চলতি মৌসুমের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আদৌ হবে কিনা এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করার লোক নিতান্ত কম নেই। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মাস পার হয়ে গেছে, বর্ষা মৌসুম চলে এসেছে। তারপরও প্রিমিয়ার লিগ শুরু হচ্ছে না। সর্বশেষ যে দলবদল ও লিগ শুরুর তারিখ ঘোষণা হয়েছিল, তা পিছিয়েছিল আকসু রিপোর্টের কারণে। অবশেষে আইসিসি সভার পর ঢাকায় ফিরে বোর্ড সভাপতি বলেছিলেন, লিগ এখন দ্রুত শুরু হবে। সেই দ্রুত মানেও কাল জানা গেল, আগামী আগস্ট মাসের শেষে শুরু হবে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ! কাল বোর্ড মিটিং শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ও ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশ (সিসিডিএম) চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস জানালেন, আগামী ২৯ আগস্ট থেকে লিগ শুরু হবে এবং চলতি জুলাই মাসের ২৫ তারিখ হবে দলবদল। দলবদলের এক মাসেরও বেশি সময় পরে গিয়ে লিগ শুরুর কারণ ব্যাখ্যা করে জালাল ইউনুস বললেন, ‘বাংলাদেশ-এ, অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিভিন্ন সফরের জন্য এই সময়ে আমরা বেশকিছু খেলোয়াড়কে পাবো না। তারা সবাই আগস্টের ২৯ তারিখের আগে ঢাকায় থাকবে। তাই ওই সময় লিগ হবে।’ সেই মার্চ মাস থেকে শুরু হয়েছে প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে এই কাণ্ড—আজ না, কাল। প্রথমে জাতীয় দলসহ বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের খেলা থাকায় ক্লাবগুলো রাজী হয়নি। এরপর সমস্যা হল, ক্লাবগুলোর চাপে এবার খেলোয়াড়দের উন্মুক্ত দলবদল বন্ধ করে গ্রেডিং চালু করা হল এবং লটারির মাধ্যমে দলবদল ঠিক করা হল। তাতে আবার খেলোয়াড়রা ধর্মঘটের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরে আলোচনায় সে সমস্যার সমাধান হয়েছে। কাল জালাল ইউনুস তাই বললেন, ‘গ্রেডিং ও লটারি পদ্ধতিতেই এ বছর দলবদল হবে। আর এই পদ্ধতিতে যেহেতু হবে, তাই একদিনেই সেটা শেষ করা হবে।’ সর্বশেষ লিগ নিয়ে শঙ্কাটা বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন নিজেই তৈরি করে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বিপিএল নিয়ে যে তদন্ত চলছে, তার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তিনি দলবদল বা লিগ শুরুর পক্ষে না। কারণ, যেসব খেলোয়াড়ের দলবদল হবে, তাদের কারো নাম যদি রিপোর্টে থাকে? এক্ষেত্রে সমাধানটা কী হবে, তাও জালাল ইউনুস বলে দিলেন, ‘আমরা ক্লাবগুলোকে পরিস্থিতিটা জানিয়ে রেখেছি। লিগ চলা অবস্থায় বা দলবদল হয়ে গেলে কোনো খেলোয়াড়ের নাম রিপোর্টে এলে তাকে বদলে ফেলার একটা সুযোগ পাবে সংশ্লিষ্ট ক্লাব।’
