এখানেই যেন মিলিত হয়েছে প্রকৃতির মায়া আর আধুনিকতা। অনেক সিঁড়ি মাড়িয়ে ভবনে ওঠার মত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বপ্নও উঠে গেছে আকাশের দিকে
চারপাশে পাখির কলরব চলছে অবিরাম। যতদূর চোখ যায় উঁচু-নিচু পাহাড় আর পাহাড়। এই পাহাড়গুলো গাছ-গাছালির সবুজের চাদর দিয়ে ঢেকে আছে, দেখতে কেমন যেন মায়া মায়া লাগে। এই পাহাড়িয়া সবুজ যে কাউকে তার মায়ায় কাছে টেনে নেয়। এই এলাকার মানুষের ঘুম ভেঙ্গেই শুরু হয় কাজ। যে যার মত আপন মনে কাজ করে। কুমিল্লার বুকের উপর এই বিশাল লালমাই পাহাড় যার পাদদেশের একটি অংশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। পাহাড়ের মাথায় বাঁ উপত্যকায় আবস্থান হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভবনগুলোর। এই শান্ত-কোমল পরিবেশে গড়ে উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এখানেই যেন মিলিত হয়েছে প্রকৃতির মায়া আর আধুনিকতা। অনেক সিঁড়ি মাড়িয়ে ভবনে ওঠার মত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বপ্নও উঠে গেছে আকাশের দিকে। এখানে সারা বছর আনন্দঘন পরিবেশে প্রাণোচ্ছল জীবন চলে শিক্ষার্থীদের।
এই ক্যাম্পাসের বাস্তবতা এসেছে অনেক প্রতিক্ষার পর। ১৯৬২ সালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয়ও হয় তবে সেটা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ৪৪বছর পর ২০০৬ সালের ২৮ মে দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আত্মপ্রকাশ করে। ২০০৭ সালের ২৮ মে ৩০০ জন শিক্ষার্থী ও ১৫ জন শিক্ষক নিয়ে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম। প্রথমে চারটি অনুষদের অধীনে সাতটি বিভাগ চালু হয়। বিজ্ঞান অনুষদে গণিত, কলা ও মানবিক অনুষদে ইংরেজি, সমাজিক বিজ্ঞান অনুষদে অর্থনীতি ও লোকপ্রশাসন, ব্যবসা শিক্ষা অনুষদে ইনফরমেশন সিস্টেম ও হিসাব বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা ও মার্কেটিং এই সাতটি বিভাগ নিয়ে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা। পরবর্তীতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি), বাংলা, নৃবিজ্ঞান, পদার্থ, রসায়ন, পরিসংখ্যান বিভাগ চালু হয়। বর্তমানে চোদ্দটি বিভাগে সাতটি শিক্ষাবর্ষে প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ জুড়ে আছে। শিক্ষার্থীদের জন্য মোট চারটি হল আছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছেলেদের জন্য তিনটি যথাক্রমে কাজী নজরুল ইসলাম হল, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল আর মেয়েদের জন্য একটি হল হচ্ছে নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী হল। আপাতত ৫০ একর জায়গার উপর এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠিত।
নবীন অথচ ভাৈগলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব অনেক। গ্লোবাল যুগের বিশ্বে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে সম্মানীয় আসনে আনতে চালিয়ে যাচ্ছে তার কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় ব্যাচের শিক্ষার্থী তুহিন ইব্রাহীম বলেন, ‘বাংলাদেশকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে এই বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় নিজেকে নিয়োগ করেছে।’ সেই লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে বলে মনে করেন সাদিক আফজাল (২য় ব্যাচ), তারিন বিনতে এনাম (২য় ব্যাচ)। বিশ্বদ্যািলয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে ৬ষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী খোরশেদুল আলম বলেন, ‘আমাদের লাইব্রেরি উন্নতকরণ, বাস, আবাসন, ক্লাসরুম, শিক্ষকরুম এসব সমস্যা এখন খুবই চরমে যার সমাধান খুবই জরুরী। ৬ষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী ফজলে শাহরিয়ার বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। অচিরেই যার সমাধান খুবই জরুরী।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আমীর হোসেন খান বলেন,‘সব শিক্ষার্থীকে বাংলাদেশ সরকারের ভিশন বাস্তবায়নে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সুউচ্চ ও গবেষণাধর্মী ফলপ্রসূ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।’ এখানে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদেরকে ক্যাম্পাসে অপসংস্কৃতি ও অপরাজনীতি করতে নিরুত্সাহিত করেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সবসময় অবিরামভাবে চলে তরুণদের প্রাণোচ্ছল জোয়ার। এখানে এই পাহাড়িয়া সবুজের মাঝে যেন জ্ঞানের চাষ হয়।
