নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনি সহায়তা, আইন প্রণয়ন ও আইনের কঠোর প্রয়োগ ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। আর এক্ষেত্রে সরকারকে গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন মতবিনিময় সভায় বক্তারা। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ইউএন-উইমেন বাংলাদেশের সহযোগিতায় স্টেপস্ টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট ‘সিএসডব্লিউ ৫৭তম অধিবেশন: নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে অঙ্গীকার’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএন-উইমেন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ ক্রিস্টিন হান্টার। সম্মানিত আলোচক ছিলেন উইমেন ফর উইমেন সদস্য ড. মাহমুদা ইসলাম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেন, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর এবং পিডিএপি নির্বাহী পরিচালক কাজী বেবী। সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন স্টেপস্ টুয়ার্ডস্ ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার।
প্রতিমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মাল্টি-সেক্টরাল প্রজেক্টসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর জন্য হেল্পলাইন চালু, আইনি ও আর্থিক সহায়তা, আশ্রয় ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা, নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ইত্যাদি কাজ সরকার করছে। তবে এতোকিছুর পরও কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে নারী নির্যাতন পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না।
ক্রিস্টিন হান্টার বলেন, নারী নির্যাতন মানে নারীর অধিকার লংঘন, তাই এটি প্রতিরোধের দায়িত্ব প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রের। এজন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ, নারী-পুরুষের বৈষম্য হ্রাস ও কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নারী নির্যাতন বন্ধ করতে হবে সরকারকে। বক্তারা নির্যাতনের শিকার নারী-শিশুর আশ্রয় ও পুনর্বাসনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার উপর জোর দেন।
