আগামী ছয় মাসে ৫শ ডিলারের কাছে পৌঁছবে ডি-লিংক

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৩, ২১:৩১
নেটওয়ার্কিং পণ্য নির্মাতা হিসেবে বিশ্বের ১২৬টি দেশে রয়েছে ডি-লিংকের উপস্থিতি। বাংলাদেশেও নেটওয়ার্কিং পণ্যে অন্যতম জনপ্রিয় একটি ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে ডি-লিংক। বাংলাদেশের আইটি বাজারে ডি-লিংক পণ্য নিয়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছেন ডি-লিংকের কান্ট্রি ম্যানেজার বিশ্বজিত্ সূত্রধর। বাংলাদেশের বাজার নিয়মিত ভ্রমণ করে থাকেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তিনি এসেছিলেন বাংলাদেশ সফরে। এ সময় কথা হয় তার সাথে বাংলাদেশের বাজারে ডি-লিংকের বর্তমান অবস্থান এবং ব্যবসা কৌশল নিয়ে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তরিকুর রহমান সজীব। বাংলাদেশের বাজারকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের অন্যতম সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্বজিত্ বলেন, ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের বাজার অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। ভারতের পরে এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলংকার বাজারটি সবচেয়ে বেশি পরিণত। তবে বাংলাদেশ সবেমাত্র প্রবেশ করেছে তৃতীয় প্রজন্মের নেটওয়ার্কের যুগে। রাজধানী এবং বড় বড় শহরগুলো ছাড়িয়ে নেটওয়ার্ক মাত্র ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এটি একটি বড় সম্ভাবনার জায়গা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজারে পরিণত হবে বলেই আমরা আশা করি।’ বিশ্বজিত্ বলেন, ‘এই বাজারে আমরা রয়েছি দীর্ঘদিন ধরে। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিক থেকে আমরা ডায়াল-আপ মডেম নিয়ে যাত্রা শুরু করেছি এখানে। সেখান থেকে এখন সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তির নেটওয়ার্কিং পণ্যগুলো নিয়ে এখন আমরা হাজির হচ্ছি গ্রাহকদের কাছে। এখন তাই এখানে পণ্যের বৈচিত্র্য অনেক বেশি এবং বাজারটাও ক্রমবর্ধমান।’ এই বাজারে নিজেদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে মূলত ব্যবসায়িক অংশীদারদেরকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ডি-লিংক। বিশ্বজিত্ বলেন, ‘আমরা ব্যবসাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকি আমাদের ব্যবসায়িক পার্টনারদের। আমাদের মূলমন্ত্রই হচ্ছে ‘গ্রো উইথ পার্টনারস’। আমাদের মূল কৌশল হচ্ছে আমাদের অংশীদারদের লাভবান করার মাধ্যমে আমাদের ব্যবসার প্রসার ঘটানো। আমরা আমাদের পার্টনারদের কাছে গিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করছি এবং তাদের আরও বেশি দক্ষ করে তুলছি। এতে করে তারা নিজেরা গ্রাহকদের কাছে সঠিক পণ্যগুলোকে তুলে ধরতে পারছে এবং নিজেদের লাভের জায়গাটি নিশ্চিত করতে পারছে। এতে করেই কিন্তু আমাদের বাজারটা বাড়ছে।’ চলতি বছরের শেষ ছয় মাস সময়ে ডি-লিংক পণ্যের ডিলারদের সাথে আরও অনেক বেশি যোগাযোগের লক্ষ্যের কথা জানালেন বিশ্বজিত্ সূত্রধর। আর এসব ডিলারদের জন্য এই সময়টাতে বিভিন্ন ধরনের উপহার প্রদানের লক্ষ্যও রয়েছে ডি-লিংকের। এই ছয় মাসে ৫ শ’রও বেশি পার্টনারের সাথে নিজেদের সরাসরি যোগাযোগের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ডি-লিংকের। গ্রাহকদের সময়ের উপযোগী প্রযুক্তি ও সেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর ডি-লিংক। বিশ্বজিত্ জানালেন, ডি-লিংকের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট টিমে রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩শ গবেষক, যারা ক্রমাগত ডি-লিংক পণ্যের মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ডি-লিংক নিয়ে এসেছে ক্লাউডনির্ভর বিভিন্ন সেবা। ডি-লিংক গ্রাহকরা তাদের ক্লাউড রাউটার কিংবা ক্লাউড আইপি ক্যামেরা ব্যবহার করে যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো সময় নিজেদের নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। ডি-লিংকের ক্লাউড সার্ভিসে রেজিস্ট্রেশন করে বিনামূল্যেই এই বাড়তি ফিচার উপভোগ করতে পারছেন গ্রাহকরা। শুধু তাই নয়, পরিবেশের সুরক্ষার কথা ভেবেই ডি-লিংকের রয়েছে বিভিন্ন মডেলের ‘গ্রিন প্রোডাক্ট’। এসব ‘গ্রিন প্রোডাক্ট’ পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না বলেই জানালেন বিশ্বজিত্ সূত্রধর। বাংলাদেশে এসব ডিভাইসের বাজারও ভালো বলে উল্লেখ করে বিশ্বজিত্ বলেন, ‘এখানকার গ্রাহকরা অনেক বেশি সচেতন। তাই আধুনিক পণ্যগুলোর চাহিদা এখানে অনেক বেশি। যেভাবে আমরা এখানে কাজ করছি, তাতে করে খুব দ্রুতই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশ শীর্ষস্থান দখল করবে বলে আমি আশাবাদী।’ উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ডি-লিংক পণ্য বাজারজাত করছে স্পেকট্রাম কনসোর্টিয়াম এবং কম্পিউটার সোর্স।