চাপ সইতে না পেরে প্রবাসী ফুটবলার আনন্দ ক্যাম্প ছাড়লেন

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৩, ২২:০৬
সাফ চ্যাম্পিয়নশীপের জন্য ঘোষিত জাতীয় ফুটবল দলের প্রাথমিক তালিকায় ঠাঁই পাওয়াদের অন্যতম অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী ২০ বছর বয়সী আনন্দ রহমান দৃশ্যত চাপ সইতে না পেরে ট্রায়াল শেষ না করেই চলে গেছেন। আগামীকাল শুক্রবার ভোরে জাতীয় দলের ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ আসার আগেই এ ঘটনা ঘটলো। নেপালে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় দক্ষিণ এশিয়ার সবচাইতে বড় ফুটবল টুর্নামেন্টটির প্রস্তুতি নিতে তিনজন প্রবাসী বাঙালি ফুটবলারকে ডাকা হয়েছিল। এদের মধ্যে দুইজন ঢাকায় এসেছিলেন। দু’জনের মধ্যে আনন্দ চলে যাওয়ায় এখন থাকলেন শুধু ডেনমার্ক প্রবাসী ফুটবলার জামাল ভুঁইয়া। গতকাল সকালে যখন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অন্যান্য ফুটবলার অনুশীলনে ব্যস্ত সেসময় রুমে ব্যাগ গোছাচ্ছিলেন আনন্দ রহমান। জানা গেছে, আনন্দ ফিটনেস ট্রেনিংয়ের চাপ নিতে পারেননি। শরীর ক্লান্ত হয়ে গেছে। দুর্বল হয়ে পড়েছেন তিনি। তার নাক দিয়ে রক্ত ঝরার কথাও শোনা গেছে। সেই সাথে এদেশের আবহাওয়ার সাথেও মানিয়ে নিতে পারেননি তিনি। আনন্দের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কারণ বাফুফে থেকে তার কোনো নম্বর পাওয়া যায়নি। বাফুফের মিডিয়া ম্যানেজার আশিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা আনন্দ রহমানের ফোন বন্ধ পাচ্ছি।’ প্রবাসী ফুটবলাররা আসায় তাদের উপর একটা আলাদা নজর ছিল। আশা করা হয়েছিল তারা দেশি ফুটবলারদের সাথে লড়াই করে নিজেদের জায়গা করে নেবেন। ঢাকায় এসে আনন্দ জানিয়েছিলেন সামর্থ্য দিয়ে জায়গা করে নেবেন। কিন্তু দুই দিনের অনুশীলনেই তিনি মাঠ ছেড়ে যাবেন তা ছিল অপ্রত্যাশিত। সিডনী প্রবাসী আনন্দ ৩০ জুন ঢাকায় আসেন। পরদিন ঢাকায় এসে ডাচ ফিটনেস কোচ ইয়াম আলী মোহাম্মেদ খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে কাজ শুরু করেন। জাতীয় দলের ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ সুপার কাপ ফুটবল দেখে খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে হতাশ হওয়ায় এই ফিটনেস কোচকে পাঠান। বাংলাদেশের ফুটবলারদের ফিটনেস বাড়ানোর জন্য আসা ইয়াম আলী নিজেও আছেন ট্রায়ালের মধ্যেই। কিন্তু তার অধীনে দুই দিন কাজ করার পরই ভেঙ্গে পড়লেন জাতীয় ফুটবল দলে খেলার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় আসা আনন্দ রহমান। মাত্র দু’টি সেশনের চাপ নিতে পারলেন না তিনি। ক্রুইফের সহকারী রেনে কেস্তারের সাথে কথা বলে ক্যাম্প ছেড়ে চলে গেছেন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলার দাবি করা ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার। তার চলে যাওয়ায় বাফুফে ভবনের ক্যাম্পে থাকা অন্য খেলোয়াড়রা একটু হতবাকই হয়েছেন। কারণ আনন্দ ঢাকায় এসে জানিয়েছিলেন তিনি সিডনীতে দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবলে খেলেন। ২৪ ম্যাচে তার গোল আছে নয়টি। তাহলে এই ছেলে কিভাবে ফিটনেস সেশনের চাপ সইতে পারলেন না। দলের কয়েক জন ফুটবলার কঠিন চাপ মনে করলেও বাদবাকিদের কাছে ডাচ ফিটনেস কোচের তালিম ভালো লাগছে। জাতীয় দলের ষ্ট্রাইকার শাখাওয়াত হোসেন রনি বললেন, ‘কষ্ট হলেও আমার কাছে ভালো লাগছে ফিটনেস সেশন।’ জাতীয় দলের ম্যানেজার ইকবাল হোসেন খেলোয়াড়টির চলে যাওয়া প্রসঙ্গে জানান সে কোচের সাথে কথা বলে চলে গেছে। আর আসবে না। আসতে চাইলেও সুস্থ হয়ে তার পক্ষে জাতীয় দলে টেকাটা কঠিন হয়ে যাবে। কারণ ততক্ষণে চূড়ান্ত দল হয়ে যাবে। এদিকে জাতীয় দলের ডিফেন্ডার লিংকন গতকাল সকালে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পানিশূন্যতায় ভুগছিলেন এই ফুটবলার। তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। স্যালাইন দিয়ে কিছু শারীরিক পরীক্ষা দেয়া হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় লিংকনের ক্যাম্পে ফেরার কথা।