মেয়াদ বাড়ল আকরাম মুশফিক জার্গেনসেনদের

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৩, ২১:৫৯
দু’জনের জাতীয় দলে ভূমিকা দুই রকম, দু’জনের পরিপ্রেক্ষিতও এক ছিল না। তারপরও আকরাম খান ও মুশফিকুর রহিমের মধ্যে একটা মিল চাইলে খুঁজে বের করা সম্ভব। দায়িত্বের মেয়াদ শেষের ঠিক আগে আগে দু’জনই দায়িত্ব আর চালিয়ে যেতে অপরাগতা প্রকাশ করেছিলেন। দু’জনকে দু’ভাবে মত বদলানোয় রাজী করিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আর তারই ফল হিসেবে গতকাল ‘ম্যারাথন’ বৈঠক শেষে বিসিবি জানালো, ৩০ জুন শেষ হওয়া আকরাম খানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটির মেয়াদ আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক হিসেবে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে সবচেয়ে তাত্পর্যপূর্ণ ব্যাপার হল, ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে শুরু করা শেন জার্গেনসেনের চুক্তির মেয়াদ দু’বছর বাড়িয়ে ফেলেছে বিসিবি। গত নভেম্বর থেকে ভারপ্রাপ্ত থাকা জার্গেনসেনকে শ্রীলঙ্কা সফরে পূর্ণকালীন দায়িত্ব দেয়া হয়। এবার জানানো হল, ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোচ থাকবেন এই অস্ট্রেলিয়ান; এই চুক্তি এ বছরের ১ মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। এ ছাড়াও জুন মাসে মেয়াদ শেষ হওয়ায় অ্যানালাইসিস্ট নাসির আহমেদ নাসু এবং বাংলাদেশ দলের দক্ষিণ আফ্রিকান ফিজিওথেরাপিস্ট বিভব সিংয়ের চাকরির মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়েছে। তাদের এই মেয়াদ বৃদ্ধি ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। গতকালকের বহুল আলোচিত বিসিবি সভা খুব চাঞ্চল্যকর কোনো তথ্য বা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছে; এমন দাবি করা যাবে না। প্রায় ছয় ঘন্টা ধরে চলা এই বৈঠক কার্যত বিভিন্ন ধরনের মেয়াদ বাড়ানোর বৈঠক হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। আকরাম খানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে ৩০ জুন। সেই মেয়াদ শেষের আগেই আকরাম খান সিদ্ধান্ত নেন; প্রধান নির্বাচক হিসেবে দীর্ঘ মেয়াদে আর কাজ করবেন না। তার ইচ্ছেটা হল, আগামী নির্বাচনে বোর্ড পরিচালক হিসেবে আসতে চান। যেহেতু পরিচালক পদে নির্বাচন ও প্রধান নির্বাচক হিসেবে একইসঙ্গে থাকা যাবে না; তাই তিনি প্রধান নির্বাচকের ভূমিকাটা ছেড়ে দিতে চাইছিলেন। কিন্তু আপাতত আরও কমপক্ষে তিন মাস সে ভূমিকা তাকে পালন করেই যেতে হচ্ছে। জালাল ইউনুস বললেন, ‘প্রধান নির্বাচক আকরাম এবং বাকী দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশারের মেয়াদ আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।’ একইরকম বাড়ল মুশফিকদেরও মেয়াদ। সাকিব আল হাসান ২০১১ সালের জিম্বাবুয়ে সফরের পর দায়িত্ব হারানোর পর থেকে অধিনায়ক ছিলেন মুশফিক এবং সহ-অধিনায়কের তামিমের বদলে দায়িত্ব পান মাহমুদউল্লাহ। মুশফিক কার্যত এই প্রথম মেয়াদী দায়িত্ব পেলেন। এর আগে সিরিজ-বাই-সিরিজ পদ্ধতিতে অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক হিসেবে মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহকে দায়িত্ব দিয়ে এসেছে বিসিবি। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সফরের ভেতর দিয়ে শেষ হয়েছিল তাদের দায়িত্ব। তার আগেই জিম্বাবুয়ে সফরে খারাপ ফলের প্রতিক্রিয়া হিসেবে সেখানে বসেই পদত্যাগ করে বসেছিলেন মুশফিক। কাল জালাল ইউনুস বললেন, ‘এর মধ্যে তার সঙ্গে বোর্ড সভাপতির কথা হয়েছে। সে দায়িত্ব চালিয়ে যেতেই আগ্রহী।’ তাই মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ আরও ছয় মাস কমপক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন। অবশ্য এই সময়কালে দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ ছাড়া আর কিছু পাচ্ছেন না মুশফিকরা। সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব পেলেন জার্গেনসেন। তিনি প্রকৃতপক্ষে ছিলেন বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ। ২০১১ সালের নভেম্বরে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। এই সময়ে প্রথম স্টুয়ার্ট লকে, পরে রিচার্ড পাইবাসকে কোচ হিসেবে পেয়েছেন জার্গেনসেন। পাইবাস হঠাত্ চাকরি ছেড়ে দেয়ায় ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দলকে দারুণ সাফল্য এনে দেন এই অস্ট্রেলিয়ান। এরপর শ্রীলঙ্কায় পূর্ণাঙ্গ কোচ হিসেবে প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই ইতিহাস গড়া পারফরম্যান্স করে তার দল। পরে জিম্বাবুয়ে সফরে কিছু হতাশা এলেও জার্গেনসেনের ওপর বিশ্বাস রাখছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।