শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি জোকোভিচ-মারে

ব্রিটিশদের আক্ষেপ ঘুচবে কি আজ?

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৩, ২২:১০
টেনিস তো বটেই, ক্রীড়া বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী আসর বলে স্বীকৃত উইম্বল্ডন। অথচ ব্রিটেনের অল ইংল্যান্ড ক্লাবের মস্তিষ্কপ্রসূত এই গ্র্যান্ডস্ল্যাম টুর্নামেন্টে সর্বশেষ কোন ব্রিটিশ পুরুষ শিরোপা জিতেছিলেন ৭৭ বছর আগে। ব্রিটিশদের এই সুদীর্ঘ আক্ষেপ ঘোচানোর দারুণ সুযোগ আজ অ্যান্ডি মারের সামনে। তবে হাজারো স্বদেশী দর্শকের সামনে শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে গতবারের ফাইনালিস্ট মারেকে এদিন হারাতে হবে টুর্নামেন্টের শীর্ষ বাছাই নোভাক জোকোভিচকে। ফ্রেড পেরি আর উইম্বল্ডন। শব্দ দুটি শুনতে শুনতে মারের কান এতদিনে নিশ্চয়ই ঝালাপালা হয়ে গেছে। সেটা মোটেই অস্বাভাবিক কিছু নয়। ২০০৫ সালে প্রথমবার কোন গ্র্যান্ডস্ল্যামে খেলতে নামার পর থেকেই তাকে শুনতে হচ্ছে, ১৯৩৬ সালে উইম্বল্ডন শিরোপা জেতা পেরির কীর্তির পুনরাবৃত্তি করতে হবে তাকে। ২৬ বছর বয়সী এই স্কটিশের ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তাকে নিয়ে ব্রিটিশ মিডিয়ার মাতামাতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আর সমর্থকদের আস্থার প্রতিদান দিয়ে ৭৬ বছরের ব্যবধানে প্রথম ব্রিটিশ পুরুষ হিসেবে গত বছর মারে জয় করেন ইউএস ওপেন শিরোপা। ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ইউএস ওপেনের পর মারে অলিম্পিক স্বর্ণও জেতেন। ওপেন যুগের একমাত্র ব্রিটিশ পুরুষ হিসেবে গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ের কৃতিত্বও তার দখলে। তাই বলে ঘরের মাঠে, স্বদেশীদের সামনে শিরোপা জয়ের আক্ষেপ মোচন হয়েছে তার? বোধহয় না। গত বছর রজার ফেদেরারের কাছে হেরে শিরোপার খুব কাছ থেকে ফেরা মারে এবছর তাই আরো বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, একাগ্র। শেষ চারের লড়াইয়ে গত শুক্রবার তিনি পোল্যান্ডের জের্জি জ্যানোভিক্সকে হারিয়েছেন ৬-৭ (২-৬), ৬-৪, ৬-৪, ৬-৩ গেমে। মারের বিশ্বাস আজকের ফাইনালে গত বছরের চেয়ে এবার অনেক বেশি নির্ভার থাকবেন তিনি। ইউএস ওপেন এবং অলিম্পিক স্বর্ণ তার উপর থেকে চাপ অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমি (গত বছরের তুলনায়) মানসিক ভাবে ভালো অবস্থানে থাকবো। কারণ, আমি এই অবস্থাটা আগেই পার করে এসেছি। আমি একটা গ্রান্ডস্ল্যাম জিতেছি। আমার মনে হয় আগামী সোমবার নির্ভার থাকতে এ ব্যাপারটাও আমাকে সাহায্য করবে।’ দুর্দান্ত এক ফাইনালের জন্য তর সইছে না টেনিস কিংবদন্তি বরিস বেকারেরও। তার বাজিও মারের পক্ষেই। বিবিসি স্পোর্টসকে দেয়া সাক্ষাত্কারে বেকার বলেন, ‘আমার ফেভারিট মারে। কোন সন্দেহ নেই জোকোভিচ দুর্দান্ত একজন খেলোয়াড়, তবে মারেও তেমনই। আমার মনে হয় দর্শক সমর্থন মারের পক্ষে অতিরিক্ত কিছু ব্যাপার যোগ করবে। আপনি যখন সব বিষয় একত্রে যোগ করবেন, দুর্দান্ত একটা ফাইনালই অপেক্ষা করছে। আমার মনে হয়, চূড়ান্ত কাজটুকু করতে মারেও প্রস্তুত।’ এদিকে মারের রেকর্ড যাত্রায় বাদ সাধতে প্রস্তুত মহাকাব্যিক এক সেমিফাইনালে গত শুক্রবার হুয়ান মার্টিন দেল পোত্রোকে হারানো জোকোভিচ। ১৯৮৯ সালে বরিস বেকার-ইভান লেন্ডলের গড়া উইম্বল্ডনের দীর্ঘতম সেমিফাইনালের রেকর্ড ভেঙ্গে দেয়া এই ম্যাচকে জোকোভিচ আখ্যায়িত করেছেন তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা হিসেবে। এই সার্বিয়ান বলেন, ‘এটাকে আমি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা একটি ম্যাচ হিসেবেই স্মরণ করবো।’ চার ঘণ্টা ৪৪ মিনিটের এই ম্যাচে জোকোভিচ জয় পান ৭-৫, ৪-৬, ৭-৬ (৭-২), ৬-৭ (৬-৮), ৬-৩ গেমে। সপ্তম গ্র্যান্ডস্ল্যাম শিরোপার লক্ষ্যে আজ কোর্টে নামার সময় এই ম্যাচের আত্মবিশ্বাস নি:সন্দেহে জোকোভিচের সঙ্গী হবে। র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা মারের বিরুদ্ধে জোকোভিচ চাইলে প্রেরণা খুঁজতে পারেন অতীত রেকর্ড থেকেও। এখন পর্যন্ত ১৮ বার পরস্পরের মুখোমুখিতায় ১১ বারই জিতেছেন জোকোভিচ। আর গ্র্যান্ডস্ল্যাম টুর্নামেন্টে মারের বিরুদ্ধে তিন জয়ের বিপরীতে জোকোভিচ হেরেছেন একবার। ঘাসের কোর্টে মারের বিরুদ্ধে তার একমাত্র পরাজয়টা এসেছে উইম্বল্ডনেই, লন্ডন অলিম্পিকের সেমিফাইনালে। মারে, জোকোভিচ, সাবেকদের মতো এই ‘মহারণ’ দেখতে তর সইছে না দর্শকদেরও। এরই মধ্যে সেন্টার কোর্টের ১৫,০০০ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। তার পরও মানুষ দীর্ঘ লাইন জমাচ্ছে কোর্টের বাইরে জায়ান্ট স্ক্রিনে প্রিয় তারকাদের লড়াই উপভোগ করতে।