অ্যাথলেটিকসকে বাদ দিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

আপডেট : ১২ মে ২০১৯, ২১:১৯

স্পোর্টস রিপোর্টার

ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তৃণমূল হতে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বাছাই করে যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সেখানে অ্যাথলেটিকসের স্থান হয়নি। গোটা দুনিয়ায় অ্যাথলেটিকস হচ্ছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় একটি খেলা। যেটাকে বলা হয় মাদার অব গেম।

দেশের খেলাধুলার সবচেয়ে বড় ভিত এটা। যে দেশে অ্যাথলেটিকস নেই সেই দেশের খেলোয়াড়রাও কোনো দিন উন্নতি করতে পারে না। সব খেলাধুলার মূলে শক্ত শিকড়ের নাম অ্যাথলেটিকস। সেটাকেই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গুরুত্ব দেয়নি।

যাদের হাতে ডিসিপ্লিন নির্ধারণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল তারাই নাকি অ্যাথলেটিকস উপেক্ষা করেছেন। বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য রাখা হয়েছে শ্যূটিং, আরচারি, কাবাডি, বাস্কেটবল, ভলিবল, ভারোত্তোলন, কারাতে, উশু, হ্যান্ডবল, টেনিস, বাস্কেটবল, সাইক্লিং, সাঁতার ও তায়কোয়ানডো।

এই ১৩টি খেলাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য রাখতে গিয়ে ছেটে ফেলা হয়েছে অ্যাথলেটিকস সহ দেশের একাধিক সম্ভাবনাময় খেলাকে। যুব ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তে হতাশ হয়েছে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা হতাশ হয়েছি। কেন কি কারণে অ্যাথলেটিকসকে বাদ দেয়া হলো। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে চিঠি দিয়েছে। আমরা আশাবাদী এটা পুনর্বিবেচনা করা হবে। আমরা এডহক কমিটিতে থেকেও যে কাজ করেছি তা অবশ্যই সবার জানা। এডহক কমিটিতে থেকেও এতো কাজ কমই হয়। দেশের অ্যাথলেটিকসে এগিয়ে নিতে আমরা নানামুখি উদ্যোগ নিয়েছি। এসএ গেমসের জন্য প্রশিক্ষণ চালিয়ে নিচ্ছি। অথচ এই মুহূর্তে এমন একটি খবর আমাদের জন্যই নয় দেশের অ্যাথলেটিকসের জন্য খুবই হতাশার।’

অ্যাথলেটিকসে বাদ দেয়ার বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘বিষয়টা আমার চোখেও পড়েছে। এই তালিকাটি আমরা তৈরি করিনি। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিষয়টি আমার সময়ের নয়। এটি শুরু হয়েছিল আগের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সময়ে।’

জাহিদ আহসান রাসেল অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনকে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘অ্যাথলেটিকসের বিষয়ে আমি বলবো এটি থাকা উচিত ছিল। কারণ এটা মাদার অব অল স্পোর্টস। দেখি এখনো সময় আছে তালিকাটা নতুন করে তৈরির। আরো দুই একটি খেলা আছে সব কিছু নিয়েই আলোচনা করবো।’

কোনো সম্ভাবনা নেই, অজনপ্রিয়, এমন খেলা বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে। অথচ বক্সিং এশিয়ান গেমসে পদক পেয়েছিল সেই খেলাটি নেই। দাবার সম্ভাবনা থাকার পরও রাখা হয়নি দাবা খেলা।

ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ২০১৫ সালে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি শুরু করেছিল। মাঝে বন্ধ থাকলেও সেটি আবার শুরু করার উদোগ নেয়া হয়েছে। জুলাইয়ে প্রশিক্ষণ শুরু হবে বলে জানা গেছে। ফেডারেশনগুলোকে বাজেট দিয়ে দেবে তারা প্রশিক্ষণ শুরু করবে।