অভিনেত্রী মিতা নূরেরই ঘনিষ্ঠ দুই জনের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন তার স্বামী শাহনূর রহমান রানা। বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নিতে পারেননি স্বামী ভক্ত মিতা নূর। স্বামীর এই অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বহুবার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি। এতোকিছুর পরও চাইতেন স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে তার সংসার টিকিয়ে রাখতে। কিন্তু শেষমেষ অভিমান করে নিজের জীবনের ইতি টানলেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। গতকাল বুধবার মিতা নূরের বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানা গেছে।
এদিকে, শাহনূর রহমান রানা গত রাতে ইত্তেফাককে বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে তার চমত্কার সম্পর্ক ছিল। মিতা তাকে প্রচণ্ড ভালবাসতেন। তাকে ছেড়ে এভাবে মিতা চলে যাবে তা তিনি কখনোই ভাবতে পারেননি। মিতার কোন আত্মীয় কিংবা ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর সঙ্গে তার কোন পরকীয়া প্রেম ছিল না বলে রানা জানান।
মিতা নূরের এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী বলেন, স্বামীর পরকীয়া প্রেম, এর প্রতিবাদ করায় নির্যাতন এবং দাম্পত্য কলহের কথা মিতা তাকে প্রায়ই বলতেন। অসহায় মানুষের জন্য কাজ করে এমন সংস্থা মানব কল্যাণ সোসাইটির সঙ্গে প্রায় দুই বছর ধরে জড়িত তিনি। কোন অনুষ্ঠানে স্বামীর পছন্দের খাবার দিলে তিনি সেটা তার জন্য নিয়ে যেতেন। দুই বছর আগে স্বামীর নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন মিতা নূর। ওই বার স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়ে রক্ষা পান রানা। আর কখনও স্ত্রীকে নির্যাতন ও অন্য মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন না এমন কথা দেন স্ত্রীকে। স্বামীর কথা বিশ্বাস করে মামলা তুলে নেন মিতা নূর। কিন্তু মাস খানেক পর আবারো আগের মতোই স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেন রানা। রানা মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে মিতা নূরকে পেটাতেন।
জানা গেছে, মাঝে মাঝে ফোন করে মিতা তার বান্ধবীদের বলতেন তাকে দেখে যাওয়ার জন্য। সর্বশেষ গত শনিবার এক বান্ধবীকে ফোন করে বাসায় যাওয়ার অনুরোধ করেন মিতা।
মিতা নূরের অন্য একজন বান্ধবী বলেন, মিতা নূর ছিলেন অসাধারণ মেয়ে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এ ধরনের মেয়ে পাওয়া কঠিন। গত ৫ জানুয়ারি ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধ ও মিডিয়ার ভূমিকা শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মিতা নূর। ওই অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ছিলেন প্রধান অতিথি। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে যান তিনি। আগের রাতে স্বামী তাকে মারধর ও নির্যাতন করায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানান মিতা নূরের ওই বান্ধবী।
মিতা নূরের বান্ধবী ও ঘনিষ্ঠজনদের মতে, মিতা আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে। এর আগে তিনি স্বামীর সঙ্গে আলাদা হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তার বড় ছেলে অনুরোধ করেন এই ধরনের সিদ্ধান্ত না নিতে। পরে সিদ্ধান্ত বদলান মিতা নূর।
জানা গেছে, মানব কল্যাণ সোসাইটির সহসভাপতি মিতা নূর মাসখানেক আগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী আমতলা হঠাত্পাড়ায় একটি দরিদ্র পরিবারকে ঘর তৈরি করে দিয়েছিলেন।
গত মঙ্গলবার মানব কল্যাণ সোসাইটির মতিঝিল দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকার কার্যালয়ে মিতা নূরের মৃত্যুতে এক শোকসভার আয়োজন করা হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন সোসাইটির উপদেষ্টা ও ভেজাল বিরোধী অভিযানের আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট রোকন উদ-দৌলা, সভাপতি মিসেস রোকসানা হোসাইন, সহ-সভাপতি প্রফেসর নুরজাহান বেগম, সহ-সভাপতি মৌমিতা রহমান, সহ-সভাপতি এডভোকেট এসকে সিকদার, সহ-সভাপতি এমএ মুহিত ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আতাউল্লাহ খান। মিতা নূরের অস্বাভাবিক মৃত্যুর জন্য কেউ প্ররোচণা দিলে তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আহবান জানানো হয় সভায়।
