বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন নিয়ে জটিলতা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তবে এরই মধ্যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি আবারো দায়িত্ব নিতে পারেন। একটি সূত্র দাবি করে, এ ব্যাপারে তিনি নাকি সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সবুজ সংকেতও পেয়েছেন। যদিও সাবের চৌধুরী নিজে এ ব্যাপারে গতকাল কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিসিবি’র এডহক কমিটি জানিয়েছে, এক মাসের মধ্যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে (এনএসসি) অনুরোধ করা হবে। সঙ্গত কারণেই এখন কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কে হতে যাচ্ছেন নতুন সভাপতি? আপাতত এই প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনের পরিচিত নামটিই জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আবার বিসিবি সভাপতি পদে ফেরার লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছেন সাবের হোসেন চৌধুরী। একটি সূত্র নিশ্চিত করল, নিজের দলের ও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বিসিবি সভাপতি পদে নির্বাচনের জন্য সবুজ সংকেত পেয়েছেন তিনি। সূত্রটির দাবি, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তাকে এই সংকেত দিয়েছেন।
বিসিবির সাবেক এই সভাপতি অবশ্য এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাইলেন না। তিনি প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যেতে চাইলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রধান, আমারও দলের প্রধান। ওনার সঙ্গে নানা প্রয়োজনেই আমার সাক্ষাত্ হয়, কথাবার্তা হয়। এরচেয়ে বেশি এই নির্দিষ্ট প্রসঙ্গে আর কিছু বলতে চাচ্ছি না আমি।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটের ঐতিহাসিক এক পর্বে বিসিবির সভাপতি ছিলেন সাবের চৌধুরী। ১৯৯৬ সালে তার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বোর্ড সভাপতি মনোনীত হন তিনি। তার সময়ে বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফি জিতে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। সেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে হারিয়ে টেস্ট মর্যাদার দাবি জোরালো করে। এরপর ২০০০ সালে বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা পায়।
এরপর তার দল আবার ক্ষমতায় এলেও ক্রিকেটের শীর্ষ পর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামোতে ছিলেন না সাবের হোসেন। সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য তিনি আবার ক্রিকেটে সরব হন। বিশেষ করে বিসিবি’র গঠনতন্ত্রের সংশোধনী বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আলোচিত হন তিনি। বর্তমান এডহক কমিটির কর্মকাণ্ড নিয়েও বক্তব্য রেখে সংবাদ মাধ্যমের নজর কাড়েন তিনি।
দেশের ক্রিকেটকে ঘিরে তার সক্রিয়তায় বিসিবি’র বর্তমান সভাপতি ও সম্প্রতি প্রয়াত রাষ্ট্রপতির ছেলে নাজমুল হাসান পাপন এমপিকে রুষ্ট হতে দেখা যায়। ফলে শেষ পর্যন্ত সাবের হোসেনকে নিয়ে এই গুঞ্জন সত্যি হয় কিনা, তা জানতে দেশের ক্রিকেটামোদীদের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
