ইংল্যান্ড যাবে ‘প্রায় জাতীয় দল’

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৩, ২২:১৪
মে থেকে অক্টোবর—এ ছয় মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে থাকছে বাংলাদেশ। শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নয়; যদি কোনো কারণে এর মধ্যে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ না হয় তাহলে এ ছয় মাসে বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের দূরে থাকার কথা সব ধরনের ক্রিকেট থেকেই! আজকের দিনের ব্যস্ত ক্রিকেট সূচির মধ্যেও অস্বাভাবিক এ বিরতিটা কাজে লাগাতে এরই মধ্যে নানারকম কর্মসূচি নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এবার জাতীয় দলের কিছু খেলোয়াড়ের অন্তত মাঠে ফেরারও একটা সুযোগ তৈরি হচ্ছে। চলতি মাসের শেষের দিকেই বাংলাদেশ-এ দল যাবে এক মাসের ইংল্যান্ড সফরে। আর এ সফরের ‘এ’ দলটিকে কার্যত ‘প্রায় জাতীয় দল’ বানিয়ে ফেলারই চিন্তা-ভাবনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। শীর্ষ স্থানীয় কয়েক জন তারকা ছাড়া প্রায় সব খেলোয়াড়ই ‘এ’ দলের হয়ে লন্ডনগামী বিমানে চেপে পড়বেন বলেই বিসিবির একটি সূত্র জানাচ্ছে। জাতীয় দলের খেলা না থাকলেও আগামী মাসটা, মানে আগস্ট মাসটা বাংলাদেশের দুটি বয়সভিত্তিক দল ও ‘এ’ দলের জন্য খুব ব্যস্ত সময় কাটবে। আগস্টের ৫ তারিখ থেকে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের যুব দলের সঙ্গে একটি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে অংশ নেবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। আগস্টেরই ১৭ তারিখ থেকে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য আট দলীয় ‘এসিসি এমার্জিং টিমস কাপ’-এ বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল অংশ নেবে। আবার ওই মাসেরই ৬ তারিখ থেকে শুরু হবে ইংল্যান্ডে ‘এ’ দলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। এর মধ্যে ‘এ’ দলের সফরটাকেই সবচে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে বিসিবি। ইংল্যান্ড লায়ন্স বা যুবদলের সর্বশেষ বাংলাদেশ সফরে স্বাগতিকরাই জয় ছিনিয়ে রেখেছিল। এবার পাল্টা সফরে গিয়ে হেরে আসতে অন্তত চাচ্ছে না বাংলাদেশ। এ কারণে দলটাকে শক্তিশালী করে পাঠানোরই পরিকল্পনা চলছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘এ’ দলের কোচ হিসেবে জাতীয় দলের প্রধান কোচ শেন জার্গুনসেনকেও ইংল্যান্ডে পাঠাতেও চাইছে বোর্ড। শুধু কোচ জার্গুনসেন নন; এ সফরের ‘এ’ দলে বেশ কয়েক জন জাতীয় দল তারকার সঙ্গে মাশরাফি বিন মুর্তজাকেও দেখা যেতে পারে। যদিও তাকে এ সফরে পাঠানো বা না পাঠানোটা নির্ভর করছে তার ম্যাচ ফিটনেসের ওপর। তবে মাশরাফি ফিট থাকলে তাকে মাঠে নামার এ সুযোগটা বিসিবি করে দিতে চায়। মাশরাফিকে পাঠানো হবে কি না বা ‘এ’ দলে তারকা কারা থাকবেন; এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাচক আকরাম খান কিছুই বললেন না। তবে একটা কথা তিনি বললেন, ‘এ দল তো সবসময়ই জাতীয় দলের পরেরই সবচে গুরুত্বপূর্ণ দল। ফলে জাতীয় দলে যাদের জায়গা খুব নিশ্চিত না, যারা জাতীয় দলে আসার অপেক্ষায় আছে বা যাদের ম্যাচ প্র্যাকটিস দরকার; এ রকম কাউকে কাউকে তো বিবেচনা করা হবে। সেটাই সবসময় হয়ে এসেছে।’ এ তো গেল ‘এ’ দলের প্রশ্ন। এর বাইরে জাতীয় দলের কম বয়সী কয়েক জন খেলোয়াড়কে সিঙ্গাপুরেও দেখা যেতে পারে। সিঙ্গাপুরের এমার্জিং কাপে এশিয়ার চারটি টেস্ট খেলুড়ে দেশ; বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-২৩ দল খেলবে। সেই সাথে নেপাল, আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর ও আরব আমিরাতের মূল দল অংশ নেবে। সর্বশেষ এশিয়া কাপের ফাইনালিস্ট বাংলাদেশ এ টুর্নামেন্টটিতেও ভালো ফলাফল নিয়ে ফিরতে চায়। বিসিবির পরিকল্পনা তাই, জাতীয় দল ও তার আশপাশে থাকা কয়েক জন উঠতি তারকাকে এ অনূর্ধ্ব-২৩ দলে পাঠিয়ে দেয়া। তাতে দলটা শক্ত হওয়ার পাশাপাশি আরো কিছু খেলোয়াড় ম্যাচ অনুশীলনের সুযোগ পাবে। এ দুটি দলের সাথে জাতীয় দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় ভাগ হয়ে যাওয়ার পর দেশে জাতীয় দলের ‘স্কিল ডেভলপমেন্ট’ ক্যাম্পে যে খুব বেশি খেলোয়াড় অবশিষ্ট থাকবেন না; সেটা বলাই বাহুল্য।