চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট। নানান কারণে জায়গাটি সবার কাছে পরিচিত। তবে আমের মৌসুমে এ জায়গাটি একেবারে বদলে যায়। এত ঘন আর বেশি আমের বাগান দেশের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া দেশের সবচেয়ে বড় আমের হাটটিও বসে এখানে। কানসাটে এখনই আমের ভরা মৌসুম। দু-একদিনের সময় নিয়ে তাই বেরিয়ে পড়তে পারেন কানসাটের উদ্দেশ্যে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের পর মহানন্দা সেতু পেরিয়ে কয়েক কিলোমিটার পথ চললেই শিবগঞ্জ উপজেলার শুরু। এখান থেকেই মূলত ঘন আমের বাগান শুরু। মাইলের পর মাইল বাগান আর বাগান। সব বাগানেই এখন কম বেশি আম। কোনো কোনো বাগানে কৃষকেরা ব্যস্ত আম পাড়ায়। কোথাও কোথাও চোখে পড়বে বাগানে আম পেড়ে বাজারে নেওয়ার প্রস্তুতি।
শিবগঞ্জ থেকে কানসাটের দিকে এগোতে এগোতে আম চাষিদের ব্যস্ততা বেশি চোখে পড়বে। সাইকেলের দুই পাশে চার মনেরও বেশি আম বোঝাই করে সারি সারি সাইকেলের কানসাটের দিকে এগিয়ে চলা দেখতে ভালোই লাগবে। এ সময়ে বাজারের পরিধি এত বেশি বেড়ে যায় যে, বাজারের প্রায় দুই কিলোমিটার আগ পর্যন্ত আম নিয়ে দাঁড়িয়ে যান কৃষকরা। বাজারে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আম নিয়ে তাই সড়কের উপরেই বসে পড়েন অনেকেই।
তবে বাজারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গাটা বাজারের মধ্যকার মাদ্রসার পেছনের মাঠটি। বড়সড় খোলা মাঠ। পুরো মাঠ রিকশা ভ্যানে ভরা। ভ্যানের উপরে ঝুড়ি ভর্তি আম। একের পর এক আম বোঝাই ভ্যান আসতে থাকে বাজারে। কেউ কেউ আবার বিক্রি শেষে ভ্যান নিয়ে ছোটেন আড়তের দিকে। উপর থেকে দেখলে পুরো বাজারটি সবুজ আর সবুজ। সূর্যোদয় থেকে শুরু করে সারাদিন বাজার থাকলেও বেশি ব্যস্ততা থাকে বেলা এগারোটা পর্যন্ত। পুরো বাজার ক্রেতা-বিক্রেতায় গিজগিজ। বাজার ছেড়ে সোনামসজিদ স্থল বন্দরের দিকে যেতেও প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত সকালবেলা সড়কের উপরে বাজার বসে।
কানসাট বাজার থেকে সোনামসজিদের দিকে যেতেও সড়কের দুই পাশে শুধু আম বাগান আর আম বাগান। পছন্দসই যেকোনো বাগানেই ঢুকে পড়তে পারেন। এ এলাকার বেশিরভাগ বাগানই বেশ পুরোনো। আবার বেশিরভাগ গাছের ডালই আমের ভারে মাটি ছুঁই ছুঁই। সব বাগানেই আছে পাহারা চৌকি। আমের মৌসুমে পরিবারের সদস্যরা পালা করে বাগান পাহারা দেন। দিনের বেলায় মহিলা আর শিশুরা পাহারায় থাকলেও রাতে দায়িত্ব আসে পুরুষদের উপরে। আম গাছের ছায়ায় এসব টং ঘরগুলোতে দুদণ্ড জিরিয়েও নিতে পারেন।
সারাদিন বাজার আর বাগান ঘুরে হাতে সময় থাকলে যেতে পারেন অন্য কোথাও। কানসাট বাজারের কাছেই প্রাচীন গৌড়ের নানান স্থাপনা, আছে সোনামসজিদ স্থল বন্দরও। বাজার থেকে এর দূরত্ব প্রায় বারো কিলোমিটার। তবে জায়গাটিতে যাওয়ার আগে অবশ্যই দেখে যেতে পারেন প্রাচীন গৌড়ের ঐতিহাসিক স্থাপনা ছোট সোনামসজিদ। সোনামসজিদ ছেড়ে সামান্য সামনে সড়কের পশ্চিম পাশে আছে ঐতিহাসিক তাহখানা, শাহ নিয়ামত উল্লাহর মসজিদ, মাজার ইত্যাদি। এ ছাড়া এখান থেকে সামান্য সামনেই প্রত্নস্থল দারসবাড়ি মাদ্রাসা ও মসজিদ। আরও সামনে সড়কের পূর্ব পাশে আম বাগানের ভেতরে আরও দুটি প্রাচীন স্থাপনা খনিয়াদিঘি মসজিদ ও ধুনিচক মসজিদ।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সরাসরি যেতে পারেন কানসাট। ঢাকা কল্যাণপুর থেকে সরাসরি কানসাট যায় দেশ ট্রাভেলস, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, রুপালি পরিবহন, ন্যাশনাল পরিবহন। ভাড়া ৪৫০-৫০০ টাকা। এ ছাড়া যেকোনো বাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদরে এসে সেখান থেকেও কানসাট আসতে পারেন।
কোথায় থাকবেন
কানসাটে থাকার কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। তাই রাতযাপন করতে হবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে। এ শহরে সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে। শহরের শান্তি মোড়ে হোটেল আল নাহিদ, আরামবাগে হোটেল স্বপ্নপুরী, লাখেরাজপাড়ায় হোটেল রাজ ও হোটেল রংধনু ইত্যাদি। এসব হোটেলে ৪০০-১৫০০ টাকায় কক্ষ পাওয়া যাবে।
