ডালমিয়ার এ কী কথা!

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৩, ২২:০৫
আমরা কারো কাছ থেকে ম্যাচ কেড়ে নিতে চাইছি না। সেটা আগে বুঝতে হবে। আমরা বরং বাংলাদেশকে সাহায্যই করতে চাই। বাংলাদেশে যদি সমস্যা না মেটে, তাহলে আমরা কয়েকটা ম্যাচ আয়োজন করে ওদের সাহায্য করারই চেষ্টা করবো।  সাবেক আইসিসি সভাপতি ও কয়েক দফার সাবেক ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি জগমোহন ডালমিয়া আবার ভারতীয় বোর্ডের দায়িত্ব পাওয়ার পরদিন একটি ভারতীয় পত্রিকা শিরোনাম করেছিল—জগ্গুদাদা ব্যাক; গেম ইস অন। ভারতীয় ক্রিকেটে এই প্রবীণ, নিন্দিত-নন্দিত ধুরন্ধর ক্রিকেট রাজনীতিবিদ কী কী ‘গেম’ খেলবেন; সেটা এখনও বোঝা যাচ্ছে না। তবে বাংলাদেশকে নিয়ে একটা খেলা ডালমিয়া শুরু করে দিলেন। সবাইকে তাজ্জব করে দিয়ে তিনি ভারতের একটি বাংলা পত্রিকাকে বলেছেন, আগামী বছর বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অংশ বিশেষ বা পুরোটা ভারতে চলে যেতে পারে! আর সেটা নাকি হতে পারে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিবেচনায়। একেবারেই আকাশ থেকে পড়ার মতো এই কথা শুনে তাজ্জব বাংলাদেশের ক্রিকেট কর্মকর্তারা। বাংলাদেশে ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে কিছুটা শঙ্কা আছে; সেটা কোনোভাবেই নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কিছু নয়। নির্মাণ ও সংস্কার কাজের ধীরগতি নিয়ে কিছুটা অসন্তুষ্ট আইসিসি। সে অসন্তোষের পরও বাংলাদেশের বিকল্প কোনো আয়োজক তারা খোঁজ করছে না বলেই জানা গেছে। এর মধ্যে ডালমিয়া এই কথা কোথায় পেলেন, এটা নিয়েই বিস্মিত সবাই। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বললেন, ‘উনি (ডালমিয়া) ঠিক কী প্রসঙ্গে, কোন অবস্থায় কী কী বলেছেন, তা এখনও আমরা জানি না, তাই এই কথার আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানো কঠিন। তবে আমরা এটুকু নিশ্চিত করতে পারি যে, নির্মাণ ও সংস্কার নিয়ে আইসিসি যে ডেটলাইন বেধে দিয়েছে, সে সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ব্যাপারে আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী। সেই সঙ্গে এটুকু বলতে পারি যে, আইসিসি সভায় আমাদের পরিকল্পনার ওপর আস্থাই রাখা হয়েছে।’ সমস্যা হল, ডালমিয়া এই নির্মাণ ও সংস্কার প্রসঙ্গই আলোচনায় আনেননি। তিনি ‘বাংলাদেশকে’ সহযোগিতা করতে চান বলে দাবি করে বলেছেন, বাংলাদেশে ‘সমস্যা না মিটলে’ তিনি কয়েকটা বা পুরো বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চান। পত্রিকাটিকে ডালমিয়া বলেছেন, ‘আমরা কারো কাছ থেকে ম্যাচ কেড়ে নিতে চাইছি না। সেটা আগে বুঝতে হবে। আমরা বরং বাংলাদেশকে সাহায্যই করতে চাই। বাংলাদেশে যদি সমস্যা না মেটে, তাহলে আমরা কয়েকটা ম্যাচ আয়োজন করে ওদের সাহায্য করারই চেষ্টা করবো।’ এরপরই আবার বিসিসিআইয়ের এই ‘আপদকালীন সভাপতি’ বলেছেন, পুরো বিশ্বকাপও ভারতে চলে আসার সম্ভাবনা আছে! তিনি যুক্তি দিয়েছেন, ‘আর ছয় মাসের মতো বাকী (বিশ্বকাপ শুরু হতে)। দু তিন মাসের মধ্যে যদি কিছু না হয়, তাহলে সে সম্ভাবনা আছে।’ কিন্তু মুশকিলটা হল, ডালমিয়া যে নিরাপত্তা পরিস্থিকে নিয়ে কথা বলছেন, সে প্রসঙ্গটা আসল কোত্থেকে? নিজামউদ্দিন চৌধুরী এটুকু নিশ্চিত করলেন যে, আইসিসি সভায় বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে আলোচনা হলেও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। আসলে বাংলাদেশের চারটি বিশ্বকাপ ভেন্যুর মধ্যে দুটি ভেন্যুর নির্মাণ ও সংস্কার গতি নিয়ে কিছু সন্দেহ আছে আইসিসির। আর সেই সন্দেহ থেকে একটা সময় বিকল্প আয়োজকের নাম সংবাদ মাধ্যমে এসেছিল। তখনও ভারত বিকল্প হিসেবে আলোচনায় ছিল না। তবে গত সভায় বিকল্প দেশ খোঁজাটাই বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইসিসির সদস্যদের নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ওই দুটি ভেন্যু আদৌ না পেলেও বাংলাদেশের হাতেই ফতুল্লাহ, বিকেএসপির মতো পরীক্ষিত ভেন্যু আছে। এ ছাড়াও আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম বাংলাদেশে আছে। এ অবস্থায় ডালমিয়ার এই কথাবার্তা কী প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।