ভারতের লোকসভা নির্বাচন

সরকার গড়তে আত্মবিশ্বাসী বিরোধীরা!

আপডেট : ১২ মে ২০১৯, ২১:৪৯

তালেব রানা

 

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষপ্রান্তে চলে এসেছে। আগামী ১৯ মে শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ হবে। লোকসভার ৫৪৩ আসনের মধ্যে বাকি থাকা ৫৯ আসনে ওইদিন ভোটগ্রহণ হবে। ভোট গণনা হবে ২৩ মে। সেদিনই জানা যাবে, পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য কারা আসছেন দিল্লির ক্ষমতায়। কিন্তু এর আগেই বিজেপি সরকারের বিকল্প একটি জোট সরকার গড়তে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বিরোধী দলগুলো। তাদের বিশ্বাস, এবারের নির্বাচনে বিজেপি ও এনডিএ জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পাবে না। সেক্ষেত্রে বিরোধী দলগুলো সমঝোতার মাধ্যমে এই বিকল্প জোট সরকার গড়তে পারবে।

বিরোধীদের ধারণা, এবারের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন না পেলেও সবচেয়ে বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হতে পারে বিজেপি। সেক্ষেত্রে বিজেপিকে ঠেকাতে বিকল্প পদক্ষেপও নিচ্ছে তারা। সম্প্রতি ভারতের এনডিটিভির এক খবরে বলা হয়েছে, বিরোধী ২১টি দল ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে চিঠি দিয়ে একটি আর্জি জানাতে যাচ্ছে। এই আর্জির বিষয়বস্তু হলো, রাষ্ট্রপতি সরকার গঠনের জন্য একক বৃহত্তম দলকে আহ্বান জানাবেন না। যাদের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ থাকবে, তাদেরকেই যেন সরকার গড়তে ডাকা হয়। বিকল্প সরকার গঠনের জন্য সমর্থনপত্র জমা দিতে তৈরি আছে দলগুলো। লোকসভার ৫৪৩ আসনের মধ্যে সরকার গড়তে লাগবে ২৭২ আসন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে ২৮২টি আসন পেয়েছিল। এনডিএ জোট পেয়েছিল ৩৩৬ আসন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিরোধীরা। গোয়া, মনিপুরে বিধানসভা নির্বাচনের পর দেখা গেছে, বৃহত্তম দলকে সরকার গড়তে না ডেকে যারা জোট সরকার গড়তে পারে তাদের ডাকা হয়েছিল। এই দুই রাজ্যেই জাতীয় কংগ্রেস বৃহত্তম দল ছিল। কিন্তু তাদের পরিবর্তে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কারণ এনডিএ কংগ্রেস জোটের বাইরে থাকা অন্য দলের সমর্থন জোগাড় করতে পেরেছিল। আবার কর্ণাটকে জাতীয় কংগ্রেস ও জনতা দল নির্বাচন পরবর্তী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ জেনেও সেখানকার রাজ্যপাল একক বৃহত্তম দল বিজেপিকেই প্রথমে সরকার গড়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। যদিও সেই সরকার টেকেনি।

এই ঘটনাবলীর কথা মাথায় রেখেই ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের শক্তির কথা রাষ্ট্রপতিকে আগাম জানিয়ে রাখতে চাইছে। পাশাপাশি তাদের উদ্দেশ্য, এভাবে জোট বেঁধে রাখলে বিজেপি বা অন্য কোনো দল সহজে তাদের মধ্যে ভাঙন ধরাতে পারবে না।

এ রকম পরিস্থিতি হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। তখন ভারতের তত্কালীন রাষ্ট্রপতি কে আর নারায়ণন বিজেপির নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ীকে সরকার গড়ার জন্য আহ্বান জানানোর আগে অন্যান্য দলের সমর্থনপত্র দাখিল করতে বলেছিলেন। সেইসঙ্গে লোকসভায় আস্থাভোটের কথা বলেছিলেন। ওই সময় বিজেপি পেয়েছিল ১৮২ আসন। এনডিএ জোটের সম্মিলিত শক্তি ছিল ২৫৪ আসনের। সরকার গড়লেও ২০ মাস পরে সেই সরকারের পতন হয়েছিল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়েছে, অসম বিরোধী দলগুলো বিজেপিকে হটানোর জন্য একটি জোট গড়তে চাইছে। কংগ্রেসের মুখপাত্র সঞ্জয় ঝা বলেন, আমরা সম্মিলিতভাবে নিশ্চিত যে এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভোট ও আসন হারাচ্ছে বিজেপি। তাই জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমরা বিরোধী দলগুলো মিলে একটি স্থায়ী সরকার গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছি। এ বিষয়টি আগামী ২৩ মের মধ্যেই চূড়ান্ত হবে। এই জোট গঠনে বড় ভূমিকা রাখছেন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইড়ু। গত বৃহস্পতিবার এই জোট গঠনের ব্যাপারে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে রুদ্ধদার বৈঠক করেছেন। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি নেতারা বিরোধীদের এই দৌড়ঝাঁপকে পাত্তা দিচ্ছেন না। বিরোধীদের কোনো প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নেই বলেও সমালোচনা করছেন তারা। তবে সঞ্জয় ঝা বলছেন, বিরোধীদলে যোগ্য ব্যক্তির অভাব নেই। বিরোধীদের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ছাড়াও আলোচনায় রয়েছে- পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর নামও।

সবকিছু জরিপ বা ধারণা দিয়ে চলে না। জনতার রায় কোনোদিকে যাবে সেটাই আগে দেখার বিষয়। হয়তো জনতার ভোটে ব্যর্থ হতে পারে বিজেপি। আবার জনগণের ভোটে ভেস্তে যেতে পারে বিরোধীদের প্রস্তুতিও। কী হতে যাচ্ছে সেটা ২৩ মের ফলই বলে দেবে।