ক্যারিয়ার গড়তে উন্নয়ন অধ্যয়ন

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৩, ২১:২২
সময়ের সাথে সাথে বাড়ছে কাজের ক্ষেত্র, বাড়ছে পড়ালেখা করার বিষয়। আগের অনেক বিষয়ই এখন ক্যারিয়ার গড়ার নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। সেখানে নতুন অনেক বিষয়ে পড়ালেখা করে ভালো ক্যারিয়ার গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এমনই একটি তুলনামূলকভাবে নতুন বিষয় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বা উন্নয়ন অধ্যয়ন। ধীরে ধীরে এই বিষয়ে পড়ালেখা করা শিক্ষার্থীদের কদর বাড়ছে। জানাচ্ছেন সানজিদা সুলতানা সময়ের সাথে সাথে পৃথিবীতে যেমন আসছে পরিবর্তন, তেমনি সময়ের চাহিদা পূরণেই নতুন নতুন বিষয়ে তৈরি হচ্ছে পড়ালেখা করার জন্য। পৃথিবীর ইতিহাসের একটা সময় পর্যন্ত পড়ালেখা বিজ্ঞান, কলা এবং বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এর আওতায় ছিল নির্ধারিত কিছু বিষয়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে প্রতিটি বিষয়েরই অন্তর্নিহিত বিষয়গুলোকে আরও ভালোভাবে জানা-বুঝার জন্য তৈরি হয়েছে নতুন নতুন আরও বিষয়। শুধু তাই নয়, একটা সময়ে এসে মানুষের নিত্যদিনকার প্রয়োজনীয় সব চাহিদার পূরণেও তৈরি হয়েছে বিশেষায়িত বিভাগ। সার্বিকভাবে একটি সমাজ এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নের ধারণাটি বদলে গেছে আগেই। আর সেই উন্নয়নের ধারাকেই সঠিকভাবে বুঝার জন্য যে নতুন বিষয়টি চালু হয়েছে পড়ালেখার জন্য, তার নাম ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বা উন্নয়ন অধ্যয়ন। গত কয়েকবছর সময়ে এই বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে সকলের। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উন্নয়ন সহযোগী সরকারি, বেসরকারি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে কাজ করার জন্য এখন এই বিষয় থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়ে থাকে। সাধারণ কথায়, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ হলো উন্নয়নসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ের পাঠ বা অধ্যয়নের একটি ভিন্ন মাত্রার বিষয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের আওতায় এ বিষয়টি পড়ানো হয়। বিশ শতকের শেষ সময়টা সারা বিশ্বের মানুষের উন্নয়নের জন্য বড় বড় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ সৃষ্টি হয়। দারিদ্র্যকে পরাস্ত করা মানেই উন্নয়ন নয়, এর ক্ষেত্র এখন বিস্তৃত হয়েছে। মানুষের সাংস্কৃতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে সার্বিক উন্নয়ন সাধিত হয়। ব্যবহারিক পর্যায়ে উন্নয়নের সংজ্ঞা, সীমাবদ্ধতা, কাজের পরিধি খুঁজে বের করা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সমস্যার ব্যবহারিক সমাধান নিয়ে পড়াশোনার বিষয়ই হলো উন্নয়ন অধ্যয়ন। পড়ার সুযোগ কোথায় আমাদের দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিষয়টি পড়ানো হয়। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে উন্নয়ন অধ্যয়ন পড়ার সুযোগ রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছর মেয়াদি অনার্স, দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স পর্যায়ে পড়াশোনার পাশাপাশি এমফিল, পিএইচডি, গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ও বিভিন্ন সার্টিফিকেট কোর্স করারও সুযোগ আছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। এই বিষয়ে পড়তে হলে একেক প্রতিষ্ঠানে একেক ধরনের যোগ্যতা চাওয়া হয়ে থাকে। তবে সাধারণভাবে স্নাতক পর্যায়ে পড়ার জন্য এইচএসসি উত্তীর্ণ হতে হয়। আর এ বিষয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ালেখা করতে হলে স্নাতক ডিগ্রি উত্তীর্ণ হতে হবে। সেক্ষেত্রে তিন বছর কিংবা চার বছরের স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে। সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েই ভর্তি হতে হয় এই বিষয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির তথ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধীনে রয়েছে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিষয়ে চার বছরের স্নাতক কোর্স। এ ছাড়া মাস্টার্স কোর্সও রয়েছে। এই বিষয়ে স্নাতকে ভর্তি হতে চাইলে উচ্চমাধ্যমিকের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির যোগ্যতা অনুসারে ‘খ’ এবং ‘ঘ’ ইউনিটে পরীক্ষা দিয়ে নির্বাচিত হতে হয়। মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হতে চাইলে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রিধারী হয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভর্তি হতে হয়। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর তিন অথবা চার বছরের সম্মান ডিগ্রি থাকতে হবে। যেসব শিক্ষার্থী চার বছরের ব্যাচেলর অব ইঞ্জিনিয়ারিং, এমবিবিএস, বিডিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন, তারাও আবেদন করতে পারবেন। মাস্টার্স পর্যায়ে আবেদনকারীকে ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরা এক বছর মেয়াদি গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য যোগাযোগ করতে পারেন সরাসরি উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে। কলাভবনের পঞ্চম তলায় রয়েছে বিভাগটি। ফোন :৯৬৬১৯২০, এক্সটেনশন-৬৭৯১। মোবাইল :০১৭২০৪৬১৯১০। ওয়েবসাইট :www.devstud-udhaka.ac.bd বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি), ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তির তথ্য সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।