করতে চাই। সে জন্যই বোর্ড সভাপতির সঙ্গে আলাপ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’ আকরাম খান এবং বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সমার্থক ব্যাপার হয়ে আছে। তার অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ ১৯৯৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতে বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছিল। পরে দেশের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ, প্রথম টেস্টে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর ২০০৭ সালে বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক ক্রান্তিলগ্নে নির্বাচক কমিটিতে প্রবেশ করেন এই ‘বিগ ম্যান’। ফারুক আহমেদের নির্বাচক কমিটিতে অল্প কিছুদিন কাটানোর পর প্রায় চার বছর নির্বাচক হিসেবে ছিলেন রফিকুল ইসলামের কমিটিতে। এরপর ২০১১ সালে তাকেই প্রধান করে আরও দুই সাবেক গ্রেট মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশারকে নিয়ে গঠিত হয় নির্বাচক কমিটি। দীর্ঘ এই সফরে বাংলাদেশ দলকে আইসিএল বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে একটি লড়াকু ওয়ানডে দলে পরিণত করে তুলেছে এই নির্বাচক কমিটি। তাই নিজের এই সময়টা খুবই উপভোগ করেছেন বলেই বলছেন আকরাম খান, ‘আমি খুব খুশি। হয়তো যা করার কথা ছিল, সব করা সম্ভব হয়নি। তবে এই সময়ের সংগ্রাম, উত্তেজনা খুব উপভোগ করেছি। এর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের। খেলোয়াড়রা যতো সফল হয়, নির্বাচক বা অন্য কর্মকর্তারা ততো ভালো সময় কাটাতে পারেন। আমি খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ দেই আমাকে এরকম একটা সময় উপহার দেয়ার জন্য।’ তবে কিছু আক্ষেপ, কিছু অপ্রাপ্তিও আছে আকরাম খানের। সবচেয়ে বড় আফসোসটা রয়ে গেল তার খুব শক্ত একটা পাইপলাইন জাতীয় দলের জন্য রেখে যেতে না পারায়, ‘আমি প্রধান নির্বাচক হিসেবে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে দুটো প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। প্রথমত দলটাকে একটা স্থিতিশীল অবস্থায় আনবো, দুই পাইপলাইন শক্ত করবো। যদিও আমাদের দলটা তরুণ। কিন্তু গত দু’ বছরে একটু হলেও আমরা স্থিতিশীলতা আনতে পেরেছি। কিন্তু নানা জটিলতায় আমরা পাইপলাইনটা সেরকম গড়ে তুলতে পারিনি। সেসব জটিলতার কথা পরে না হয় বলবো।’ জটিলতা বা ছোটখাটো অপ্রাপ্তি যা থাক, আকরাম খান এই প্রধান নির্বাচক ভূমিকার জন্য একটা ধন্যবাদ অবশ্যই পেতে পারেন।