জয়পুর মাতিয়ে ফিরলেন জাহানারা

আপডেট : ১২ মে ২০১৯, ২১:১৪

আইপিএলে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। ২০০৮ সালের ওই আসরে রাজ্জাক খেলতে পেরেছিলেন মাত্র একটি ম্যাচ। এবার ভারতের আয়োজিত নারী ক্রিকেটারদের টি-২০ লিগে প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন জাহানারা আলম। রাজ্জাকের মতো ব্রাত্য হয়ে থাকতে হয়নি জাহানারাকে। বরং ভারতের উইমেন্স টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ মাতিয়েছেন বাংলাদেশের এই নারী ক্রিকেটার।

গত শনিবার রাতে ভারতের জয়পুরে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভেলোসিটির হয়ে বল হাতে জাহানারা নজর কেড়েছেন সবার। দল হারলেও তার দুর্দান্ত বোলিং প্রশংসা কেড়েছে। ৪ ওভারে ২১ রানে দুই উইকেট নিয়েছেন ডানহাতি এই পেসার। ফাইনালে তার করা একটি বল মর্যাদা পাচ্ছে, উইমেন্স টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জের ‘সেরা বলের’।

প্রথম ম্যাচে ৪ ওভারে ৩৪ রান দিলেও জাহানারার উপর আস্থা রেখেছে ভেলোসিটির টিম ম্যানেজমেন্ট। ফাইনালেও তাকে একাদশে রাখা হয়। আগে ব্যাট করে ছয় উইকেটে ১২১ রানের পুঁজি গড়ে ভেলোসিটি। রান তাড়া করতে নেমে শিরোপা জয়ী সুপারনোভাস ৫৩ রানে তিন উইকেট হারায়।

নিজের প্রথম ওভারে ১ রান দেন জাহানারা। প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনে আঘাত হানেন তিনি নিজের দ্বিতীয় ওভারে। ১২তম ওভারে নাটালি শিভারকে বোল্ড করেন তিনি। নিজের পরের ওভারে সোফি ডিভাইনকে বোল্ড করেন বাংলাদেশের এই পেস বোলিং সেনসেশন। ব্যাটের ফেস ওপেন করে বলটা স্লিপ দিয়ে পাঠাতে চেয়েছিলেন ডিভাইন। কিন্তু জাহানারার বলটা তার ব্যাটকে ফাঁকি দেয় কিছুটা সুইং করে এবং অফ স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলে। অনেকটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন ডিভাইন। জাহানারার এই বলটাকেই বলা হচ্ছে, আসরের সেরা বল।

এদিকে শনিবার রাতে ফাইনাল খেলে গতকাল সকালেই দেশের বিমান ধরেন জাহানারা। সকাল সাতটার ফ্লাইটে জয়পুর থেকে কলকাতা হয়ে বিকাল তিনটায় ঢাকায় পৌঁছান তিনি। ফাইনালে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘খুব ভালো লাগছে এমন পারফরম্যান্স করতে পেরে। দল জিতলে বাড়তি আনন্দ যোগ হতো। ৮ বছর ধরে বাংলাদেশের হয়ে খেলছি। এবার নতুন একটা মঞ্চে খেললাম। আশা করি, আগামীবারও খেলব। বড় মঞ্চ থেকে অনেক অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরেছি। যা সামনে খুব কাজে দেবে।’ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর হয়ে আজ মোহামেডানের বিরুদ্ধে খেলতেই দ্রুত দেশে ফিরলেন জাহানারা। প্রিমিয়ার লিগের মাঝপথেই আমন্ত্রণ পেয়ে ভারতে টি-২০ খেলতে গিয়েছিলেন তিনি।

ফাইনালের পর মাঠে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জাহানারা বলেছিলেন, ‘একজন পেসার হিসেবে আমার জন্য বেশ আনন্দের ব্যাপার এটি। হ্যাঁ, হয়তো আরো ভালো করতে পারতাম আমি। তবে আমি মনে করি পরেরবার সুযোগ পেলে আরো ভালো করতে পারবো।’

প্রথম ৩ ওভারে ৮ রান দিয়ে দুই উইকেট নিয়েছেন। শেষ ওভারে ১৩ রান দেন তিনি। তারপরও ম্যাচে ভেলোসিটির সেরা বোলার ছিলেন বাংলাদেশের এই পেসার। নিজের বোলিং নিয়ে জাহানারা বলেছেন, ‘আমার মূল লক্ষ্য ছিলো যত বেশি ডট বল করা যায়। আমি এটার দিকেই মনযোগী ছিলাম এবং দুই উইকেট পেয়ে গেলাম। এজন্য আমি বেশ খুশি ছিলাম। কারণ ঐ সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে ছিল।’