পা মাটিতেই আছে রবিউলের

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৩, ২২:০৫
২০১০ সালে লর্ডসের মতো স্বপ্নের ভেন্যুতে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তার। বাংলাদেশের ‘পরিশ্রমী’ বোলার বলে পরিচিত এ তরুণকে সেবার পড়তে হয়েছিল অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, কেভিন পিটারসেনে, ইয়ান বেল, অ্যালিস্টার কুকদের সামনে। সেদিন পরিশ্রম কোন কাজে আসেনি; ২২ ওভার বল করে ১০৭ রান দেয়ার পর অনেকটা বাতিলের খাতায়ই চলে গিয়েছিলেন রবিউল ইসলাম শিপলু। এরপর ২০১১ সালে ফিরেছিলেন, জিম্বাবুয়ে সফরে একটি মাত্র টেস্ট ম্যাচে তিন উইকেট নেয়ার পর আবারো দলের বাইরে। এ দুটি ঘটনা একজন পেসারের ক্যারিয়ার ওখানেই শেষ করে দেয়ার জন্য যথেষ্ঠ। কিন্তু ওই যে আগেই বলা হল, তিনি পরিশ্রমী বোলার। তাই পরিশ্রমটা চালিয়েই গেছেন। আর সে পরিশ্রমের ফল পেয়েছেন এ বছরই জিম্বাবুয়ে সফরের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোতে ‘কামব্যাক’ টেস্টে পেয়েছিলেন ৪ উইকেট। এরপর হারারে টেস্টে ৯ উইকেট (৬ ও ৩), পরের টেস্টে আবারো ইনিংসে ৫ উইকেটসহ ম্যাচে ৬ উইকেট। এভাবেই পরিশ্রমের পুরস্কারটা পেলেন সেই পরিশ্রমী বোলার; পরিশ্রমী রবিউল ইসলাম। তবে পুরস্কার পেয়ে সেই পুরোনো সময়টাকে ভুলে যাচ্ছেন না রবিউল। বারবার ব্যর্থতার সেই সময়টার কথা মনে পড়ে তার, ‘আমি কিন্তু কখনোই দলে নিয়মিত হতে পারিনি। ২০১০ সালে প্রথম টেস্টের পর ২০১১তে এসে দুটি টেস্ট খেলেছি। ২০১২ সালে কোন টেস্ট খেলিনি। ২০১৩ সালে এসে শেষ দুটি সিরিজে দুটি করে টেস্ট খেললাম। খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য বাদ পড়েছি। স্কোয়াডে থাকলেও হয়তো কখনো কখনো খেলার সুযোগ পাইনি।’ এখানেই শেষ দেখে ফেলাটা রবিউলের ভাবনাতেও ছিল না। ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিশ্রমী ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজেকে প্রমাণ করলেন। এবার দলে জায়গা ধরে রাখার পালা। রবিউলের নিজের কাছে চ্যালেঞ্জও এখন জায়গাটা স্থায়ী করা, ‘দল থেকে বাদ পড়ে ঘরোয়া লিগে আবার ফর্ম ফিরে পেয়েছি। আবার দলে সুযোগ পেলাম; ভাল পারফরম্যান্স করলাম। সব মিলিয়ে এখন দলে জায়গা ধরে রাখার পাশাপাশি দলের জন্য কিছু করতে চাই।’ রবিউলের পুনঃআবির্ভাব বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের মারাত্মক সংকটকালে। মাশরাফি, রুবেল, সফিউল, আবুল, নাজমুলদের ইনজুরির সময়টাতে সামনে থেকে বোলিংয়ে নেতৃত্ব দিলেন; উইকেট নিয়েই প্রমাণ করেছেন নিজের সে যোগ্যতা। অবশ্য এ পারফরম্যান্সের কৃতিত্ব রবিউল কিছুতেই একা নিতে রাজি নন। দলের বাকি পেসারদের প্রতিও তার সমান শ্রদ্ধা, ‘আসলে সবারই চাওয়া ছিল আমাদের পেসাররা ভাল করুক। অনেকদিন ধরেই পেস বোলিংয়ে আমাদের কিছু সমস্যা ছিল। এ অবস্থাতেও আমার মতে শেষ দুটি সিরিজে (শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর) আমাদের পেস বোলাররা ভাল করেছে। সেদিক দিয়ে আমি মনে করি সব কিছুই ঠিকভাবে চলছে।’ আগামী অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ সফরে আসছে নিউজিল্যান্ড। নতুন কোনো অঘটন না ঘটলে বাংলাদেশ অনেকদিন পর পূর্ণশক্তির পেস আক্রমণ মাঠে নামাতে পারবে এ সময়ে। তাই নিজেদের পেস বোলিং ইউনিট নিয়ে খুবই আত্মবিশ্বাসী রবিউল, ‘জিয়া এখন বেশ ভাল ফর্মে আছে। সাথে মাশরাফি ভাই ফিরে আসতে পারেন। রুবেলও চিকেন পক্স থেকে সুস্থ হয়ে ফিরেছে। সব মিলিয়ে আমাদের পেস অ্যাটাক এখন আগের থেকে অনেক বেশি ভাল। আর আমাদের দেশের মাটিতে খেলা। যদিও এখানকার উইকেট থেকে পেসাররা খুব একটা সুবিধা পায় না। তারপরও আশা করছি সামনের সিরিজে ভাল একটা ফলাফল বের হয়ে আসবে।’