টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-২০১৪

সর্বাত্মক কাজে ঝাঁপাচ্ছে এনএসসি-বিসিবি

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৩, ২২:১৩
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যে বড় তিনটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হয়েছে; প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই শেষ সময়ের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু সংস্কার ও নির্মাণের ব্যাপারে সেই সর্বাত্মক ঝাঁপিয়ে পড়াটা শুরু হয়ে গেল বলেই মনে হচ্ছে। গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) যৌথ প্রতিনিধি দলের সভায় দু’ পক্ষই এখন সর্বশক্তি দিয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বে বলে জানালো। সেই সঙ্গে বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হল, কক্সবাজারে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু নির্মাণে হাত লাগাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর। আর সর্বাত্মক এই কাজের ফল যে খুবই ইতিবাচক আসবে সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহই নেই বিসিবির পরিচালক ও ফ্যাসিলিটিজ কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুব আনামের। তিনি আশার কথা শোনানোর পাশাপাশি জানালেন, আগামী অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেট স্টেডিয়ামে দুটি ওয়ানডে আয়োজন করে বিসিবি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘প্র্যাকটিক্যাল’ পরীক্ষাও দিয়ে রাখতে চায়। ভেন্যু নিয়ে বাংলাদেশে এর আগে কোনো টুর্নামেন্টেই এতোটা জটিলতা তৈরি হয়নি। সেই ১৯৯৮ সালে বিসিবি একই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামেই আটটি টেস্ট খেলুড়ে দেশকে নিয়ে তখনকার মিনি বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল। পরে ২০১১ সালে বাংলাদেশ ছিল ওয়ানডে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক। কিন্তু এবার ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুটি প্রস্তাবিত নতুন ভেন্যু নিয়েই হয়েছে যত জটিলতা। সিলেট স্টেডিয়ামে কাজ চলছে ধীরগতিতে আর কক্সবাজারে নানা জটিলতায় কাজ সেভাবে শুরুই হয়নি; এই অভিযোগে আইসিসি অসন্তোষও প্রকাশ করেছিল। পরে সর্বশেষ সভায় বাংলাদেশকে আগস্ট পর্যন্ত একটা ডেটলাইন দেয়া হয়। এই সময়ে বিশেষ পরিদর্শক দল এসে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন চূড়ান্ত ডেটলাইন অক্টোবরের মধ্যে আদৌ কাজ শেষ হবে কি না। এর মধ্যে আইসিসির সাবেক সভাপতি ও বিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জগমোহন ডালমিয়া নিজের দেশের একটি পত্রিকাকে আবার বলেছেন, বিশ্বকাপ ভারতেও সরে যেতে পারে। এ কথায় বিসিবি পরিচালক মাহবুব আনাম তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাননি; তিনি বরং ডালমিয়ার কথা ভুলভাবে উপস্থাপন হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন। তবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবদুর রহমান বেশ কড়া প্রতিক্রিয়াই জানালেন কাল বিসিবির সঙ্গে বৈঠক শেষে। তিনি বলছেন, ভারত এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইলেও সে সুযোগ তারা দেবেন না, ‘ভারত আসলে সুযোগ নিতে চেয়েছে। আমরা এটা হতে দেব না। টি-২০ বিশ্বকাপের আয়োজনের সুযোগ আমরা নষ্ট করব না। আপনারা গিয়ে দেখুন ভেন্যুগুলোতে দিন রাত কাজ চলছে। ৮ জুলাই অর্থমন্ত্রী সিলেট স্টেডিয়ামের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের জন্য সিলেটে যাবেন। আমরা আশাবাদী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে।’ আবদুর রহমান স্বীকার করছেন, এ পর্যন্ত কাজে কিছু গতির অভাব ছিল। সেটা আর থাকবে না বলেই আশা প্রকাশ করেছেন তিনি, ‘আমরা তো ২০১১ বিশ্বকাপের সফল আয়োজক। সেই সুনাম আমরা অক্ষুণ্ন রাখব। আমাদের প্রস্তুতিতে কিছুটা ঘাটতি ছিল। কিন্তু আমরা সেটা কাটিয়ে উঠব এবং আইসিসির সময় অনুযায়ী কাজ শেষ করব। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই আমরা কাজ শেষ করতে পারব। সিলেট ভেন্যুর জন্য বরাদ্দ এর আগে পর্যাপ্ত না হলেও এখন সরকার সেই বরাদ্দ দিয়েছে।’ সিলেট ভেন্যু সময়মতো প্রস্তুত করার ব্যাপারে বিসিবিরও কোনো সন্দেহ আর নেই। আর প্রস্তুতির প্রমাণ হিসেবেই অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এখানে দুটি ওয়ানডে খেলে ‘ড্রেস রিহার্সেল’ সারতে চায় বিসিবি। এমনটাই বললেন মাহবুব আনাম। সেই সঙ্গে মাহবুব আনাম আশার কথা শোনালেন কক্সবাজার স্টেডিয়াম নিয়েও। আগামীকালই বিসিবির একটা দল আবার কক্সবাজার স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ দেখতে যাচ্ছেন। আর মাহবুব আনাম বলছেন, সেনাবাহিনীর কাছ থেকে তারা ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সহায়তা পাওয়ার আশ্বাস পেয়েছেন। সেই সঙ্গে এনএসসি ও বিসিবির কাজটা সমন্বিতভাবে করা হবে বলেও নিশ্চিত করলেন তিনি, ‘এনএসসি বলেছে সময় মতোই তারা কাজ শেষ করবে। বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য আমরা একটি অগ্রাধিকার তালিকা করেছি। তাতে এনএসসি কোন দিকে কাজ করবে আর আমরা কোন দিকে কাজ করব, সেটা ভাগ করে নিয়েছি। কক্সবাজারের স্টেডিয়ামের মাঠের কাজে সহায়তা করার জন্য সেনাবাহিনী সম্মতি দিয়েছে।’