দেখতে সহায়তা করার জন্য কনটাক্ট লেন্সের ব্যবহার নতুন নয়। তবে এবারে একদল গবেষক এমন একটি কনটাক্ট লেন্স তৈরি করেছেন, যেটি দূরের বস্তুতে জুম করে কাছে নিয়ে এসে দেখার সুযোগ করে দেবে। জুম করে দেখার সুবিধা এই প্রথমবারের মতো কনটাক্ট লেন্সে সফলভাবে সংযোজিত করলেন এই গবেষক দল। এই কনটাক্ট লেন্স ব্যবহার করলে স্বাভাবিক দৃষ্টির তুলনায় প্রায় ৩গুণ পর্যন্ত বিবর্ধন পাওয়া সম্ভব। তবে এই কনটাক্ট লেন্সের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এতে জুম করে দেখা বা না দেখার বিষয়টি ব্যবহারকারী নিজেই নির্বাচন করে নিতে পারবে। সংশ্লিষ্ট গবেষকরা জানিয়েছেন, বয়সের কারণে দৃষ্টিজনিত যেসব সমস্যা তৈরি হয়, সেসব সমস্যা দূর করতে এই কনটাক্ট লেন্স কাজ করবে। এসব সমস্যার কারণে বেশিরভাগ সময়েই স্বাভাবিক জীবনযাপনেও সমস্যা তৈরি করে। গাড়ি চালানো কিংবা বই পড়ার মতো নিত্যদিনকার কাজেও সমস্যা হয় এই ধরনে অসুখে। এসব সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে এই কনটাক্ট লেন্স ব্যবহার করলে তা কাজে লাগবে বলেই জানিয়েছেন গবেষকরা। গবেষকদের তৈরি এই কনটাক্ট লেন্সটির পুরুত্ব মাত্র ১.১৭ মিলিমিটার, যা অন্যান্য সাধারণ কনটাক্ট লেন্সের প্রায় সমান। ফলে সহজেই এটি চোখের মাঝে স্থাপন করা যাবে। এর আগে জুম করার উপযোগী যেসব কনটাক্ট লেন্স তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল, সেগুলোর পুরুত্ব ৪ মিলিমিটারের চাইতে কমাতে পারেননি গবেষকরা। এগুলোতে জুম করা ছবির মানও খুব একটা ভালো নয়। ইউসিএসডি’র জোসেফ ফোর্ড এবং ইপিএফএল-এর এরিক ট্রেমব্লে’র নেতৃত্বাধীন গবেষক দলের তৈরি এই লেন্সে আলোকরশ্মি প্রবেশ করে লেন্সের ধার ঘেঁষে। এরপর এটি লেন্সের মধ্যেই চার বার প্রতিফলিত হয় অ্যালুমিনিয়ামের দর্পনে এবং সবশেষে রেটিনায় প্রবেশ করে। অ্যালুমিনিয়ামের দর্পনগুলো ভেতরে আগত রশ্মিকে ২.৮গুণ পর্যন্ত বর্ধিত করে। ফলে দেখার সময় প্রায় তিনগুণ দূরের বস্তুকেও দেখতে পাওয়া যায়।
