বাঁচার আশা দেখছে হিংস্র ভালুকের কামড়ে ক্ষতবিক্ষত শিশু পণবিকাশ ত্রিপুরা। তার বাড়ি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম সীমান্তবর্তী গ্রাম নিওথাংনাং বেটলিং। শুক্রবার দুপুরের দিকে বাড়ির পাশের জঙ্গলে খেলতে গিয়ে বন্য ভালুকের কামড়ে গুরুতর আহত হয় সে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তার সুচিকিৎসার কোনো সুযোগ ছিলো না। সংবাদ পেয়ে আক্রান্ত বালকটিকে নিকটস্থ সীমান্ত ফাঁড়িতে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় বিজিবি। পরবর্তীতে ক্ষতস্থানে সংক্রমণের আশংকায় তাকে রবিবার সকালে সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রাম সেনানিবাসস্থ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
আহত শিশুটির পিতা অলিন্দ্র ত্রিপুরা সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভালুকের কামড়ে পণবিকাশের মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষতবিক্ষত হয়ে প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। মনে করেছিলাম ছেলেকে আর বাঁচাতে পারবো না। ওকে নিয়ে প্রথমে বিজিবির ফাঁড়িতে যাই। বিজিবির কাছ থেকে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারে করে আমার ছেলেকে চট্টগ্রামে নিয়ে এসেছে। বিজিবি এবং সেনাবাহিনীর কাছে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার ছেলে যেন সুস্থ হয়ে ওঠে সেজন্য সবাই আশীর্বাদ করবেন।’
প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকাগুলোতে উন্নত হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্র নেই। কেউ অসুস্থ হলে কবিরাজ, বৈদ্যরাই ঝাঁড়ফুক বা টোটকা চিকিৎসা দেন। তবে সেনাবাহিনীর তৎপরতায় দুর্গম এলাকার অনেক মুমূর্ষু রোগী উন্নত চিকিৎসা লাভ করে জীবন ফিরে পেয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ শ্রমের মূল্য ধানের মূল্যের দ্বিগুন, দিশেহারা কৃষক দিলেন পাকা ধানে আগুন
সেনা কর্মকর্তারা জানান, যথাসময়ে সংবাদ পাওয়া সাপেক্ষে সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে রোগীকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। সম্প্রতি সোনাপতি চাকমা ও জতনি তঞ্চঙ্গ্যা নামে দুই প্রসূতি নারীকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে আসে সেনাবাহিনী।
ইত্তেফাক/নূহু

