তৌহিদ আজিজ
নিজের পাল্লা ভারি করতে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন তার রাশিয়া সফরের পর অনেকটা নড়েচড়ে বসেছেন। বেশ কিছুদিন পিয়ংইয়ং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে তর্জন-গর্জন শোনা যাচ্ছিল না। বিশেষ করে হ্যানয়ে ট্রাম্প-কিম বৈঠকের পর অনেকটা শান্তই ছিল বলা চলে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কিমের সুর আবারো বেসুরে বাজতে শুরু করেছে। নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এরই মধ্যে দুটি স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এ অবস্থায় বিশ্লেষকরা বলছেন, ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে কোরীয় উপদ্বীপ।
গত সপ্তাহে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিনো-রি ঘাঁটি থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র দু’টি ৪২০ কিলোমিটার এবং ২৭০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠিক কি ধরনের সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হ্যানয় বৈঠক ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ায় কোনো উপায় না পেয়ে কিম এখন এই পথে নেমেছেন। কারণ দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত দেশটির অর্থনীতি তো একেবারে নড়বড়ে অবস্থায় গিয়ে ঠেকেছে; তার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা)— দুইয়ে মিলে কিম ঘরে-বাইরে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। তাই বাধ্য হয়ে তিনি এখন আবার পরমাণু পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তবে টুডে জানিয়েছে, ট্রাম্পের উত্তর কোরীয় নীতি এখন অন্যরকম মনে হলেও তার অর্থ এই নয় যে, এটা যুদ্ধে মোড় নেবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিমের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, এজন্য তিনি অখুশি হয়েছেন। তিনি বলেন, কেউই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে খুশি হতে পারে না। আমি তো অবশ্যই নই। পিয়ংইয়ং-ওয়াশিংটন সম্পর্ক আরো এক ধাপ ধাক্কা খায় যখন যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার একটি কয়লাবাহী জাহাজ জব্ধ করে। এ জন্য শুক্রবার কিম তার বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলেছেন। মূলত কয়লা উত্তর কোরিয়ার বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য হলেও এর ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে এবারই প্রথম উত্তর কোরিয়ার জাহাজ আটক করল যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে সত্য। কিন্তু এটি যুদ্ধের কোনো বার্তা বহন করে না। তবে কিম যদি এভাবে তার কথাবার্তা চালিয়ে যেতে থাকেন তাহলে ভবিষ্যতের জন্য অবশ্যই খারাপ বার্তা বয়ে আনবে। বিষয়টিকে ফেব্রুয়ারিতে হ্যানয়ে কিম-ট্রাম্প বৈঠকের ব্যর্থতার একটি নেতিবাচক দিক হিসেবে দেখা যেতে পারে। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ‘সেন্টার অন ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশনের’ প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ওয়াহেগুরু প্যাল সিং বলেন, হ্যানয় বৈঠকের পর কোনো দেশই এখনো পর্যন্ত নতুন কোনো আলোচনার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি। বরং অবস্থা দেখে এমন মনে হচ্ছে যে, বাতাস এখন বিপরীত দিকে বইছে। তিনি বলেন, যদি আমরা ধরে নেই যে যুক্তরাষ্ট্র আবার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছে তাহলে কি দাঁড়াবে? খুব স্বাভাবিকভাবে বলা যায় যে, এতে করে উত্তর কোরিয়া নাখোশ হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, এখনো দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৮ হাজার মার্কিন সৈন্য রয়েছে। তারা সেখানে বছরের পর বছর ধরে আছেন। প্রতি বছর যদি এভাবে সামরিক মহড়া যুক্তরাষ্ট্র চালিয়ে যায় তাহলে সেটা অবশ্যই উত্তর কোরিয়াকে ক্ষিপ্ত করে তুলবে। তাই কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি বজায় রাখতে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে এ বিষয়টি থেকে দূরে থাকার বিষয়ে আন্তরিক হতে হবে।
