এক্সপো ২০২০
জামাল উদ্দীন
আগামী বছরের অক্টোবরে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে এক্সপো ২০২০। এর আয়োজন নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের ‘শপিং ক্যাপিটাল’ দুবাই এই এক্সপোর সফল আয়োজনের মাধ্যমে তার অর্থনীতিকে আরেক ধাপ এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০১৫ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইতালির মিলানে পুরো অক্টোবর মাসজুড়ে। প্রতিটি এক্সপোই হচ্ছে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রূপান্তরের সম্মিলন। দুবাই মার্কেটিংয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং গণযোগাযোগ মাধ্যমে এর উপস্থিতি বেশি হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম ধনী শহরের মর্যাদা পাচ্ছে। যদিও এটি লন্ডন কিংবা নিউইয়র্কের মতো সম্পদশালী নয়।
দুবাই হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিতীয় সম্পদশালী। দুবাইয়ে জিডিপির ২০ ভাগ অবদান পর্যটন খাতের। বিপুলসংখ্যক ট্যুরিস্টের উপস্থিতিতেও কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। এর দর্শনীয় স্থানগুলোতে গেলে দেখা যায়, পর্যটকদের লম্বা লাইন। প্রচুর ভিড়েও কারো কোনো বিরক্তি নেই। সবাই সুশৃঙ্খল। নিরাপত্তা নিয়েও কোনো বাড়াবাড়ি চোখে পড়ে না। অথচ নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে।
কারো মনে হতে পারে দুবাইর অর্থনীতি তেলনির্ভর। বাস্তবে দুবাইর জিডিপিতে তেলের অবদান খুবই কম। বরং সেবাখাত যেমন আইটি, ফাইন্যান্স ইত্যাদির অন্যতম হাব দুবাই। এর বন্দর মধ্যপ্রাচ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানির অন্যতম স্থান এবং বন্দরের মাধ্যমে প্রচুর রাজস্ব আয় হয়। এক্সপো ২০২০ আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ার পর মনে করা হচ্ছে— এর ফলে দুবাইয়ের অর্থনীতি আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে। এই এক্সপো আয়োজন করতে গিয়ে দুবাইয়ে দুই লাখ সত্তর হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
শুধু এক্সপোই নয়, এতে অংশ নেওয়া দর্শনার্থী ও প্রদর্শকরা দুবাইয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, পর্যটন স্পট ঘুরে দেখবেন। সেখানে ডেজার্ট সাফারি, বুর্জ খলিফা, সি প্ল্যান ফ্লাইট, ডিনার ক্রুজ, দুবাই ক্রিক প্রভৃতি উপভোগ করবেন। এই বিশাল যজ্ঞ দুবাইর অর্থনীতিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এক্সপো উপলক্ষে দুবাই ভ্রমণে বিমান সংস্থা এমিরেটসও প্রচুর আয় করবে। ইতিমধ্যে দুবাইয়ে ভ্রমণকারীর সংখ্যাও বাড়ছে। দুবাই শুধু বাণিজ্যিক হাবই নয়, বরং পর্যটক আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু দুবাই শহরে প্রতিবছর প্রচুর লোক ভ্রমণ করে থাকে। দুবাই যাতায়াতকারীদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। দুবাই হয়ে অন্যান্য গন্তব্যে যাওয়া যাত্রীদের এক হিসাবে দেখা যায়, ২০১৯ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) ২ কোটি ২২ লাখ ৩০ হাজার ৮১৯ জন যাত্রীকে স্বাগত জানিয়েছে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর। প্রতি মাসে ৭৪ লাখ ১০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেছেন সেখানে। বিমান বন্দরে কোনো হয়রানি নেই। স্মার্ট গেট ও অ্যাডভান্সড অপারেশন্স সেন্টারের সুবাদে ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমেছে ৩০ শতাংশ। বছরের প্রথম তিন মাসে দুবাই বিমান বন্দরে পাস হয়েছে ১ কোটি ৩৩ লাখ ব্যাগ।
