টেকনাফে ভাইরাস জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

আপডেট : ১২ মে ২০১৯, ২১:৩৭

বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাও

 টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

কক্সবাজারের টেকনাফে ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে।

হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তাররা জানায়, ভাইরাসের পাশাপাশি ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত দাবদাহ এবং পরিবর্তনশীল জলবায়ুর প্রভাবে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এই বছর ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন বেশিরভাগ মানুষ। শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্করাও ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। ভাইরাসের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত পাবলিক স্কুলগুলোতে ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতিতে পর্যন্ত প্রভাব পড়েছে। তীব্র এই গরমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই বলে জানান চিকিত্সকরা। 

উপজেলার হ্নীলা উপ-স্বাস্থকেন্দ্রের ইনচার্জ ডা. শংকর চন্দ্র দেবনাথ এবং ডাক্তার আজাদ মো. নুরুল হোছাইন জানান,  রোগী দেখতে দেখতে আমরা নিজেরাও গত তিনদিন ধরে ভাইরাস জ্বর এবং প্রচণ্ড মাথা ব্যথায় ভুগছি। মাত্রাতিরিক্ত গরমে চলাচল করাই মুশকিল জানিয়ে তারা বলেন, তীব্র দাবদাহের কবলে পড়ে মানুষ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন।

উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা মাওলানা মোহাম্মদ হোছাইন বলেন, গত দুদিন ধরে টেকনাফ সদর হাসপাতালে ভর্তি আছি। তিনি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মাথা ব্যথা এবং জ্বরে একেবারে কাবু হয়ে চিকিত্সা নিচ্ছেন বলে জানান। 

হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী গাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুর হোছাইন জানান, অসহনীয় ব্যথায় চলাচল পর্যন্ত করতে পারছি না। তিনি দুদিন ধরে সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বেশ কয়েকবার ডাক্তাররা পরিদর্শন করেছেন। তবে তিনি এখনো পর্যন্ত রোগ থেকে মোটেও উন্নতি লাভ করতে পারেননি।

সাবরাং বাহারছাড়া এলাকার শামসুল আলম ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হয়ে টেকনাফ উপজেলা হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আছেন তিনদিন ধরে। এছাড়া শাহপরীরদ্বীপ এলাকার বাসিন্দা কালো মিয়া ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনদিন ধরে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছেন। চিকিত্সা নিচ্ছেন কিন্তু ব্যথা এবং জ্বরের কবল থেকে রেহাই পাচ্ছেন না তিনি।

উপজেলার পাবলিক স্কুল হ্নীলা প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ মো. মোফাজ্জল হক জানান, ছাত্রছাত্রীরা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। গত সপ্তাহ থেকে টেকনাফে ভাইরাস রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে জানিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া বলেন, ‘আবহাওয়া পরিবর্তন, প্রচণ্ড গরম এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কারণে ভাইরাস জ্বরের পাশাপাশি ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।’

তিনি আরো জানান, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন এবং ঠিকমত বিশ্রাম নিলেই ৫-৭ দিনের মধ্যে ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা সুস্থ হয়ে উঠবেন।