স্টাইল শপ

বেনারসি শাড়িতে

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৩, ১৮:১৫
বাঙালি ললনা বলতেই চিরাচরিত এক রূপ ভেসে ওঠে। বারো হাত শাড়িতে আপাদমস্তক ঢেকে যাওয়া এক নারী। মেয়েদের পোশাকে নানা রকম বৈচিত্র্য এলেও আজও তাদের প্রথম পছন্দ শাড়ি। উত্সব পার্বণে শাড়ি মেয়েদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে। শাড়ি আমাদের অনেক দিনের পুরোনো ঐতিহ্য। আর এই ঐতিহ্যবাহী শাড়ির বিশাল পসরা নিয়ে গড়ে উঠেছে মিরপুরের বেনারসি পল্লী। সেখানের ঐতিহ্যবাহী বেনারসি কুঠি ঘুরে এসে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র, ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু একেক ধরনের শাড়ির মাধ্যমে নারী নিজেকে নানাভাবে উপস্থাপন করতে পারে। তাই ফ্যাশনের দিক থেকে সচেতন নারীরা শাড়িকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। হতে পারে তা তাঁত, জামদানি, সুতি, কাতান ইত্যাদি। বিয়ে, জন্মদিন বা যেকোনো অনুষ্ঠানে নিজেকে গর্জিয়াসভাবে সাজাতে শাড়ির ব্যবহার প্রায়ই দেখা যায়। তাই পছন্দের শাড়ি কেনার জন্য ঘুরে আসতে পারেন মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী বেনারসি কুঠি থেকে। স্বাধীনতার পরপরই আব্দুর রউফ নিজ বাড়িতে শুরু করেছিলেন বেনারসি কুঠির যাত্রা। আর সে যাত্রায় এখন যুক্ত হয়েছে আরও দুটি শাখা। সবমিলিয়ে তিনটি শাখায় বিশাল শাড়ির পসরা সাজিয়ে বসে আছেন তারা। বেনারসি কুঠির শাড়ি দেখে বোঝা গেল, বাহারি সব বেনারসি শাড়িতে এখন দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যোগ হয়েছে আধুনিক কারুকাজ। নিজেদের কারখানায় তৈরি হয় এসব শাড়ি। তারা তৈরি করেন প্রায় ৫০ রকমের বেনারসি শাড়ি। এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা, এমনকি এর চেয়ে বেশি দামের শাড়িও আছে তাদের দোকানে। আর বিয়ের শাড়ির দাম শুরু হয়েছে দশ হাজার থেকে। আব্দুর রউফ জানান, এখানকার শাড়ির সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। এখানকার তৈরি শাড়ি বিদেশেও যায়। ভারতের বেনারস থেকে আসা কারিগরেরা এ শাড়ি তৈরি করেছেন বলে এর নাম হয়েছে বেনারসি। বেনারসি শাড়ি তৈরির মূল উপাদান হলো কাঁচা রেশম সুতা। এর সাথে ব্যবহার হয় জরি সুতা। দেশীয় কাঁচা রেশম সুতার দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁতিরা বেনারসি তৈরিতে চায়না সিল্ক সুতা ব্যবহার করে থাকেন। বেনারসি কুঠির শাড়ির রঙের বৈচিত্র্যও লক্ষণীয়। লাল, হলুদ, মেরুন, মেজেন্টা, বেগুনী ইত্যাদি বিভিন্ন রঙের ওপর জমকালো সোনালি-রুপালি জরির কাজ সহজেই নজর কাড়ে। বেনারসি শাড়ির ধরন বা নকশার ওপর ভিত্তি করে রাখা হয় নানান নাম। যেমন—ব্রোকেট কাতান, পিরামিড কাতান, মিরপুরী রেশমি কাতান, বেনারসি কসমস, চুনরি কাতান, প্রিন্স কাতান ইত্যাদি। শুরুর দিকে বেনারসির মোটিফগুলো পার্সিয়ান ধরনের। এরপর আসে মুঘল মোটিফ। ক্রেতাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে আছে মসলিন কাপড়ের ওপর জরির কাজ করা মসলিন জামদানি। কোরা সিল্কের ওপর জরির কাজ—এ রকম একটি শাড়ি তৈরি করতে তিনজন কারিগরের সাত থেকে ১০ দিন লাগে। দামে বেশি হলেও অপেরা কাতানও ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। দাম ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। কারিগরেরা জানান, এই শাড়িতে প্রকৃত সিল্কের সঙ্গে একেবারে নিখুঁত জরির কারুকাজ করা হয়েছে। রোদ ও বৈদ্যুতিক বাতির আলো পড়লে এতে লাল, নীলসহ নানা রং ফুটে ওঠে। সিনথেটিক কাতান যেমন ১৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়, তেমনি কোনো কোনো শাড়ির দাম ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। শাড়ির দাম নির্ভর করে শাড়ির মান ও ডিজাইনের উপর। যেমন—মসলিন বেনারসি ১০০০০-১৫০০০ টাকা, নেট জুট ৫০০০-৬০০০ টাকা, কাতান বেনারসি ১১০০-১৮০০ টাকা, মসলিন কাতান ১০০০০-১২০০০ টাকা, পিয়ান বেনারসি ও খাদি বেনারসি ৭০০০-২৫০০০ টাকা। রবিবার ছাড়া সপ্তাহের যেকোনো দিন ঘুরে আসতে পারেন বেনারসি কুঠিতে।