আব্দুল্লাহ মাহমুদ
সুস্থ সুন্দর জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। সুন্দর পরিবেশ আমাদের দেহ-মনকে সবল ও সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। প্রত্যেকটি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমনকি শিশু-কিশোরদের মানসিকতা বিকাশেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।
পক্ষান্তরে, অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ আমাদের সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে বাধা সৃষ্টি করে। যার কারণে আমাদের স্বাভাবিক জীবনে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হয়। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিশুর মানসিক বিকাশও।
কিন্তু উদ্বেগের বিষয় যে, এই অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন দূষিত পরিবেশের স্রষ্টা আমরা নিজেরাই। নিত্যদিন নানাভাবে পরিবেশকে নোংরা ও দূষিত করে চলেছি আমরা। সৃষ্টি করছি জনদুর্ভোগ সঙ্গে বাড়ছে ভোগান্তিও। গ্রামের পরিবেশ কিছুটা সহনীয় হলেও শহরে এই সমস্যা বেশি পরিলক্ষিত হয়। প্রতিনিয়ত অসতর্কতার হার বেড়েই চলে। ডাস্টবিন ব্যবহারে অনীহাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও সুষ্ঠু ব্যবহার না করে ময়লা-আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলা যেন আমাদের নিত্য অভ্যাস। রাস্তা বা ফুটপাত যেন ময়লা ফেলার প্রধান স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাসাবাড়ির উপর হতে রাস্তায় ময়লাগুলো নিক্ষেপ করতেও দেখা যায়। যেখানে-সেখানে মরা পশুপাখি দেখতে পাওয়া যায়। ফলে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে অসুবিধা, দুর্গন্ধ ও দুর্ভোগ যেন স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে গেছে। শিক্ষিত বিবেকবান অগণিত মানুষও ময়লা ফেলতে দ্বিধা করেন না। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে রাস্তার আশ-পাশে গর্ত খুঁড়ে স্বার্থ উদ্ধার করার ফলে বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। পরিত্যক্ত জিনিসপত্র রাস্তার আশ-পাশে ফেলে যাওয়ার রীতি এখন অনেক পরিচিত। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনেও একই অবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাসস্ট্যান্ডেও নোংরা পরিবেশ চোখে পড়ার মতো। নজরদারির অভাবে শহরের রাস্তা বা রাস্তার পাশের ড্রেনগুলোর ভয়ানক অবস্থা।
এগুলোর ফলে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে নিয়মিত। বাসাবাড়ির আঙ্গিনায় ঝোপ-ঝাড়, ময়লাযুক্ত স্থান, ড্রেন পরিষ্কার না করার ফলে মশার উপদ্রব বেড়েই চলেছে। ব্যক্তিগত অবহেলার ফলে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। দিন দিন রোগ-জীবাণুর পরিমাণ বেশি হওয়ার মূলে দায়ী আমরাই। পারিবারিক ও সামাজিক এরকম দায়িত্বহীনতার ফলে শিশুর মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা আমাদের অনুকরণ করে একই কাজে শামিল হচ্ছে। এর জন্য অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি আমরা ও আমাদের সন্তানরা। ব্যক্তির মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ না থাকায় রাস্তা, ফুটপাতে, ড্রেনে এমনকি যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলতে ইতস্ততবোধ করছে না কেউই। যার ফলশ্রুতিতে বিশ্রী দুর্গন্ধে রাস্তা বা ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে গেলেও দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হচ্ছে। পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের সুনজর না থাকায় শহর এলাকায় দুর্ভোগ দিনে দিনে সীমা অতিক্রম করে চলেছে। যথাসময়ে রাস্তার মেরামত না করা, ড্রেন বা নালা-নর্দমার পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় অবহেলা করায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা অতি সাধারণ ঘটনা। রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কের পাশেও দেখা যায় এমন অস্বস্তিকর পরিবেশ। রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরগুলোতে বস্তি এলাকার অবস্থা আরো ভয়ানক। ব্যক্তিগত, সামাজিক ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুনজরের অভাবই মূলত দায়ী। শহরাঞ্চলে চলাচল দিন দিন কষ্টসাধ্য ব্যাপারে পরিণত হয়ে চলেছে। বর্ষার সময় পানিবাহিত রোগের হাত থেকে বেরিয়ে আসা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। গরমে এসব পচে কখনো দূষিত বায়ু বা ধুলাবালি জীবাণুতে পরিণত হয়ে আমাদের ভিতরে প্রবেশ করে যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই খারাপ। আরো ভয়াবহ অবস্থা হয়তো সামনে অপেক্ষা করছে যদি আমরা আমাদের পরিবেশকে পরিবর্তনের চেষ্টা না করি।
সবুজ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যক্তিগত সতর্কতা এই সমস্যার সমাধানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। নিজের বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের ডোবানালা বা ঝোপ-জঙ্গল নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার করতে হবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুনজর একান্তই কাম্য। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা আমাদের পরিবেশকে বাঁচাতে পারি। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকে দেশকে বাসযোগ্য গড়ে তুলতে এগিয়ে আসলে আমরা পেতে পারি সোনালি শ্যামল সুন্দর বাংলাদেশ। যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য হতে পারে গর্বের।
nলেখক: শিক্ষার্থী, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ
