তারপরও সফল কনফেডারেশন্স কাপ

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৩, ২২:২২
দৃশ্যত গেল ছয় বছর ধরে ফুটবল বিশ্বকে কর্তৃত্ব করা স্পেনের বিরুদ্ধে ব্রাজিল যদি গত রাতে নাও জিতে থাকে, তাহলেও পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা আরেকটি আসরের স্বাগতিক হওয়ার প্রাক্কালে শুধু আয়োজনের বিচারেই উতরে গেছে। খোদ ফুটবলের বিশ্ব প্রধান সেপ ব্ল্যাটার তো এরই মধ্যে বলে দিয়েছেন, এ যাবতকালের সেরা কনফেডারেশন কাপ। বিশেষ করে মাঠের খেলায় এবং গোল নৈপুণ্যে। ব্রাজিল আগামী বছরের বিশ্বকাপ আয়োজনের আগেই এ টুর্নামেন্টটির সুবাদে জানিয়ে দিল, ক্রীড়া বিশ্বের সেরা এ আসরটির জন্য তারা কতটা প্রস্তুত। এমনকি রাস্তায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেও দলে দলে কাতারে কাতারে ফুটবল প্রেমীরা হাজির হয়েছেন কনফেডারেশন কাপের ভেন্যুগুলোয়। এটা কেবল ব্রাজিল বলেই হয়তো সম্ভব। কারণ ফুটবল তাদের রক্ত মাংস এমনকি অস্থিমজ্জায়। সেজনই এক জনমত জরিপে দেখা গেছে ব্রাজিলের ৭১ ভাগ মানুষ ২০১৪ বিশ্বকাপ আয়োজন সমর্থন করে। ব্রাজিল এখন হয়তো আর ফুটবল সৌন্দর্যের ধারক ‘জোগো বনিতা’র চর্চাকারী নয়। তারপরও দেশটি ফুটবলের কল্যাণেই আবারও আলোচনায়। তাছাড়া ২০১৪ সালে দক্ষিণ আমেরিকার এ দেশটিতেই অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ ফুটবল। এর দুবছর পর ব্রাজিলেরই এক বিখ্যাত শহর রিও ডি জেনিরোতে বসবে অলিম্পিক আসর। এ কারণেই দীর্ঘ এক ক্রীড়া যাত্রার প্রথম পর্বটা ভাল ভাবেই উের গেল আয়োজকরা। অনেক প্রতিকূলতার পরও সফল ফিফা কনফেডারেশন্স কাপের সফল আয়োজনের সুবাদে। যদিও জনরোষের কারণে বিপাকে পড়ে গিয়েছিল ব্রাজিলের ফুটবল। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ানো, বেকার সমস্যা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে কনফেডারেশন কাপের শুরু থেকেই রাস্তায় নেমে আসেন লাখো লাখো ব্রাজিলীয়। ১৮ টি শহরে এক যোগে চলে প্রতিবাদ। আন্দোলনরতদের কয়েকজনকে প্রাণও দিতে হয়। টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া দলগুলোও ঝামেলাহীন ছিল না। স্বাগতিকদের বিব্রত করে স্পেন দলের হোটেল রুমে ডাকাতির ঘটনায় রীতিমত পুলিশ ডাকতে হয়েছিল। উটকো ঝামেলা হিসেবে ছিনতাইয়ের স্বীকার হন গোলরক্ষক জুলিও সিজারের স্ত্রী। সব মিলিয়ে আয়োজকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ তো ছিলই, ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফাও পড়ে যায় চাপে। কনফেডারেশন্স কাপ মাঝপথে এসে বন্ধ হয়ে যেতে পারে এমন গুঞ্জনও ছিল। তবে শঙ্কা কাটালো সমর্থকরাই। একদিকে যেমন রাজপথে চলছে আন্দোলন- বিক্ষোভ, স্টেডিয়ামগুলোতেও ছিল উপচানো দর্শক। এতকিছুর পরও কেন সফল ব্রাজিল? ফিফা জানিয়েছে, দুটি সেমিফাইনালে টিভি দর্শকদের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে আগের যেকোন আন্তর্জাতিক ম্যাচকে। ২৬ জুন ব্রাজিল আর উরুগুয়ের মধ্যকার প্রথম সেমিফাইনালটি টেলিভিশন সেটের সামনে বসে খেলা দেখে প্রায় পাঁচ কোটি ৩৫ লাখ দর্শক। আর এর পরদিন ২৭ জুন স্পেন ও ইতালি সেমিফাইনালে টিভি দর্শকের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ২০১২ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালকে। টিভি সেটের সামনে যে পরিমাণ দর্শক ম্যাচ উপভোগ করেছে তাদের সংখ্যাও গড়েছে নতুন রেকর্ড। ইতালিয়ান দর্শকরা ছিলেন আরও এক ধাপ এগিয়ে। দেশটির ইতিহাসে এটা তৃতীয় সর্বোচ্চ দর্শক জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান যা ছাড়িয়ে গেছে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালকেও। স্পেনের জন্য এটা বছরের তৃতীয় জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান; এক যোগে ম্যাচ দেখে প্রায় এক কোটি চার লাখ দর্শক। সবমিলিয়ে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে ব্রাজিলে শুধু স্বাগতিক সংগঠকদেরই জয় হয়নি, জিতেছে ফুটবলও। কনফেডারেশন জিতলে সেটা তো ব্রাজিলের বাড়তি পাওনাই।