আব্দুল আলিম, ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে মানিকপুরসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের ৩ শতাধিক পরিবার বাড়ি ও বিভিন্ন টিলায় গড়ে উঠেছে লিচুর বাগান। বর্তমান সময়ে উত্পাদিত লিচু বাজারজাতকরণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চাষিরা।
ছাতক শহর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে নোয়ারাই ইউনিয়নের চৌমুহনীবাজার। এ পথ ধরে একটু এগোলেই চোখে পড়বে মানিকপুর গ্রামের লিচু বাগানগুলো। সরেজমিনে নোয়ারাই ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের বিভিন্ন লিচু বাগান ও বাড়িতে গিয়ে বাগান মালিকদের সাথে আলাপকালে লিচু চাষের তাদের সম্ভাবনা ও সমস্যার কথা জানা যায়। নোয়ারাই ইউনিয়নের মানিকপুর ছাড়াও কচুদাইড়, বড়গল্লা, চাঁনপুর, উলুরগাঁও, গোদাবাড়ি গ্রামে রয়েছে লিচু বাগান। এখান থেকে লিচু চাষ ছড়িয়ে পড়েছে দোয়ারার লামাসানিয়াসহ ক’টি গ্রামে। তবে মানিকপুর লিচুর গ্রাম হিসেবেই পরিচিতি লাভ করেছে।
লিচু চাষের সাথে জড়িত মানিকপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান, ডা. মমিন, আরব আলী, জয়নাল আবেদীন, রইছ মিয়া, রবি মিয়া, শওকত আলী, শকুর আলী, গোদাবাড়ি গ্রামের ফরিদ মিয়া, চাঁনপুর গ্রামের আছাব আলী, বড়গল্লা গ্রামের আব্দুস সালামসহ লোকজন জানান, শ্রম ও পরিচর্যার কারণে এখানে লিচুর ফলনও আশানুরূপ হচ্ছে। কিন্তু লিচু পাকা শুরু হলেই বাদুড়, কটা, চামচিকা জাতীয় পাখির কারণে লিচুর ক্ষতি হয়। এসব পাখির উপদ্রব থেকে পাকা লিচু রক্ষা করতে চাষিদের বিভিন্ন স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহারসহ রাত জেগে পাহারা দিতে হচ্ছে। তারা জানান, অনুন্নত যোগাযোগের কারণে উত্পাদিত লিচু বাজার মূল্যের তুলনায় কম মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। এ বছর বিদ্যুত্ সুবিধা হয়েছে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা হলে এলাকায় লিচু চাষে আরো লোকজন আগ্রহী হয়ে উঠবে।
ছাতক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খাঁন জানান, মানিকপুর গ্রামসহ আশপাশ এলাকার মাটি লিচু চাষের উপযোগী। এখানের উত্পাদিত লিচু অত্যন্ত সুস্বাদু। কৃষি অধিদপ্তর থেকে লিচু উত্পাদনের ক্ষেত্রে চাষিদের যাবতীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা আমরা দিয়ে যাচ্ছি। বিভিন্ন সময়ে সরকারিভাবে উন্নত জাতের লিচু গাছের চারা চাষিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
