পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের আগেও দুর্নীতি হয়নি ভবিষ্যতেও হবে না

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৩, ২২:০৫
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগের বিষয়ে গঠিত বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনের জবাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এই জবাবে তিনি আবারো পদ্মা প্রকল্পে কোন প্রকার দুর্নীতি হয়নি বলে দাবি জানিয়েছেন। গত শনিবার জাতীয় সংসদে তিনি বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের জবাবে দেয়া বাংলাদেশের চিঠিটি প্রকাশ করেন। চিঠি উদ্ধৃতি করে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের আগেও কোন দুর্নীতি হয়নি এবং ভবিষ্যতেও কোন দুর্নীতি হবে না এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত। বিশ্বব্যাংককে ধন্যবাদ যে, তারা যথাসময়ে এই ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে আমাদের সাবধান করে দিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি যে, আমাদের জনগণ এই সেতু নির্মাণের জন্য এগিয়ে আসবেন। অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশন এক সময়ের যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে তাদের এফআইআর-এ আসামি হিসেবে চিহ্নিত করতে আপত্তি করে। কারণ তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি আনা হয় তার সমর্থনে কোন সাক্ষ্য প্রমাণ তখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাই তারা জানিয়ে দেয় যে, যথাযোগ্য প্রমাণ পেলে এমপি সৈয়দ আবুল হোসেন এবং প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী সম্বন্ধে নালিশ করা হবে। এই বিষয়টি বিশ্বব্যাংক তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ঠিকমত উল্লেখ করা হয়নি। বিশ্বব্যাংক গত বছর ২৯ জুন পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাত্ক্ষণিকভাবে আমার মনে হয়েছে, সিদ্ধান্তটি ভুল, অপ্রয়োজনীয়, অযাচিত এবং অত্যাধিক তাড়াহুড়া করে নেয়া। বিশ্বব্যাংকের এই বাতিলের সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেইনি এবং আমি বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রেসিডেন্টের কাছে বিষয়টি পুনঃবিবেচনার জন্য অনুরোধ করি। আমরা দুষ্ট ঠিকাদারকে তখনই কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেই। আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশন এই বিষয়ে এখনো তাদের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই তদন্ত যে কবে শেষ হবে তা বলা যাচ্ছে না। কারণ, কানাডায় যারা অভিযোগ দায়ের করেছেন তাদের যতদিন মামলা চলবে ততদিন আমরা কোন সাক্ষ্য পাব না। আমার মনে হয় কানাডায় তদন্ত শেষ হতে আরো কয়েক বছর লাগবে।