রাঙ্গামাটি আসার পথে দেখা মিললো আকাশচুম্বী বড় বড় পাহাড়, সাড়িবদ্ধ রাবার বাগান, আগর গাছের বাগান, পত্রঝরা সেগুন গাছের পাহাড় এবং পাহাড়ের কোল ঘেঁষে কিংবা পাদদেশে বিস্ময়কর আদিবাসীদের ছোট ছোট ঘরগুলো
ভ্রমণ করতে কার না ভাল লাগে! আর সে ভ্রমণ যদি হয় বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের জেলা এবং পৃথিবীর সর্ববৃহত্ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, তাহলে তো আর কথাই নেই। তাইতো চতুর্থবর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে আমরা রেরিয়ে পড়লাম আনন্দ ভ্রমণে। বিভাগের বন্ধুদের সাথে এটাই ছিল প্রথম রাঙ্গামাটি ও কক্সবাজারে ভ্রমণ। যেহেতু ভ্রমণের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়েছিল আগেই, সে মোতাবেক রাত ৯টায় আমরা সবাই হাজির হলাম গাবতলী যেখান থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হওয়ার কথা। যথা সময়ে আমাদের গাড়ি ছাড়ল।
সারারাত দীর্ঘ জার্নির পর ভোরে আমরা চট্টগ্রামে পৌঁছলাম। বাস থামিয়ে রাস্তার পাশে দোকানে ফ্রেশ হলাম। তারপর বিস্কিট দিয়ে জলখাবার সেরে আমরা রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে যাত্রা আরম্ভ করলাম। ইতিমধ্যে পূর্ব গগনে রক্তিম সূর্য মিষ্টি আলো ছড়িয়ে আমাদের বরণ করে নিল। পথের দু’ধারের গগনচুম্বী পাহাড়গুলো যেন আমাদের নতুন অতিথি ভেবে তাদের সবুজের চাদরে মোড়ানো গাছপালা নাড়িয়ে স্বাগত জানাচ্ছে। প্রায় দু’ঘন্টার মধ্যে আমরা রাঙ্গামাটি শহর বনরূপায় পৌঁছে গেলাম। রাঙ্গামাটি আসার পথে দেখা মিললো আকাশচুম্বী বড় বড় পাহাড়, সাড়িবদ্ধ রাবার বাগান, আগর গাছের বাগান, পত্রঝরা সেগুন গাছের পাহাড় এবং পাহাড়ের কোল ঘেঁষে কিংবা পাদদেশে বিস্ময়কর আদিবাসীদের ছোট ছোট ঘরগুলো। যাত্রাপথে আরও দেখা মিলল মুক্তিযুদ্ধের তিনজন বীর শহীদের স্মৃতিস্তম্ভ। বনরূপায় একটি হোটেলে নাস্তা সেরে নিলাম। এবার কাপ্তাই নদী ডিঙ্গিয়ে শুভলং যাওয়ার পালা।
আজ প্রথম কোন পাহাড়ে উঠতে যাব। ভাবতেই মনের ভিতর কেমন দোলা দিয়ে উঠল। আগে থেকেই আমাদের ট্রলার ভাড়া করে রাখা ছিল। শুভলং-এ আমাদের সঙ্গী হলেন রাঙ্গামাটি কলেজের আব্দুর রহমান ভাই। তিনি আমাদের সকল লোকেশনের সাথে পরিচয় করে দিতেন। কাপ্তাই নদীর দু’কূল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে গগনচুম্বী পাহাড়। নদীর মাঝ দিয়ে আমরা যাচ্ছি। আমি গান ধরলাম ‘মাঝি বাইয়া যাও রে, অকূল দরিয়ার মাঝে আমার ভাঙ্গা নাও রে মাঝি বাইয়া যাও রে’। দীর্ঘ আড়াই ঘন্টা ট্রলার চেপে আমরা পৌঁছে গেলাম শুভলং পাহাড় ও শুভলং ঝর্নার অতি নিকটে।
ঝর্না দেখে আমরা পৌঁছলাম শুভলং পাহাড়ের পাদদেশে। নাস্তা খাওয়ার পর আমরা চলে গেলাম সী বিচে। অনুষ্ঠিত হল প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। খেলা শেষে শুরু হল সমুদ্রের পানিতে ভলিবল খেলা, পানিতে লাফালাফি, সমুদ্রের ঢে-এ গা ভাসিয়ে বহুদূর চলে যাওয়া। তখনও অনেকেই সমুদ্র সৈকতে অপার সৌন্দর্য উপভোগে মশগুল। কেউ কেউ আবার কেনাকাটায় মগ্ন হয়ে পড়েছেন। দুপুরের খাবার শেষে আমরা বাসে চড়ে রওনা দিলাম সূর্যাস্ত দেখতে হিমছড়িতে। হিমছড়িতে সূর্যাস্ত দেখার পর অবশেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা আরম্ভ হল। গাড়ি ছেড়ে দিল ঢাকার উদ্দেশ্যে। শুরু হল গানের পালা। কিন্তু সবাই ছিল খুব ক্লান্ত, তাই গাড়িতে উঠে সিটে বসেই প্রায় সকলেই ঘুমের কোলে ঢলে পড়ল। পরদিন সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে বাস এসে পৌঁছল। বাস থেকে নেমে যে যার গন্তব্যে চলে গেলাম।
