পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে মঙ্গলবার মার্কিন ড্রোন হামলায় কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছে। এদিকে, পেশোয়ারে জঙ্গিরা ছয় সীমান্তসেনাকে হত্যা করেছে। পাকিস্তানের উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল উত্তর ওয়াজিরিস্তানে মঙ্গলবার শেষ রাতে মার্কিন ড্রোন হামলায় কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছে। ওয়াজিরিস্তানের সিরাই দারপাখেল এলাকার মিরামশাহ বাজারের কাছে একটি বাড়ি লক্ষ্য করে ড্রোন বিমান থেকে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এই হামলায় ১৭ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরো দুইজন আহত হয়েছে।
পাকিস্তানের গোয়েন্দা সূত্রগুলো হতাহতের খবর নিশ্চিত করে বলেছে, একজন শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নেতাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে যার পরিচয় এখনো জানা যায়নি। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এসোসিয়েট প্রেস (এপি) বলেছে, সন্দেহভাজন যে জঙ্গিদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে তারা আফগান হাক্কানি নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত। ধারণা করা হচ্ছে, হাক্কানির প্রধান নেতাকে লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট সরকার আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া জঙ্গি গোষ্ঠিগুলোর মধ্যে হাক্কানিকে সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। তালেবানের প্রধান নেতা মোল্লা ওমরের প্রতি হাক্কানি নেটওয়ার্ক আনুগত্য প্রদর্শন করলেও সংগঠনটি প্রায় স্বাধীনভাবে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। হামলার পর প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের কারণে অবিলম্বে মার্কিন ড্রোন হামলা বন্ধ করার আহবান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, মঙ্গলবারের ঘটনাটি এ বছরের সবচয়ে বড় ড্রোন হামলা এবং গত ১১ মে’র নির্বাচনে নওয়াজ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো এ হামলা হলো।
এদিকে, পেশোয়ারে মঙ্গলবার রাতে জঙ্গি হামলায় কমপক্ষে ছয় সীমান্ত সেনা (ফ্রন্টিয়ার কনস্ট্যাবুলারি) নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো সাতজন। জঙ্গিরা নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, পেশোয়ারের সীমান্ত এলাকা জিনা কোরের কিষান গঙ্গা চেকপোস্টে রাত ১১টার দিকে জঙ্গিরা হামলা চালায়। এসময় নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র জঙ্গিদের মধ্যে গুলি বিনিময় শুরু হয়। বুধবার সকাল পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। হামলায় আহত সেনাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অপহূতদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, মাত্র কয়েক মাস আগেই জঙ্গিরা ২২ সীমান্ত সেনাকে অপহরণ করার পর হত্যা করে।—খবর ডনের।
