মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতালগুলোতে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট স্বল্পতায় সার্জারি চিকিত্সা ব্যাহত হচ্ছে। ১৪টি উপজেলা হাসপাতালে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট মাত্র দুজন। এতে এসব হাসপাতালে সার্জারি ও সিজারিয়ান করা যাচ্ছে না। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিক্যাল ও জেনারেল হাসপাতালেও প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক অ্যানেসথেসিওলজিস্ট রয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকরা জানান, দেশে অ্যানেসথেসিওলজিস্টের সংকট রয়েছে। জনবল না থাকায় নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। অ্যানেসথেসিওলজিস্টদের সার্জনদের মুখাপেক্ষি হয়ে থাকতে হয়। যথাযথ সম্মানী পাওয়া যায় না। ফলে এ বিষয়ে পড়ালেখায় মেডিক্যালের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনীহা বিরাজ করছে। অথচ বিশ্বের অন্যান্য দেশে অ্যানেসথেসিওলজিস্টদের সবচেয়ে বেশি মূল্যায়ন করা হয়।
জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ইত্তেফাককে বলেন, সারা দেশে অ্যানেসথেসিওলজিস্টের সংকট রয়েছে। সারা দেশে ১ হাজার ৪শ অ্যানেসথেসিওলজিস্টের প্রয়োজন। আর আছে ২২৫ জনের মতো।
চিকিত্সকরা জানান, প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সুযোগ নেই। সার্জনরা তাদের পছন্দ মতো অ্যানেসথেসিওলজিস্টদের নিয়ে থাকেন। আর সম্মানী দেওয়া হয় সার্জনদের ইচ্ছে মতো। একটি সার্জারি রোগীর জন্য ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে এক থেকে দেড় হাজার টাকার বেশি সম্মানী পাওয়া যায় না। ফলে চিকিত্সার পরিধি বাড়লেও অ্যানেসথেসিওলজিস্ট তৈরি হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকদের অভিযোগ, অপারেশনের রোগীদের আগে অ্যানেসথেসিওলজিস্টের মাধ্যমে অপারেশনের জন্য রোগী ফিট কিনা মতামত নিতে হয়। অথচ এ নিয়মটা অনেক ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না। এতে রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেডিক্যালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘সার্জারি চিকিত্সায় অ্যানেসথেসিওলজিস্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে তাদের মূল্যায়ন হচ্ছে না। যেহেতু তাদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সুবিধা নেই তাই সরকারিভাবে সুযোগ সুবিধা বাড়ানো উচিত।’
জানা যায়, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের অধ্যাপক, সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপকসহ অ্যানেসথেসিওলজিস্ট রয়েছে ১৯ জন। চিকিত্সকরা জানান, অন্তত ৫০ জন অ্যানেসথেসিওলজিস্টের প্রয়োজন।
