ডেডলাইন ৭ আগস্ট

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৩, ২১:৪০
সিলেট বিভাগী স্টেডিয়াম শেষ পর্যন্ত আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারবে কি না, সে নিশ্চয়তা এখন কারোরই দেয়ার উপায় নেই। আগামী ৭ আগস্ট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাউন্সিলের (আইসিসি) পরিদর্শক দল এসে কাজের গতি দেখে সন্তুষ্ট হলে তবেই মিলতে পারে সবুজ সংকেত। আইসিসির সেই দলকে সন্তুষ্ট করার মতো গতিতে এই সময়ে কাজ চলছে এবং আরও গতি বাড়ানোর ব্যাপারে কাল প্রতিশ্রুতি মিললো বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকারের কাছ থেকে। তবে সিলেটে বসেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি সবাইকে সতর্ক করে দিলেন, এই সময়ের মধ্যে কাজ একটা পর্যায়ে পৌঁছানোর কোনো বিকল্প নেই। আইসিসির প্রতিনিধিদল সন্তুষ্ট না হলে সিলেট স্টেডিয়াম নিয়ে এই সব পরিশ্রমই শেষ পর্যন্ত অর্থহীন হয়ে যাবে। আর এসব আলোচনা হল বর্তমান সময়ে ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত সেই সিলেট স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে। স্টেডিয়ামের বিপুল সংস্কার কাজ আগেই শুরু হয়ে গেছে। তবে গতকাল সোমবার বিকালে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হল। এই অনুষ্ঠান শেষে আলোচনায় অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার ও ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এবং ক্রিকেট বোর্ডের আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা। বিসিবি সভাপতি আইসিসির সবুজ সংকেত পাওয়া নিয়ে সংশয়ে থাকলেও আশার কথা শোনালেন সিলেটের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও অর্থমন্ত্রী আব্দুল মুহিত। তিনি বললেন, ‘আমি খুবই আশাবাদী যে আইসিসির বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে।’ আর সেই আশাবাদকে সফল করতে আইসিসির প্রতিনিধি দল পরিদর্শনে আসার আগেই নির্মাণ কাজ শেষ করারও তাগিদ দেন তিনি। অর্থমন্ত্রী একই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, স্টেডিয়ামের রাস্তার জন্য ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত যে জটিলতা ছিল তা আজ-কালের মধ্যেই দূর হয়ে যাবে। অর্থমন্ত্রীর মতোই আশাবাদী ছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার। তিনিও বলছেন, এখানে সরকার যে চেষ্টা করছে, তাতে আইসিসির আগামী পরিদর্শনে এসে সন্তুষ্ট হওয়ারই কথা, ‘সিলেট স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক ভেন্যুর মর্যাদা পাইয়ে দিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এখন প্রয়োজন সময়মতো কাজ শেষ করা। সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামের কাজ যে ঠিকাদাররা পেয়েছেন তারা খুব অভিজ্ঞ। ফলে আমি মনে করি, অবশ্যই সময়মতো কাজ শেষ করা সম্ভব।’ সিলেটে কাজের গতি দেখে সন্তুষ্ট বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও। তবে তিনি নিশ্চিত নন, আইসিসি প্রতিনিধি দলও এরকম সন্তুষ্ট হবে কি না। লন্ডনের আইসিসি সভার আলোচনা উল্লেখ করে পাপন সবাইকে আরও দ্রুততার সঙ্গে, আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ চালানোর অনুরোধ করেন, ‘সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম অবশ্যই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হবে। এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে আসন্ন বিশ্বকাপের খেলা নিশ্চিত করার জন্য স্টেডিয়ামের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কাজ আরো অন্তত চার মাস আগে শুরু করা উচিত ছিল। আমরা বেশ দেরি করে ফেলেছি। এরপরও শেষ চেষ্টা করে দেখতে হবে। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য নির্মাণ কাজের লোকবল বাড়াতে হবে। ফ্লাড লাইটসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রয়োজনে অন্য জায়গা থেকে খুলে এনে এখানে লাগাতে হবে। গত সপ্তাহে লন্ডনে আইসিসির বোর্ড মিটিংয়ে সিলেট ভেন্যুর বিকল্প ভেন্যুর কথা উঠলে আমি তাদেরকে আশ্বস্ত করেছি যে, সিলেট স্টেডিয়ামের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে। এক্ষেত্রে বিকল্প ভেন্যু নির্বাচনের আগে সিলেট ভেন্যু আবার পরিদর্শনের জন্য আমি তাদের অনুরোধ জানিয়েছি। এর প্রেক্ষিতে আগামী ৭ আগস্ট আইসিসির প্রতিনিধি দল সিলেট স্টেডিয়াম পরিদর্শনে আসবে। তাই বাড়তি সতর্কতা ও মনযোগ দিয়ে কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। এই প্রতিনিধি দল একবার কোনোভাবে সন্তুষ্ট না হলে আমাদের অন্য ভেন্যুতে চলে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।’ সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার এন এম জিয়াউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ক্রীড়া সচিব নুর মোহাম্মদ, যুগ্ম সচিব আব্দুর রহমান, সিলেটের জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান, সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল প্রমুখ।