মানুষ হওয়ার সংজ্ঞা কী? মানুষ হওয়া মানে কী এই, লেখাপড়ায় ভালো করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা জজ, ব্যারিস্টার হওয়া?
স্রষ্টা আমাদের সবাইকে সমানভাবে দুইটি করে হাত, পা, চোখ, কান এবং একটি করে মুখ, নাক দিয়ে খুব আদর করে সৃষ্টি করেছেন। করুণাময়ের দেওয়া শরীরের এই অঙ্গগুলোকে আমরা কী কাজে ব্যবহার করছি, সেটাই বড় কথা। মূলত আমরা মানুষ না অমানুষ তা শরীরের এই অঙ্গগুলোর ব্যবহারের উপরেই অনেকাংশে নির্ভর করে।
মোবাইল একটি যন্ত্র। প্রযুক্তির উত্কর্ষতায় এই যন্ত্রে এসেছে আমূল পরিবর্তন। মোবাইল হয়েছে এখন স্মার্টফোন। দেখুন পাঠক, আপনি এই স্মার্টফোন দিয়ে দিনরাত কি করছেন তার খবর কিন্তু কেউ রাখছে না। হয়তো আপনি নিজেও অন্যের স্মার্টফোন ব্যবহারের খবর রাখছেন না। হোক সে আপনার বাবা। সত্যিকথা বলতে, অন্যের এসব খবর রাখার আপনার ইচ্ছা-আগ্রহ কোনোটাই নেই। তবে আমি আপনাকে বলবো আপনি আজই আপনার বাবার স্মার্টফোন ব্যবহারের দিকে দৃষ্টি দিন। আপনি যেখানে স্মার্টফোনে দিনরাত আজেবাজে ভিডিও দেখছেন সেখানে আপনার বাবা স্মার্টফোন ব্যবহার করে সংবাদপত্র পড়ছেন, বই পড়ছেন, বিদেশি বিভিন্ন উপকারী আর্টিকেল পড়ছেন। আপনার পর্যবেক্ষণ যদি আমার কথার সঙ্গে মিলে যায়, তাহলেই আমি আপনাকে বলতে চাই আপনার চোখের ব্যবহার আর আপনার বাবার চোখের ব্যবহার এক হচ্ছে না। অর্থাত্ আপনি যে-চোখ দিয়ে খারাপ জিনিস দেখছেন, আপনার বাবা সেই চোখ দিয়ে জ্ঞান আহরণ করছেন।
সব খারাপ যে আমরা স্মার্টফোনেই দেখি তা কিন্তু নয়। আমরা চলতে ফিরতেও অনেক খারাপ জিনিস দেখি। ইচ্ছায় দেখি, অনিচ্ছায় দেখি। অনিচ্ছায় দেখার চেয়ে ইচ্ছায় দেখাই আসল দোষের। অনেকদিন আগে আমার এক পরিচিতজনের কথা শুনে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছিলাম। লোকটা কথাটি মুখ ফসকে বলে ফেলেছিল। লোকটা বলেছিল সে নাকি রাস্তায় চলতে-ফিরতে সুন্দরী মেয়েদের কুদৃষ্টিতে দেখে। কেমন একটা কুরুচিপূর্ণ কথা! যে লোক এমন ধরনের অভ্যাসে অভ্যস্ত সে কোন্ শ্রেণির মানুষ কিংবা আদৌ মানুষ কিনা সেটা নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়। যদিও এখানে একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয় যে, লোকটা কথাটি প্রকাশ করে ফেলার কারণে তার সম্পর্কে আগেভাগে কিছু একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া গেল। কিন্তু যে বা যারা আগেভাগে প্রকাশ করে না তাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত কী? ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফীকে আমরা হারিয়ে ফেলার পর অনেক কিছুই জানতে পারলাম। মূল যে অমানুষ সেই অধ্যক্ষ সিরাজ শেষে নিজের কথা প্রকাশ করলো বটে! কিন্তু এতে কাজের কাজ কী হলো? রাফীকে তো কখনো পাওয়া যাবে না। নিশ্চয়ই রাফীর মায়ের চোখের জল এখনো শুকায়নি। হয়তো শুকাবেও না কোনোদিন। তবে সবচেয়ে বড় কথা আমাদের হাত-পা ওয়ালাদের মধ্যেই আমরা কেউ মানুষ আবার কেউ অমানুষ। হাত, পা, চোখ, কান থাকলেই মানুষ হওয়া যায় না। মানুষ হতে হলে সবার আগে চাই মনুষ্যত্ব। যে মনুষ্যত্বকে প্রতি মুহূর্তে কর্ষণ করতে হয়। কেউ হয়তো একটু কম ভালো মানুষ কেউ বেশি ভালো। যদিও এই শ্রেণির সবাই মানুষ। অমানুষ তারা যাদের মনুষ্যত্বই নেই। প্রশ্ন জাগে, মানুষের প্রধান সম্পদ যে মনুষ্যত্ব সেই মনুষ্যত্বকে নিজের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে সবার আগে কোন্ কাজটি করা জরুরি? এক কথায় উত্তর দিলে উত্তর হবে পারিবারিক পরিমণ্ডল থেকেই শুদ্ধি অভিযান চালানো। ভারী ভারী পাঠ্যপুস্তক পড়ে কাঁড়ি কাঁড়ি জিপিএ ফাইভ পেয়ে কি লাভ যদি মানুষই না হলাম।
n লেখক: শিক্ষার্থী, গণবিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা
