আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে শিরোপা জয় করা ভারতীয় ক্রিকেট দলকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে এক উইকেটে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে মাথা তুলেই দাঁড়াতে পারলো না বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। দুই শ্রীলঙ্কান ওপেনার উপল থারাঙ্গা ও মাহেলা জয়াবর্ধনের দাপুটে ব্যাটিংয়ের কল্যাণে রানের ১৬১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারলো ভারত। সাথে বোনাস পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে থাকলো লঙ্কানরা।
শ্রীলঙ্কার এই দলটাকে যতোটা প্রতিভাধর বলা হচ্ছিল, তার প্রমাণ তারা রাখতে পারছিল না। বিশেষ করে দুই কিংবদন্তী জয়াবর্ধনে ও সাঙ্গাকারা ছাড়া দলে তেমন কোনো পারফরম্যান্স ছিল না। কাল মাহেলা জয়াবর্ধনেও সেঞ্চুরি করলেন। কিন্তু ভারতে শ্রীলঙ্কার রুদ্রমূর্তি দেখিয়ে দিলেন আসলে উপল থারাঙ্গা। জয়াবর্ধনের ১০৭ রানের সঙ্গে থারাঙ্গার ১৭৪ রানের ইনিংসে চাপা পড়ে মাত্রই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হারা ভারত জ্যামাইকায় ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে শ্রীলঙ্কার কাছে হারল ১৬১ রানের বিশাল ব্যবধানে।
উদ্বোধনী জুটিতে থারাঙ্গা-জয়াবর্ধনের ২১৩ রানই আসলে জয়ের পথে নিয়ে যায় শ্রীলঙ্কাকে। তবে দুই ওপেনারই সেঞ্চুরির আগে আউট হয়ে যেতে পারতেন। উমেশ যাদবের হাত থেকে উপল থারাঙ্গার ক্যাচ পড়েছিল ৯১ রানে। শেষপর্যন্ত ১৭৪ রানে অপরাজিতই রয়ে গেলেন থারাঙ্গা। ২৫ রানে মাহেলা জয়াবর্ধনের ক্যাচ ফেলেছিলেন মুরালি বিজয়। সেই জয়াবর্ধনে যখন আউট হলেন, তখন তার নামের পাশে ১০৭ রান! শ্রীলঙ্কান দুই ওপেনারের ক্যাচ ফেলার সাজাটাও পেল ভারত। কিংস্টনে প্রথম ইনিংস শেষে বিরাট কোহলির দলের সামনে ৩৪৯ রানের বিশাল লক্ষ্য।
ভারতের নতুন বলের বোলাররা হাসি ফোটাতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক বিরাট কোহলির মুখে। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কান ওপেনাররা দলকে দিলেন শক্ত ভিত্তি। ওই একটা ক্যাচের সুযোগ বাদ দিলে গত ম্যাচে ফিফটি করা জয়াবর্ধনে এদিনও নিজের মতো দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং করেছেন।
দলীয় ২১৩ রানে জয়াবর্ধনে আউট হওয়ার আগে থারাঙ্গাকে সঙ্গে নিয়ে গড়েছেন ভারতের বিপক্ষে প্রথম উইকেট জুটিতে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড। ততক্ষণে ওয়ানডেতে ব্যক্তিগত পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া হয়ে গেছে থারাঙ্গারও। দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের সঙ্গে ১৩৫ রানের জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কাকে এনে দিয়েছেন বড় সংগ্রহ। একদিনের ক্রিকেটে নিজের সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেছেন থারাঙ্গা ১৯ চার আর ৩ ছক্কায়। ৪৪ রানে অপরাজিত ছিলেন ম্যাথুস।
জবাবে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা খেই খুঁজে পায়নি। একমাত্র রবীন্দ্র জাদেজা ৪৯ রান করেছেন; সেটা বালির বাঁধের চেয়েও দুর্বল প্রতিরোধ ছিল। রঙ্গনা হেরাথ ৩টি এবং সেনানায়েকে ও মালিঙ্গা ২টি করে উইকেট নিয়ে ৪৪.৫ ওভারে ১৮৭ রানে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন ভারতীয় ইনিংস।
