জাতীয় পার্টির (এ) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেছেন, ‘সিঙ্গাপুরে আমি গিয়েছিলাম চিকিত্সার জন্য। সমালোচনা হলো যে, আমি নাকি ষড়যন্ত্র করছি। বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে যদি দেখা করেও থাকি, তাহলে অন্যায় কী করেছি? আমিও রাজনীতি করি, উনিও রাজনীতি করেন। উনি আমার শক্রু নন।’ গতকাল বনানী মাঠে জাতীয় পার্টির বৃহত্তর ঢাকা জেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মী সমাবেশে এরশাদ একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা আর মহাজোটে থাকতে চাই না। কর্মীরাও কেউ থাকতে চায় না। আমরা এককভাবে নির্বাচন করব। সময়মতো বেরিয়ে আসব।’ তিনি বলেন, গত সাড়ে চার বছরে সরকার জাতীয় পার্টির প্রতি অবিচার করেছে। এখন তারা জাতীয় পার্টির কথা মনে করছে। এত দিন জাতীয় পার্টিকে তাদের স্মরণে ছিল না। এ সময় ডাকলে তো আর সাড়া পাবেন না।
এরশাদ দুই নেত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘রাজনীতিতে এই অপসংস্কৃতিকে সৃষ্টি করল? আপনারাই রাজনীতিতে এ সংস্কৃতি সৃষ্টি করেছেন।’ সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকতে ভয় পান কেন? তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলে জেলে যাবেন, এ কথা বলছেন কেন? এর কারণ, ক্ষমতা ছাড়ার পরে বাড়িতে আগুন লাগবে, গুলি খেতে হবে, মরতে হবে।’ এরশাদ দুই নেত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘রাজনীতিতে এটাও আপনারা সৃষ্টি করেছেন।’
এরশাদ বলেন, দেশি বিদেশি পত্রপত্রিকায় দেখা গেছে সরকারের জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ছাত্রলীগ, টেন্ডার লীগ, সরকারের অপশাসন, ড. ইউনূসকে হেনস্তা করা, জাতীয় পার্টিকে অবহেলা করা, পদ্মা সেতু, হলমার্ক, শেয়ারবাজারের কেলেঙ্কারি, শাহবাগ চত্বর সৃষ্টি, হেফাজতের ওপর হামলা ইত্যাদি।
ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম ফয়সাল চিশতির সভাপতিত্বে সমাবেশে দলের সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্য রওশন এরশাদ, মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি কাজী ফিরোজ রশিদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
জাপা থেকে বহিষ্কারঃ কুষ্টিয়া জেলা জাপার সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন বানাতকে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। দলের শৃঙ্খলা বিরোধী কাজ করার অভিযোগে এরশাদ গতকাল তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেন।
