আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাদেরকে হাতের লেখা খারাপ হওয়ার কারণে প্রায়ই বাবা-মা কিংবা শিক্ষকদের বকুনি খেতে হতো। অবশ্য এ কথাও সত্য যে, সবাই চায় তার হাতের লেখা সুন্দর হোক, সবাই প্রশংসা করুক। তবে কেবল চাইলেই হবে না, সে জন্য চাই আন্তরিকতা ও ভালোবাসার সঙ্গে চর্চা। হাতের লেখা কিছুটা সাঁতার শেখার মতো। পানিতে না নামলে যেমন সাঁতার কাটা শেখা যায় না, তেমনি চর্চা না করে হাতের লেখাও ভালো করা যায় না। হাতের লেখা সুন্দর করার চর্চা শুরু করতে হবে একদম শৈশব থেকে। কাদামাটি দিয়ে যেমন কোনো কিছুর সুন্দর একটি আকৃতি দেওয়া যায়, তেমনি একটি ছোট শিশুর কাঁচা হাতের লেখারও একটি সুন্দর রূপ দেওয়া সম্ভব। সাধারণত শিশুর হাতের লেখার হাতেখড়িটা পরিবারেই হয়। তাই প্রাথমিক দায়িত্বটা পরিবারেরই বেশি। এরপর বিদ্যালয় বা কোনো প্রতিষ্ঠানের হতে পারে। হাতের লেখা সুন্দর করার জন্য শিশুদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা সামাজিক সংস্থাগুলোর এগিয়ে আসা উচিত। হাতের লেখা সুন্দর করার টিপসগুলো লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম যেদিন বাচ্চা পেন্সিলটি ধরল, সেদিন থেকেই শুরু হোক চর্চা। একটু লক্ষ রাখুন, আপনার সন্তানের হাতের লেখাই হয়ে উঠবে অনন্য।
পেন্সিলটি সঠিকভাবে ধরতে শেখান।
লাইন টানা কাগজে লেখা শুরু করান।
বলপয়েন্ট কলম নয়, পেন্সিলের প্রতি আকর্ষণ বাড়ান।
বেশি কাটাকাটি যেন না করে, খেয়াল রাখুন।
মনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন না, মানে হাতের লেখা ভালো করার জন্য জোর করবেন না।
প্রতিদিন এক পৃষ্ঠা করে হাতের লেখা চর্চা করান।
না পারলে অযথা বকাবকি করা যাবে না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।
অক্ষরগুলোকে চেনান। তারপর সঠিকভাবে তার নিজস্ব ধারায় সুন্দরভাবে লেখার উত্সাহ দিন।
কোনো কিছু মুখস্থ করে বা পড়ে বলুন সঙ্গে সঙ্গে লিখে ফেলতে। দুটো লাভ হবে এতে। বাংলা লেখার মান ভালো হবে এবং পড়া জিনিসও মনে থাকবে।
শুধু মা-বাবার নয়, বিদ্যালয়েরও কিছু ভূমিকা আছে এ ক্ষেত্রে। তা সে বাংলামাধ্যম হোক আর ইংরেজিমাধ্যমই হোক। ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীদের বাংলা হাতের লেখা সাধারণত খুব একটা ভালো নয়। একটাই কারণ। ইংরেজির বেশি চর্চা করা হয়।
এ কারণেই বাংলার ওপর যত্নটা একটু বেশি নেওয়া উচিত বলে জানালেন স্কলাসটিকা স্কুলের বাংলা শিক্ষক মেরিনা কবির। তিনি মনে করেন, বিদ্যালয়গুলোর এ ব্যাপারে কিছু দায়িত্ব অবশ্যই পালন করা উচিত। দরকার অতিরিক্ত ক্লাসের। সেখানে শুধু হাতের লেখা চর্চা করা হবে। ভালো মানের উত্তরের সঙ্গে সুন্দর লেখার উপস্থাপন, একজন শিক্ষার্থীর সার্থকতা যেন এটাই। আর যদি হাতের লেখা খারাপ হয়ে যায়, তাহলে তো নম্বর কাটা যাবেই। এটাও হাতের লেখাকে সুন্দর করার উত্সাহ জোগাবে। বিদ্যালয় থেকে প্রতিদিন অন্তত এক পাতা বাংলা হাতের লেখা চর্চাও অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ, প্রতিদিন চর্চার চেয়ে বড় মূলমন্ত্র আর কিছুই নেই।
বারবার একই পদ্ধতিতে লেখা শেখানো হলে শিশুদের মনে চলে আসতে পারে একঘেয়েমি। সে ক্ষেত্রে সন্তানের হাতে তুলে দিন রং, তুলি। ছবি আঁকতে আঁকতেই বুঝে ও জেনে যাবে সুন্দর হাতের লেখার মর্ম। এই দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই হাতের লেখার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিশু একাডেমী, প্রি ফিঙ্গারস হ্যান্ড রাইটিং ডেভেলপমেন্ট একাডেমির মতো আরও অনেক প্রতিষ্ঠান। আয়োজন করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার। শুধু এক দিনের প্রতিযোগিতা কোনোভাবেই দীর্ঘস্থায়ী হাতের লেখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে না। এর জন্য দরকার নিয়মিত চর্চা, যার মাধ্যমে আমাদের নতুন প্রজন্ম পেতে পারে সুন্দর বাংলা হাতের লেখা।
