অনুশীলন শেষে এনামুল হক বিজয় হাসতে হাসতে বললেন, ‘আমি কখনো টানা এমন কন্ডিশনিং ক্যাম্প করিনি। খুব টাফ ক্যাম্প শেষ হল।’ বছর দুই আগে এরকম একটা লম্বা বিরতিতে বেশ বড় কন্ডিশনিং ক্যাম্প বাংলাদেশ জাতীয় দল পেয়েছিল। তখনো এনামুল হক বিজয়রা জাতীয় দলে আসেননি। তাই তাদের জন্য অভিজ্ঞতাটা একেবারেই নতুন ছিল। কিন্তু দলে যারা পুরোনো, তারাও এমন ক্যাম্প ক্যারিয়ারে খুব একটা পাননি। পাবেন কী করে? আজকের দিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ঠাসা সূচির ফাঁকে তিন সপ্তাহ টানা সময় মিললে তো!
এই সময়টা মিলেছিল নানা ঘটনা মিলে যাওয়ায়। আর যেভাবেই হোক, প্রায় ছয় মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিরতি পেয়ে সময়টা কাজে লাগাতে প্রথমেই ফিটনেসের ওপর জোর দিয়েছিলেন কোচিং স্টাফরা। আর সেই জোরের অংশ হিসেবেই গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে শেষ হল তিন সপ্তাহের কন্ডিশনিং ক্যাম্প।
গতকাল এই কন্ডিশনিং ক্যাম্প শেষ হওয়ার পর আজ থেকে ক্রিকেটাররা ছয় দিনের ছুটি পাচ্ছেন। ছুটির উদ্দেশ্য, প্রথমত পবিত্র রজমান শুরু এবং সঙ্গে কন্ডিশনিং ক্যাম্পের ধকল কাটিয়ে ওঠা। এই ছয় দিন পর আগামী ১৪ তারিখ থেকে শুরু হবে মূলত স্কিল উন্নয়নের অনুশীলন।
শেষ হওয়া এই ক্যাম্পের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল খেলার বাইরে থেকে ফিটনেস হারিয়ে ফেলা খেলোয়াড়দের ফিটনেসটা ফিরিয়ে আনা। সেটা কতোটা ফিরে আসল তা মূল্যায়ন করার জন্য ছিলেন না কোচ শেন জার্গুনসেন বা অ্যাকাডেমির ফিটনেস ট্রেনার স্টুয়ার্ট কার্পিনেন। তবে কোচিং দলের হয়ে সহকারী কোচ কোরি রিচার্ডস বললেন, এই ক্যাম্পে খেলোয়াড়দের ফিরে পাওয়া ফিটনেস দেখে তিনি সন্তুষ্ট।
তবে রিচার্ডসের কাছে এই ক্যাম্পের আসল মাহাত্ম ইনজুরি ঝুঁকি কমানো ও ইনজুরিতে থাকা খেলোয়াড়দের ফিট করে তোলা। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ঘন ঘন ইনজুরিতে পড়ার বড় কারণ মনে করা হয় ফিটনেসের অভাবকে। রিচার্ডস বলছেন, এখন ফিটনেস লেভেলে যা উন্নতি হয়েছে তাতে ইনজুরি ঝুঁকি অনেক কমেছে। সেই সঙ্গে ইনজুরিতে থাকা খেলোয়াড়দের উন্নতিতে খুশি ফিল্ডিং ও ব্যাটিংয়ের দায়িত্বে থাকা এই কোচ। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের ফিটনেসে আমি সন্তুষ্ট। তিন সপ্তাহের এই ফিটনেস ক্যাম্পে অংশ নেয়া খেলোয়াড়রা ফিজিক্যালি অনেক উন্নতি করেছে। বিশেষ করে ইনজুরি আক্রান্ত ক্রিকেটারদের জন্য এটা দারুণ একটা সুযোগ ছিল। এই ক্যাম্প তাদের ইনজুরি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।’
এই সন্তুষ্টি আছে খেলোয়াড়দের মধ্যেও। খেলোয়াড়দের অনেকে আগেই এই ক্যাম্প তাদের কতোটা উপকৃত করছে সে ব্যাপারে কথা বলেছেন। গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এনামুল হক বিজয়ও বললেন এই উপকারের কথা। পরীক্ষার কারণে জিম্বাবুয়ে সিরিজে না খেলা বিজয় সতীর্থদের চেয়েও বেশি দিন ক্রিকেটের বাইরে আছেন। তাই বিজয় উপকারীতাটাও বেশি দেখছেন এবং বলেন, ‘আমাদের জন্য এই ক্যাম্পটা করা অনেক বেশি দরকার ছিল। ফিটনেসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আমার মনে হয় ফিটনেস ক্যাম্পটা হওয়ার কারণে ইনজুরি অনেকটাই কমে যাবে। তাছাড়া ইনজুরির কারণে ভালো ভালো যেসব খেলোয়াড়কে মিস করেছি তাদেরও আবার ফিরে পাব।’
