ক্রীড়ামন্ত্রী আহাদ আলী সরকার এমপি আশা করছেন অতি দ্রুত প্রিমিয়ার লিগের দলবদল নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সুরাহা হবে। এ নিয়ে তিনি ক্লাব ও ফেডারেশন কর্মকর্তাদের সাথে বসে একটা সমাধান সূত্র বের করার ব্যাপারে গতকাল রবিবার তার সাথে দেখা করতে আসা হকি খেলোয়াড়দের আশ্বস্ত করেছেন।
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ২-৪ জুলাই প্রিমিয়ার লিগের দলবদল সম্পন্নের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ফেডারেশনের নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় দলবদল আর শুরুই হয়নি। মূলত এ নির্বাচনের প্রেক্ষিতেই সৃষ্ট জটিলতার জেরে মোহামেডান ক্লাবের সাথে জোটবদ্ধ ক্লাবগুলো জানিয়েছে তারা দলবদলে নেবে না। অপরদিকে নির্বাচনে রহমতউল্লাহর প্যানেল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। কিন্তু আইনি জটিলতায় প্যানেলটিকে এখনো ঘোষণা করেনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ যার প্রধান আবার ক্রীড়ামন্ত্রী।
এরকম জটিল পরিস্থিতিতে হতাশ হকি খেলোয়াড়রা তাই গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনে ক্রীড়া মন্ত্রীর সঙ্গে দলবদল নিয়ে আলোচনায় বসেন। কবে নাগাদ এই সমস্যার সুরাহা হবে তা সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেননি ক্রীড়ামন্ত্রী আহাদ আলী সরকার। তিনি শুধু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হকির খেলোয়াড়রা দলবদল নিয়ে বেশ সমস্যায় আছে। আমি তাদের বক্তব্য শুনেছি। এটার হঠাত্ করে সমাধান দেওয়া যাবে না। আমি আশা করি অতি দ্রুত দলবদলের সমস্যার নিরসন ঘটাবো। যারা ক্লাব এবং ফেডারেশনের কর্তা রয়েছেন তাদের নিয়ে বসে আমি একটি চূড়ান্ত ফয়সালা করবো।’
হকি খেলোয়াড়রাও মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর আশার কথা শোনান। জাতীয় হকি দলের অধিনায়ক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি-দাওয়াগুলো উপস্থাপন করেছি। তিনি সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবেন এবং অতি দ্রুত সমস্যা সমাধানের একটি সুরাহা বের করে দিবেন। ফেডারেশনের চেয়ার নিয়ে আমাদের কোন মাথা ব্যথা নেই। আমাদের মূল বক্তব্য হলো যে ছয়টি ক্লাব দূরে সরে গেছে তারা যেন দলবদল করার জন্যে ফিরে আসে এটাই আমাদের চাওয়া।’
উল্লেখ্য, গত দু’বছরে হকি যখন আবার আন্তর্জাতিকভাবে ভাল একটা অবস্থানে ফিরতে শুরু করেছিল ঠিক সেই সময়ে ফেডারেশনের নির্বাচনকে ঘিরে ক্লাবগুলো ও কর্মকর্তাদের মধ্যকার দলাদলি তীব্র হয়ে ওঠে। ফলে হকির দলবদল থেকে শুরু করে জাতীয় দলের প্রস্তুতিও বিঘ্নিত হচ্ছে। কেননা খেলোয়াড়দের রুটি-রুজির প্রধান জায়গাটাও এই প্রিমিয়ার লিগকে ঘিরে।
