— মো: শহীদুল আলম, অধ্যক্ষ, ন্যাশনাল কলেজ
পহেলা জুলাই একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্মরণীয় দিন। গত কয়েক বছর যাবত্ পূর্বনির্ধারিত এই দিনে সমগ্র দেশব্যাপী একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়। এমন এক উত্সবমুখর পরিবেশের আয়োজন নিঃসন্দেহে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ আনন্দের দিনও বটে। এ দিনে ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে এমন এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়, যা দু’বছরের মধ্যে অনেক স্মৃতি বিস্মৃতিতে রূপান্তরিত হলেও কলেজ জীবনের প্রথম দিন প্রত্যেকের জীবনে অম্লান হয়ে থাকে। সমগ্র দেশব্যাপী একযোগে এমন আয়োজনের সুযোগ করে দেয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়কে দেশের সকল ছাত্র-শিক্ষকের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
দীর্ঘদিনের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে একটি কলেজে যখন শিক্ষার্থী ভর্তি হয় তখন তার মধ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষার আগ্রহের কমতি থাকে না। ক্লাস শুরুর প্রথম দিকে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি সন্তোষজনক পর্যায় থাকলেও কিছু দিন যেতে না যেতেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিন স্তরের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রথম স্তর, যারা শিক্ষাবর্ষের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিনিয়ত উপস্থিত থেকে শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। দ্বিতীয় স্তর, যারা কিছু দিন যেতে না যেতেই অনিয়মিত হয়ে যায়। অর্থাত্ মাঝেমধ্যে খেয়াল খুশি অনুযায়ী উপস্থিত হয়। তৃতীয় স্তর, যারা একেবারেই অনুপস্থিত হয়ে যায় শুধু পরীক্ষার সময়ে এসে বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে পরীক্ষা দেয়ার চেষ্টা করে।
নবীন শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। মুখস্ত ভিত্তিক পড়া-লেখার দিন শেষ। এখন শিক্ষার্থীকে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিতে হয়, এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীকে উত্তর তৈরি করতে হয় পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর। তবে একথাও সত্য যে, শিক্ষার্থী নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করলে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষায় উত্তর দেয়া খুবই সহজ। যা সনাতন পদ্ধতির চেয়ে অনেক সহজ সাধ্য একটি প্রক্রিয়া। শ্রেণি কার্যক্রমের বাইরে কোচিং বা প্রাইভেট টিউটরের চিন্তা করা বাহুল্য ছাড়া কিছুই নয়। বাসায় নিয়মিত প্রয়োজন অনুযায়ী মনোযোগের সহিত অধ্যয়ন শিক্ষার্থীর পাঠ প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে এবং কাঙিক্ষত ফলাফল অনিবার্য হয়ে যায়। শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণের উচিত্ শিক্ষার্থীদের এ বিষয়গুলো সম্পর্কে শিক্ষাবর্ষের সূচনা ক্লাশে জানিয়ে দেয়া।
