কাতারের আমীর সম্প্রতি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার পরও ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে সচরাচর এ ধরনের ঘটনা দেখা যায় না। তার জায়গায় ক্ষমতায় বসেছেন ৩৩ বছরের যুবরাজ শেখ তামিম আল থানি। তিনি এখন মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে কম বয়সী শাসক। এবার কাতার সম্পর্কে একটু আলোচনায় আসি। প্রায় ১০ বছর আগে বিবিসির রিপোর্টার ফ্রাংক গার্ডনার কাতারের প্রধানমন্ত্রীর একটি সাক্ষাত্কার নিয়েছিলেন, তার প্রথম প্রশ্ন ছিল এর কম— আপনি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পরিকল্পনা বাতিল করে দিয়েছেন অথচ আপনার দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি, এটি কি করে সম্ভব? একটু হেসে তিনি জবাব দিয়েছিলেন ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের কিন্তু তার চাবি আমাদের হাতে। বিশ বছরে উপসাগেরর এই দেশটির যে পরিবর্তন হয়েছে তা কল্পনা করা যায় না। যেখানে মরুভূমি ছাড়া কিছুই ছিলনা সেখানে আজ গগনচুম্বী অত্যাধুনিক অট্টালিকা।
উপকূলের বিলাশ গ্যাস ভান্ডার ব্যবহার করে পিছিয়ে পড়া কাতার এখন উপসারের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ। ধনী এই দেশটির অনেক কিছু্ই বেখাপ্যা মনে হবে দ্বিধায় ফেলবে আপনাকে। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে অনেক কিছু পাওয়া যাবে যা স্ব-বিরোধিতায় পূর্ণ বলে মনে হবে। কাতার-তালেবানকে শান্তি আলোচনার জন্য অফিস খোলার অনুমতি দিয়েছে যা আফগান সরকারকে দ্বিধা দ্বন্দ্বে ফেলে দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি দ্বিধার সৃষ্টি হয়েছে তালেবানের পতাকা ওড়ানো নিয়ে। প্রথমে বহুদূর থেকে পতাকাটি দেখা যেত পরে নিচু করে পতাকা টাঙ্গানো হয়।
সবশেষে আফগান সরকারের তীব্র আপত্তির মুখে কাতার সরকার তালেবানকে পতাকা নামিয়ে ফেলতে বলে। দীর্ঘদিন পরে কাতারে তালেবানের যে প্রতিনিধিরা বাস করছেন তারা মনে হচ্ছে দেশটির চাকচিক্যপূর্ণ লাইফস্টাইলের সাথে বেশ মানিযে নিয়েছেন। দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল বিমানঘাঁটি আল উদায়িদের মাত্র ১ ঘন্টার দূরত্বে তালেবানের অফিস। ঘাঁটিটিতে দর্শনার্থীরা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। ধরা যাক হেলমান্দে মার্কিন সেনাদের বিমান বাহিনীর সহযোগিতা লাগবে তখন কাতারের এই বিমান ঘাঁটি থেকে সেই অভিযানের সমন্বয় করা হবে। এবার আসা যাক ইসরাইল প্রসঙ্গে। এটা অনেকেই জানত না যে ২০০৯ সাল পর্যন্ত কাতারে ইসরাইলের বাণিজ্যিক কার্যালয় ছিল অথচ কাতার ইসরাইলের সামালোকদের একটি কেন্দ্র। কাতার মুসলিম ব্রাদার হুডকে সহযোগিতা করে আসছে।
কাতারে মদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আছে আবার সেখানে কিছু বড় পানশালা আছে। যাদের মজুদ অনেক বড়। লিবিয়া ও সিরিয়ার বিদ্রোহীদের প্রথম দিক থেকেই সাহায্য দেয়া শুরু করে কাতার। তাই ধনী এই ছোট দেশটিকে প্রতিবেশি দেশগুলো ভয়ের চোখেই দেখছে বলা যায়।
