যে ‘ছাই’ আগুন ছড়ায়!

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৩, ২২:১৬
অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য অ্যাশেজ বরাবরই বিখ্যাত। আর তাত্পর্যের দিক থেকেও এবারের অ্যাশেজ অন্যরকম গুরুত্ব বহন করছে। কারণ ১৯৭৪-৭৫ সালের পর এবারই প্রথম ছয় মাসের ব্যবধানে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘ব্যাক টু ব্যাক অ্যাশেজ’। যার প্রথম ধাপ মাঠে গড়াচ্ছে আগামী বুধবার, টেন্টব্রিজে। আরেকটি অ্যাশেজ যখন দ্বারপ্রান্তে তখন জেনে নেয়া যাক এই সিরিজটির আদ্যোপান্ত। ১৮৭৭ সালের ১৫ মার্চ মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বর্তমানে ‘টেস্ট’ নামে পরিচিত এরকম একটি বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। যা ছিল ইতিহাসের প্রথম টেস্ট। ঐ সময় ধরাবাধা কোন নিয়ম না থাকায় ‘যতদিন’ খেলা যায় বা ‘যতক্ষণে’ ফল নির্ধারিত না হয় এমন চুক্তিতে টেস্টটি খেলতে নামে দু’দল। টেস্টটি শেষ হয় ১৯ মার্চ। টানা ক্রিকেট খেলার ধকলটা সইতে না পেরে মাঝে একদিন অর্থাত্ ১৮ মার্চ বিশ্রাম নেন তারা। নিজেদের সম্মতিতেই ‘বিশ্রাম’ দিবস পালন করে ইংলিশ ও অসি খেলোয়াড়রা। আর ইতিহাসের প্রথম টেস্টটি ৪৫ রানে জিতে বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে শুভ যাত্রা করে অস্ট্রেলিয়া। ঐ অনির্ধারিত সময়ের টেস্ট খেলার পর যেন আত্মবিশ্বাস আরো বেড়ে যায় দু’দলের খেলোয়াড়দের। ফলে পরবর্তীতে টেস্ট খেলার মজায় আরও বেশি মজে যায় তারা। সেই সুবাদে ১৮৮১ সালের মাঝামাঝি সময় চার ম্যাচের সিরিজ খেলার সিদ্ধান্ত নেয় দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড। আর তাতেই ব্যাপকভাবে প্রসার পেয়ে যায় টেস্ট ক্রিকেট। যাই হোক নিজেদের মাঠে চার ম্যাচের ঐ টেস্ট সিরিজটি ২-০ ব্যবধানে জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ১৮৮২ সালে টেস্ট নিয়ে নতুন নিয়ম চালু করে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। অনির্ধারিত সময়ের টেস্ট নীতি বাদ দিয়ে তিন দিনের ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এটি একরকম পরীক্ষামূলকই বলা যায়। কারণ টানা অনির্ধারিত সময়ের ম্যাচ খেলতে পারছে না খেলোয়াড়রা। ম্যাচটির সময় নির্ধারণ করে দিলে কি অবস্থা হয় তা জানাই ছিল দুই বোর্ডের প্রধান লক্ষ্য। সেই সুবাধে ওভালে ১৮৮২ সালের ২৮ আগস্ট তিন দিনের এক ম্যাচে খেলতে নামে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু অবাক করার মত বিষয় ঘটে ঐ ম্যাচে। দুই দিনে নিষ্পত্তি হয়ে যায় ম্যাচটি। তীব্র প্রতিন্দ্বন্দ্বিতামূলক টেস্টটি মাত্র ৭ রানে জিতে আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। পক্ষান্তরে আগুনে পুড়ে যাবার মত অবস্থা ঘটে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটামোদীদের। সে সময়কার সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকা দ্য স্পোর্টিং টাইমসে বেশ বড়সড়ভাবে একটি রিপোর্টে প্রকাশিত হয়, ‘ইংল্যান্ড ক্রিকেটের মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে গেল। এখন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটের অস্তিত্ব বলতে শুধু ‘ছাই’ (অ্যাশ) আছে। আর সেই ‘ছাই’ সঙ্গে নিয়ে আনন্দ করতে করতে দেশে ফিরে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।’ আর তখন থেকে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজের নামকরণ হয় ‘অ্যাশেজ’। যেই টেস্ট থেকে ইংল্যান্ড ক্রিকেটের ‘মৃত্যু’ নির্ধারণ এবং ‘অ্যাশেজ’ নামকরণ করা হয়েছিল, তার পরের সিরিজটি অনুষ্ঠিত হয় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। ততদিনে অ্যাশেজ শব্দটি জনপ্রিয়তা লাভ করায় তিন ম্যাচের ঐ সিরিজটি ‘অ্যাশেজ’ নামেই পরিচিত লাভ করে। আর ১৮৮২ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া টেস্টটি প্রথম অ্যাশেজ টেস্ট নামে পরিচিতি লাভ করে। আর ২-১ ব্যবধানে প্রথম অ্যাশেজ সিরিজ জিতে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয় ইংলিশরা। ক্রমেই এটি হয়ে ওঠে সবচেয়ে জনপ্রিয় টেস্ট সিরিজ। ২০১১ সাল পর্যন্ত মোট ৬৬টি ‘অ্যাশেজ’ সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। আর পরিসংখ্যানের হিসেবে তাতে দুদলের অবস্থানই প্রায় সমতলে। এখন পর্যন্ত ৬৬টি ‘অ্যাশেজ’ লড়াইয়ে ৩১টি সিরিজ অস্ট্রেলিয়া ও ৩০টি সিরিজ ইংল্যান্ড জিতেছে। আর ৫টি সিরিজে জয় বা হারের স্বাদ পায়নি কোন দলই। তাই আসন্ন ‘অ্যাশেজ’ সিরিজ জিতে সামনের দিকে আরও এগিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য থাকবে অসিদের। আর ইংল্যান্ডের লক্ষ্য থাকবে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি পরিসংখ্যানে সমতা আনা।