টেনিসের সবচেয়ে রাজকীয় টুর্নামেন্ট হিসেবে স্বীকৃত উইম্বলডনে ১০০ বছর ধরে বল সরবরাহ করে আসছে ব্রিটেনের বিখ্যাত ক্রীড়াপণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্লাজেঙ্গার। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটির ইংল্যান্ডের দক্ষিণ ইয়র্কশায়ারস্থ বার্নসলি শহরের কারখানায় তৈরি হওয়া বলগুলোই চলে আসতো উইম্বল্ডনে। কিন্তু ২০০০ সালে এ কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বলগুলো আসে ফিলিপাইনে প্রতিষ্ঠানের নতুন কারখানা থেকে। মজার ব্যাপার হচ্ছে সামপ্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, তৈরির প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করে অল ইংল্যান্ড ক্লাবের সেন্টার কোর্টে আসতে বলগুলোকে অতিক্রম করতে হয় চারটি মহাদেশের ১১টি দেশ। পাড়ি ৫০ হাজার মাইলেরও বেশি দূরত্ব !
ওয়ারউইক বিজনেস স্কুলের এক গবেষণায় এ তথ্য খুঁজে পাওয়ার পর বিস্ময় লুকাতে পারছেন না প্রতিষ্ঠানটির কার্যব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ মার্ক জনসনও। গবেষণার পরিচালক জনসন বলেন, ‘একটি টেনিস বল তৈরির জন্য ৫০,০০০ মাইলের বেশি দূরত্ব অতিক্রম; শুনতে হাস্যকরই লাগবে। কিন্তু এটি আসলে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পণ্য উত্পাদনের প্রকৃত চিত্রটাই তুলে ধরে। সবশেষে এটি মানতেই হবে, ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে টেনিস বল উত্পাদনের এটাই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।’ গবেষণায় দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ ইয়র্কশায়ারের বার্নসলি শহর থেকে স্লাজেঙ্গারের কারখানা ফিলিপাইনের বাটানে স্থানান্তর হওয়ার পর নতুন কারখানা থেকে রজার ফেদেরার, অ্যান্ডি মারেদের হাতে আসার আগে বলগুলো অতিক্রম করে ৬,৬৬০ মাইল পথ। আর তৈরি হওয়ার আগে প্রদক্ষিণ করে চারটি মহাদেশের ১১ টি দেশ।
বল তৈরির অন্যতম উপাদান মাটি আসে আমেরিকার দক্ষিণ আমেরিকা থেকে। এছাড়া গ্রীস থেকে সিলিকা, জাপান থেকে ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেট, থাইল্যান্ড থেকে জিঙ্ক অক্সাইড, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে গন্ধক আর মূল উপাদান রাবার সরবরাহ করে মালয়েশিয়া। মূল কাঠামো গঠনের পর বাকি রইলো বলের উপরের আবরণ তৈরির কাজ। এক্ষেত্রে মূল উপাদান তুলা তৈরির প্রধান কাঁচামাল পশম নিউজিল্যান্ড থেকে আসে গ্লুস্টারশায়ারের স্ট্রাউডে। সেখানে পশম বুনে তুলা তৈরির পর সেই তুলা আবার উড়ে যায় বাটানে।
এখানেই শেষ নয়। বল প্রস্তুতের রাসায়নিক উপাদান পেট্রোলিয়াম ন্যাপথালিন মেলে চীনের জিবো থেকে আর গাম আসে ফিলিপাইনের বাসিলান শহর থেকে। এগুলোও চলে যায় বাটানে। এই সবকিছুর সংমিশ্রণে সেখানে স্লাজেঙ্গার কর্মীরা তৈরি করেন বলগুলো।
পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে নিয়ে আসা এই কাঁচামালগুলোই স্লাজেঙ্গারের বলের মান নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানালেন জনসন। আর উত্পাদন খরচ কমাতে ফিলিপাইনে শ্রমের কম দামও পালন করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
জনসন বলেন, ‘স্লাজেঙ্গার যে টেনিস বলগুলো তৈরি করে সেখানে কাঁচামালগুলোর নিখুঁত সংমিশ্রণ ঘটে। আর ফিলিপাইনের নিম্ন মূল্যের শ্রম বাজারও খরচ কমাতে বড় ভূমিকা রাখে।’
অল ইংল্যান্ড ক্লাব মাঠ কিংবা দুনিয়া জুড়ে টেলিভিশন পর্দার সামনে বসে ক্রীড়ামোদীরা যখন বিভোর হয়ে সেরেনা-মারেদের লড়াই দেখেন, তখন ক’জনই বা জানেন বলটির পেছনে কত দেশের কত মানুষের অবদান জড়িত।
-দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে।
